Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’, কামব্যাক ম্যাচে স্প্যানিশ ঝড়ের সামনে ধ্বংস সৌদি।
বিশ্বকাপে স্প্যানিশ ঝড়
২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচে স্পেনকে আটকে দিয়ে চমক দিয়েছিল কেপ ভার্দে। তবে কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে কাতার বিশ্বকাপের মঞ্চের স্মৃতিচারণ করলে দেখা যাবে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন ফেলেছিল সৌদি আরব। প্রথম ম্যাচ ড্র করে সেই সৌদির বিরুদ্ধে আজ খেলতে নেমেছিল এই বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার দল স্পেন। এই ম্যাচের আগেই উত্তেজনা ছিল আকাশ ছোঁয়া। আর সেই ম্যাচেই রাজার মত প্রত্যাবর্তন করল স্পেন। বুঝিয়ে দিল ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়।’
প্রথম ম্যাচে ড্র করার পর আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল স্পেন আর দলের কোচ ডে লা ফন্তে। সেখানে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই ম্যাচে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিল স্পেন। স্প্যানিশ আর্মাডার সামনে রীতিমত ছারখার হয়ে গেল সৌদি আরব। তরুণ ব্রিগেড এই দিন সৌদির রক্ষণ ভাঙলেন এবং ৪-০ গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এল।
আরও পড়ুন: Algeria: মেসির নামে ফিফার কাছে নালিশ আলজেরিয়ার
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন আক্রমণকে সঙ্গী করে সৌদির দুর্গ হামলা করে। প্রথম থেকেই গোল করার লক্ষ্যে নেমেছিলেন ইয়ামালরা। আগের ম্যাচে গোল না এলেও আজ প্রথম ১০ মিনিটের সেই খরা কাটিয়ে গোল করলেন ইয়ামাল। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই রেকর্ড বুকে নাম তুলে ফেললেন এই তরুণ তারকা। চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম চর্চিত তারকা। পেলের সঙ্গে একই খাতায় নাম তুললেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেলের পর অর্থাৎ দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে গোল করলেন তিনি।
ইয়ামালের বয়স ১৮ বছর ৩৪৩ দিন আর এই দিয়েই গড়লেন রেকর্ড। বিশ্বকাপ শুরুর আগের থেকেই অনেকেই বাজি ধরেছিলেন তাঁর উপর। এই ম্যাচে তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে এখনই কেন সেরাদের তালিকায় বসানো হচ্ছে। তারপরেই তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি। মেসি নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেছিলেন ১৪ বছর ৩৫৭ দিনে।
বিশ্বকাপে ২৯৪ মিনিট পর গোলের খরা কাটাল স্পেন। দ্বিতীয় গোল পেতেও বেশি সময় নেয়নি স্পেন। কর্নার থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে ড্যানি অলমোর শট প্রথমে আটকায় সৌদি রক্ষণ। প্রথম থেকেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রেখেছিল স্পেন। বারবার আক্রমণ শানিয়ে সৌদিকে বিপদে ফেলে দিচ্ছিলেন স্পেনের তারকারা। এর পরেই বল ফের ভেসে এলে অ্যামেরিক লাপোর্তে হেড করে নামিয়ে দেন, আর সেই বল থেকে মিকেল ওয়াখাবাল সুযোগ হাতছাড়া করেননি। গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন তিনি।
এরপর মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই আবার আসে তৃতীয় গোল। ঠিক যেন পিকাসো ক্যানভাস জুড়ে ছবি আঁকছেন। ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরোর ক্রস, বক্সে উঠে আসা মার্ক কুকুরেলার হেড, ভাসানো বলে ফের ড্যানি অলমোর হেড থেকে ফার পোস্টে দাঁড়ানো ওয়াখাবাল ট্যাপ ইন করে ৩-০ করেন।
প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ এসেছিল ওইয়ারসাবালের সামনে। সৌদি কিপারের ভুলে বল সোজা গিয়ে পড়ে ওয়াখাবালের পায়ে। সেখান থেকে বাঁ পায়ের ট্রিভেলা শট নিলেও বল ক্রসবারে লেগে বেরিয়া যায়, ভাগ্যের সঙ্গ পেলেন না বলাই যায়। এরপরেই নামেন তোরেস।
দ্বিতীয়ার্ধেও কিছুই বদলায়নি। এখানেও ম্যাচ ছিল একতরফা। ৪৯ মিনিটে সৌদির আত্মঘাতী গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। বাঁদিক থেকে অ্যালেক্স বায়েনার কর্নার ফ্লিক করেন ফেরান তোরেস। মার্ক কুকুরেলার শট সৌদি কিপার সেভ দিলেও হাসান আলতামবক্তির পায়ে লেগে বল গোলে ঢুকে যায়। অতিরিক্ত সময়ে ৫-০ করে দিয়েছিলেন পরিবর্ত হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। কিন্তু পরে ভার চেকে দেখা যায় তোরেস অফসাইডে ছিলেন।


