Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল অন্যতম আয়োজক দেশ আমেরিকাও (USA)। ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরেও তাদের হারাতে পারল না বসনিয়া ও হারজেগোভিনা।
বিশ্বকাপে দাপটের নাম আমেরিকা (USA)
লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে দাপট দেখাল মার্কিন বিহিনী। গোটা ম্যাচ জুড়ে শুধু মার্কিন বাহিনীকে তাড়া করে গেল বসনিয়া ও হারজেগোভিনা। শুধু তাই নয় ১০ জন হয়ে গিয়েও দাপট এক চুলও কমেনি আমেরিকার। বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ১৬-য় জায়গা করে নিল আমেরিকা। মেক্সিকো এবং কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশও উঠল প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে (USA)।
আমেরিকার কোচ প্রথম থেকেই ভাল করে জানতেন যে প্রথম বার বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা বসনিয়া যে রক্ষণ সামলে আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা করবে। সেটা মাথায় রেখেই দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞ কোচ পোচেত্তিনো শুরু থেকেই আক্রমণের পথে গেলেন। আমেরিকার খেলা এবং শরীরী ভাষায় স্পষ্ট ছিল যে তাঁরা শুরু থেকেই বিপক্ষকে চাপে রাখতে চাইছে।

আরও পড়ুন: Kolaghat Chit Fund Scam: কোলাঘাটে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ, সভাপতির খোঁজে পুলিশ
খেলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় গোল হয়ে যায় আমেরিকার কিন্তু অফসাইদের কারণে সেটা বাতিল করা হয়। তবে গোল বাতিল হলেও আমেরিকার খেলা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল এই গোল বাতিলে তাঁরা একদমই দমে যাননি। অন্যদিকে বসনিয়ার তখন একটাই লক্ষ্য নিজেদের রক্ষণ বাঁচিয়ে রাখা। কিন্তু আমেরিকার ক্রমাগত আক্রমণের সামনে সেটা বেশিক্ষণ সম্ভব ছিল না (USA)।
প্রথমার্ধের একেবারে শেষে বসনিয়ার রক্ষণের ভুলে বল পেলেন বালোগুন। ঘাড়ের কাছে ডিফেন্ডারকে নিয়ে গোল করলেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর তৃতীয় গোল। লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামের ৬৬ হাজার দর্শকেরা মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ সমর্থকই গলা ফাটাচ্ছিলেন আমেরিকার হয়ে। সেই চিৎকার আরও দ্বিগুণ হয়ে যায় প্রথম গোল আসতেই।
তবে প্রথম অর্ধে যে বালোগুন হিরো তিনিই দ্বিতীয় অর্ধে দলকে ডুবিয়ে ভিলেন হতে বসেছিলেন। ৬৪ মিনিটের মাথায় বিপক্ষ ফুটবলারকে কড়া ট্যাকেল করে বসেন তিনি। ভার দেখে রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্বকাপের নকআউটে গোল ও লাল কার্ড, এই কীর্তি এর আগে রয়েছে শুধু এক কিংবদন্তির, নাম জিনেদিন জিদান। সেই ম্যাচে ফ্রান্স হারলেও এই ম্যাচে আমেরিকা জিতল।
১০ জনের আমেরিকাকে কিছু ক্ষণ চেপে ধরেছিল বসনিয়া। একের পর এক আক্রমণ তুলে আনে মার্কিন প্লেয়াররা। কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারেনি। সেই সময় মাঝমাঠে লোক বাড়ান পোচেত্তিনো। তিনি জানতেন, বেশি ক্ষণ এই চাপ সামলানো যাবে না। পাল্টা আক্রমণ করতে হবে। তার জন্য মাঝমাঠে লোক দরকার। কোচের এই পরিকল্পনা কাজে লাগে। আমেরিকার আরও একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। কিন্তু ৮২ মিনিটের মাথায় ফ্রি কিক থেকে গোল করেন টিলমান। ০-২ গোলে পিছিয়ে পরে বসনিয়ার শরীরী ভাষা দেখে স্পষ্ট ছিল যে তাঁরা হার মেনে নিয়েছেন। আর সহজেই ম্যাচ জিতে নিল আমেরিকা। ২০০২ সালের পর আবার বিশ্বকাপের নকআউটে এগোল আমেরিকা। শেষ ১৬-য় তাঁদের সামনে রয়েছে বেলজিয়াম (USA)।


