Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের পর এবার বাংলাদেশ ও মায়ানমার হয়ে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে চিন(New Economic Corridor)। নতুন এই রুটের নাম চিন-মায়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডর বা সিএমবিসি। ভারতের জন্য এই প্রকল্প বড় চিন্তার কারণ হতে পারে।
কী এই সিএমবিসি? (New Economic Corridor)
চিনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে এই করিডর শুরু হবে। মায়ানমারের মান্দালয় হয়ে রাস্তা দুদিকে ভাগ হবে। একটা যাবে ইয়াঙ্গন, আরেকটা যাবে রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্র বন্দরে। চিন চাইছে রাখাইন হয়ে এই রাস্তা বাংলাদেশ পর্যন্ত টানতে। তারপর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার হয়ে বঙ্গোপসাগরের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে সরাসরি পৌঁছে যাবে বেজিং।
কখন সামনে এল
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের চার দিনের চিন সফরে এই করিডরের কথা ওঠে। ২২ জুন থেকে শুরু হওয়া সফরে বেজিংয়ের গ্রেট হলে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশ আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে এই করিডর নিয়ে আলোচনা করে।
চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বৃহস্পতিবার বলেন, ১৫ বছর আগে আমরা বাংলাদেশ-চিন-ভারত-মায়ানমার ইকোনমিক করিডরের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিছু অগ্রগতি হলেও নানা কারণে চিন যে ফল আশা করেছিল তা হয়নি। তিনি আরও বলেন, অন্য দেশ চাইলে এই করিডরে যোগ দিতে পারে। ভারত যোগ দেবে কি না, প্রশ্নে তিনি বলেন করিডরের উদ্দেশ্য শুধু যোগাযোগ আর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা।
পুরোনো বিসিআইএম পরিকল্পনা (New Economic Corridor)
সিএমবিসি আসলে পুরোনো বিসিআইএম করিডরের নতুন নাম। ১৯৯০-এর দশকে কুনমিং থেকে মান্দালয় ও ঢাকা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত রাস্তার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নিয়ে ভারতের আপত্তি এবং চিন-ভারত সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় ২০১৯ সালে বিসিআইএম প্রকল্প বাতিল হয়ে যায়।
সমস্যা কোথায়
কুনমিং থেকে মায়ানমারের উপকূল পর্যন্ত ১৭০০ কিলোমিটার রাস্তা রাখাইন রাজ্যের মধ্যে দিয়ে যাবে। এই এলাকা এখন মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের সবচেয়ে অশান্ত জায়গা। ২০২৬ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ব্রিফিং অনুযায়ী, মায়ানমারের জুন্টা সরকার দেশের মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হাতে আছে ৪২ শতাংশ এলাকা। বাকি জায়গায় লড়াই চলছে। ২০২১ সালে মান্দালয়-কিয়াউকপিউ রেললাইন নিয়ে চুক্তি হলেও কাজ শুরু হয়নি।
বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান ২৭ জুন বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছে। কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। রাখাইন রাজ্যে শান্তি ফিরলে তবেই স্থলপথে যোগাযোগের কথা ভাবা হবে।
ভারতের উপর প্রভাব(New Economic Corridor)
পশ্চিমে চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের মাধ্যমে আরব সাগরে পৌঁছে গেছে চিন। সিপিইসি গিলগিট-বালতিস্তানের উপর দিয়ে গেছে, যা পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের অংশ। তাই ভারত এর তীব্র বিরোধিতা করে। এবার পূর্ব দিকে সিএমবিসি দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে চাইছে বেজিং। কয়েক সপ্তাহ আগেই শি জিনপিং ও পাকিস্তানের শেহবাজ শরিফ সিপিইসি বাড়ানো ও গোয়াদরকে আঞ্চলিক কেন্দ্র বানাতে নতুন চুক্তি করেছেন। দুই দিকে ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর এই চেষ্টা নয়াদিল্লির প্রভাব কমাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Gauhati High Court: ১৬ নথিতেও নাগরিকত্ব প্রমাণ হল না, অসমের বাসিন্দাকে ‘বিদেশি’ বলল হাইকোর্ট
রহমান-শি বৈঠকে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ, সবুজ অর্থনীতি ও ডিজিটাল ক্ষেত্রে সহযোগিতার চুক্তিও হয়েছে(New Economic Corridor)। বাংলাদেশ এক-চিন নীতিতেও সমর্থন জানিয়েছে।



