Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গুয়াহাটি হাইকোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানাল, ১৬টি নথি দেখিয়েও এক ব্যক্তি প্রমাণ করতে পারেননি যে তিনি ভারতীয় নাগরিক। আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে তাকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করেছে(Gauhati High Court)।
১৬টি নথিতেও মিলল না প্রমাণ (Gauhati High Court)
অসমের বাসিন্দা আমিনুল হক ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান। ট্রাইব্যুনাল তাকে বিদেশি ঘোষণা করেছিল। হক দাবি করেন, তার পরিবার বংশ পরম্পরায় আসামে থাকে।
কী কী নথি দিয়েছিলেন
১. ১৯৫১ সালের NRC-তে দাদু, ঠাকুমা ও বাবার নাম
২. ১৯৬৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় বাবা-মা ও নিজের নাম
৩. ১৯৭৩ সালের জমি কেনার দলিল
৪. প্যান কার্ড, ভোটার আইডি, স্কুল সার্টিফিকেট-সহ মোট ১৬টি নথি
৩০ জুন বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও শামীমা জাহানের বেঞ্চ জানায়, ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৬৪-এর ৯ ধারা অনুযায়ী নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় ব্যক্তির নিজের। শুধু মুখের কথায় বা নামের মিলে হবে না। দরকার গ্রহণযোগ্য কাগজপত্র।
আদালত বলে, হকের বাবার নাম বিভিন্ন কাগজে চার রকম – মহিরুদ্দিন শেখ, মাহরুদ্দিন শেখ, মহিরুদ্দিন, মহির উদ্দিন। দাদুর নাম পাসান আলি। কিন্তু ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, পাসান আলি, মহিরুদ্দিন ও আমিনুল হক – এই তিনজন ডোবাকুরা, ঘুগুডোবা ও হাসডোবা গ্রামের তালিকায় একসঙ্গে কখনোই নেই।
হক দাবি করেন, তার পরিবার ডোবাকুরা থেকে ঘুগুডোবা, তারপর হাসডোবায় গেছে। তাই নামের গরমিল। কিন্তু এর পক্ষে কোনো কাগজ নেই।
স্কুল সার্টিফিকেট নিয়েও আপত্তি তোলে আদালত। ২০১৭ সালে ইস্যু করা সার্টিফিকেটে লেখা তিনি ১৯৯৯ সালে স্কুল ছাড়েন। কিন্তু যে হেডমাস্টার সই করেছেন, তিনি আদালতে এসে সাক্ষ্য দেননি।
উকিল বলেন, হক পরিযায়ী শ্রমিক। বাবা ও দাদুর নামের বানান ভুলের জন্য তাকে বিদেশি বলা হয়েছে। আদালত নামের বানান ভুলকে বড় করে না দেখলেও বলে, শুধু ভোটার তালিকা দিয়ে ফাঁক ভরাট করা যাবে না। পরিবার যে একসঙ্গে ছিল তার প্রমাণ নেই(Gauhati High Court)।
আরও পড়ুন: Sonam Bail: সোনম রঘুবংশীর জামিন বহাল, সুপ্রিম কোর্টে বিভ্রান্তির পর স্বস্তি
২০১৯ সালে আসামের NRC শেষ হলেও এখনও তা সরকারিভাবে চালু হয়নি(Gauhati High Court)। এই তালিকাই ঠিক করার কথা কে আসল ভারতীয় নাগরিক আর কে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।



