Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গ্রুপ টপার হয়ে নকআউটে গিয়েছে ব্রাজিল। এ বার গ্রুপ ‘এফ’ থেকে নকআউটে গিয়ে ভিনি-নেইমারদের সামনে জাপান।
জাপানের বিরুদ্ধে নামবে ব্রাজিল
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপ মহারণে সবথেকে বেশি চর্চায় ছিল ‘এফ’ গ্রুপ। বাকিদের থেকে অনেকবেশি চর্চায় এই গ্রুপের থাকার কারণ সাম্বা ব্রিগেড। তবে এই গ্রুপের দলগুলি নিয়েও ছিল উত্তেজনা আর তেমনই হল এই গ্রুপের শেষ লগ্নের ম্যাচ।
‘এফ’ গ্রূপের টেবিল শীর্ষে থেকে শেষ করল নেদারল্যান্ডস। ম্যাচ জিতে টেবিল টপার হয়ে পরের পর্বে চলে গেল নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে শেষ ৩২-এ ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ জাপান।
এই ম্যাচে নামার আগে হিসেবটা ছিল ড্র করলেই পরের রাউন্ডের জন্য উত্তীর্ণ হবে জাপান। অন্যদিকে সুইডেন জিতলে তারা চলে যেত পরের রাউন্ডে। পাশাপাশি গ্রুপে অন্য ম্যাচে তিউনিশিয়া যদি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে জয় বা ড্র পেত তা হলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারত সুইডেন। তবে সেটা হয়নি। বদলে জাপান ও সুইডেন ম্যাচ শেষ হয়েছে ১-১ গোলে।
আমেরিকার ডালাস স্টেডিয়ামে ছিল গ্রুপ এফ-এ সুইডেন ও জাপানের ম্যাচ আর এই ম্যাচের দিকে দুই দলের সমর্থক ছাড়াও তাকিয়ে ছিলেন ব্রাজিলের সমর্থকরা। বিশ্ব ফুটবলের নজর ছিল এই ম্যাচের দিকে কারণ আগের থেকে আশা করা হচ্ছিল এই ম্যাচ হতে চলেছে হাড্ডাহাড্ডি। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে সেই চেনা ছন্দ দেখা যায়নি কোনও দলের খেলাতেই, সেই সময় মনে হতে থাকে সমর্থকদের ভাল খেলা দেখার প্রত্যাশা হয়ত মিটবে না এই ম্যাচে।
আরও পড়ুন: Neymar: প্রত্যাবর্তন মঞ্চে আবেগে ভাসলেন নেইমার
ম্যাচের ৩০ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় সুইডেন। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সেন্টার-ব্যাক ইসাক হিয়েন। একদিকে যখন চোটের ধাক্কা সুইডেন শিবিরে তার কিছুক্ষণ পর জাপানও বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথমার্ধেই তাদের অধিনায়ককে তুলে নেয়। এরপর বারবার ফাউল, বিরতি এবং সতর্ক ফুটবল, কোথাও গিয়ে যেন বারবার ছন্দপতন ঘটছিল ম্যাচের। প্রথম অর্ধে জাপানের একবার আক্রমণ। ডি বক্সের বাইরে থেকে নাকামুরার একটা শট একটুর জন্য পোস্টের নিচে ডান কোণ ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
কিন্তু এটা বিশ্বকাপ, খেলার মোড় ঘুরতে সময় লাগে। বিরতির পরেই খেলার গতি বাড়তে থাকেন দুই দলই ট্র্যাকে ফিরতে থাকে ঘন ঘন আক্রমণে। ৫৬ মিনিটে আসে জাপানের কাঙ্খিত গোল। রিতসু দোয়ানের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে সুইডিশ ডিফেন্স ভেদ করে এগিয়ে যান দাইজেন মায়েদা। ঠান্ডা মাথায় গোলকিপারকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। সেই সময় গ্যালারি জুড়ে সামুরাই ঝড়। উল্লাস সমর্থকদের মধ্যে।
কিন্তু নিমেষে সেই সামুরাই ঝড় থেমে যায়, উল্লাস স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। আনন্দের সময় ছয় মিনিট। কারণ সেই ছয় মিনিটের মধ্যেই গোল শোধ করে সমতা ফিরিয়ে আনে সুইডেন। অ্যান্থনি এলাঙ্গার ডি বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ে শক্তিশালী একটি ক্রস শট নেন। যেটা জাপানের গোলপোস্টের কোণা দিয়ে ঢুকে যায়। জাপানের গোলকিপার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। বল জালে জড়িয়ে যায় ততক্ষণে।
গোল হজমের পর আবার নড়েচড়ে ওঠে জাপান। সেই তাগিদ দেখা যায় সুজুকির মধ্যে। প্রথমে আলেকজান্ডার ইসাকের দূরপাল্লার শট দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন। এরপর ম্যাচের শেষদিকে ইসাকের শক্তিশালী হেডও অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করে জাপানকে দুর্গ সুরক্ষিত রাখেন। শেষ দিকে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, একাধিক আক্রমণের ফসল তুলতে চেষ্টা করে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
অন্যদিকে একই সময়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নেদারল্যান্ডস প্রত্যাশামতো তিউনিসিয়াকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে। ফলে গ্রুপ ‘এফ’ থেকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে উঠল ডাচরা, দ্বিতীয় স্থানে জাপান এবং সেরা তৃতীয় দল হিসেবে সুইডেনও জায়গা করে নিল শেষ ৩২-এ। ব্রাজিলের সামনে বিশেষ করে ভিনি-নেইমারদের সামনে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে প্রস্তুত সুজুকি এবং তাঁর সামুরাই ব্রিগেড।


