Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় বধূ নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে (Gaighata)। গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা বনগাঁ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সভানেত্রী ইলা বাগচীকে গ্রেফতার করেছে গাইঘাটা থানার পুলিশ। রবিবার এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার পারদ চড়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি বধূ নির্যাতন সংক্রান্ত মামলায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে রবিবার ইলা বাগচীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় গাইঘাটা থানার বাইরে জমায়েত হওয়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশ্যে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই থানা চত্বরের বাইরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
থানার সামনে ডিম হাতে অপেক্ষা (Gaighata)
গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই গাইঘাটা থানার সামনে জড়ো হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, তাঁরা ডিম হাতে নিয়ে অবস্থান করছিলেন এবং ইলা বাগচীকে লক্ষ্য করে প্রতিবাদ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া নজরদারি চালানো হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

কী অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা? (Gaighata)
অভিযোগকারিণীর দাবি, ২০২২ সালে বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী এবং শাশুড়ি বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। তাঁকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকি বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি নির্যাতিতার। অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৮ তারিখেও তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। এরপর আর চুপ না থেকে তিনি গাইঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে স্বামী, শাশুড়ি এবং শ্বশুরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পরবর্তীতে গ্রেফতারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
তদন্তে পুলিশ, নজরে রাজনৈতিক মহল (Gaighata)
ঘটনার পর থেকেই গোটা বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে একজন গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারি সব মিলিয়ে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতার বয়ান, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে আদালতে এই মামলার শুনানির দিকেও নজর থাকবে সকলের।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/06/05/broken-egg-2026-06-05-15-05-03.jpg)
আইন আইনের পথেই চলবে
বধূ নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল অভিযোগে গ্রেফতারির ঘটনায় গাইঘাটা জুড়ে চাঞ্চল্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হবে কি না, তা নির্ধারণ করবে আদালত। তবে এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের গুরুত্ব। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।



