Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ভাষায় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ‘বেইমান’ ও ‘গদ্দার’ তকমার জবাব দিয়েছেন (Ritabrata Banerjee)। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে প্রতিনিয়ত ‘বেইমান’ বলা হচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে আরও অনেককে একই অভিধায় চিহ্নিত করা হবে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি এক প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এবং একটি ৯১ পাতার চিঠির উল্লেখ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে উন্নীত হওয়া ব্যক্তিকে নিশানা
ঋতব্রত তাঁর পোস্টে সরাসরি নাম না করলেও সম্প্রতি একটি সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে উন্নীত হওয়া এক ব্যক্তিকে নিশানা করেন। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি একসময় সাংসদ ছিলেন এবং সাংসদ থাকাকালীন জেলেও গিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই ব্যক্তিই তাঁকে ‘বেইমান’ বলে আক্রমণ করছেন বলে অভিযোগ করেন ঋতব্রত। তাঁর কথায়, যিনি আজ অন্যকে বিশ্বাসঘাতক বলছেন, তাঁর নিজের অতীতই নাকি ভিন্ন গল্প বলে।
৯১ পাতার চিঠি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি (Ritabrata Banerjee)
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি ওই ব্যক্তির লেখা একটি ৯১ পাতার চিঠি পড়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চিঠিটি দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয়েছিল। এমনকি চিঠিটিকে যেন তাঁর ‘শেষ বয়ান’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এমন অনুরোধও নাকি সেখানে করা হয়েছিল। ঋতব্রতের অভিযোগ, সেই চিঠির বিষয়বস্তু অত্যন্ত বিস্ফোরক এবং রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

দলকে চাঁদা, আবার সিবিআইকে অভিযোগ (Ritabrata Banerjee)
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হিসেবে ঋতব্রত বলেন, ওই ব্যক্তি একদিকে দলকে নিয়মিত চাঁদা দিতেন, অন্যদিকে আবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর ডিরেক্টরের কাছে দলের দুর্নীতি নিয়ে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি কোনও সাংসদ নিজের দলের বিরুদ্ধেই তদন্তের আবেদন করেন, তাহলে প্রকৃত অর্থে ‘বেইমানি’ বা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ কে করেছিলেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে বার্তা
ঋতব্রত তাঁর পোস্টে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেও সরাসরি বার্তা দেন। তিনি দাবি করেন, ওই ৯১ পাতার চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সবচেয়ে বেশি লেখা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যদি সেই চিঠি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে না পৌঁছে থাকে, তাহলে বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কাছ থেকে সেটি সংগ্রহ করা উচিত। অন্যথায়, তিনি নিজেই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কুরিয়ারের মাধ্যমে চিঠির কপি পাঠিয়ে দেবেন বলেও জানান।
চিটফান্ডের অর্থ নিয়ে গুরুতর অভিযোগের উল্লেখ
ঋতব্রতের দাবি অনুযায়ী, ওই চিঠিতে এমনও লেখা রয়েছে যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নাকি চিটফান্ডের টাকায় চলেন। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেননি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাঁর আরও দাবি, ওই চিঠির কপি একজন ‘প্রাণসখা’ এবং আরও দুই-একজনের কাছেও রয়েছে।
‘৩০ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত’ প্রসঙ্গেও দাবি (Ritabrata Banerjee)
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, ওই ৯১ পাতার চিঠিতে ৩০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত অর্থ কোথায় যাবে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। তাঁর দাবি, এই তথ্যগুলিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তদন্তকারী সংস্থার হস্তক্ষেপের দাবি (Ritabrata Banerjee)
পোস্টের শেষ অংশে ঋতব্রত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ৯১ পাতার চিঠিটি তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হোক এবং সেখানে উল্লিখিত প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তাঁর কথায়, ওই চিঠি থেকেই স্পষ্ট হবে কে প্রকৃত অর্থে দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন এবং কীভাবে ‘বেইমানির সলতে পাকানো’ হয়েছিল।
আরও পড়ুন: Bipadtarini Puja 2026: সংসারের মঙ্গল ও বিপদমুক্তির প্রার্থনায় কবে পালন করবেন বিপদতারিণী ব্রত?
রাজনৈতিক তাৎপর্য
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক পোস্ট রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে একটি কথিত ৯১ পাতার চিঠিকে কেন্দ্র করে তাঁর একের পর এক অভিযোগ আগামী দিনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
বেইমান গদ্দার রোজ আমাদের বলা হচ্ছে। তবে যত দিন যাবে বেইমান, গদ্দার আরও বলা বাড়বে। আরও অনেককে বলা হবে।
সম্প্রতি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে উন্নীত হওয়া এক ব্যক্তি যিনি আমাকে বেইমান বলছেন। তিনি সাংসদ হয়েছিলেন। যিনি সেই অবস্থায় জেলে যান। তার ৯১ পাতার একটা চিঠি পড়েছি। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ প্রাণসখাকে পাঠানো হয়। এটাকেই যেন শেষ বয়ান হিসাবে ধরা হয় সেটাই বলেছিলেন। তিনি দলকে চাঁদা দেন, কিন্তু আবার দুর্নীতি নিয়ে চিঠি দেন সিবিআইয়ের ডিরেক্টর কাছে। তাহলে বলতে হয়, দলের সাংসদ দলের বিরুদ্ধে কি বেইমানি করেছিলেন?
চিঠি নিন দিদি (Ritabrata Banerjee)
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে সব থেকে বেশি লেখা আছে। দিদির এখন অখন্ড অবসর। বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টর থেকে সেই চিঠি নিন দিদি। দল তুলে দেওয়ার সলতে কে পাকিয়েছিল, সেটা দেখুন। আপনি চিঠি চেয়ে নিন ওনার থেকে। নাহলে ১৫ দিন পরে পাঠিয়ে দেব ক্যুরিয়ার করে আপনার কাছে। চিঠিতে লেখা আছে চিটফান্ডের টাকায় চলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এক প্রাণসখা আর দুই একজনের কাছে এই চিঠি ছিল। দলকে চাঁদা দেওয়া আর একই সাথে দলের দূর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি কাজ চালিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থা এবার সেই চিঠি দেখুক। তদন্ত করুন। বেইমানির সলতে কিভাবে পাকিয়েছিলেন সেটা দেখুন।
রোমহষর্ক চিঠি। উদ্বৃত্ত ৩০ কোটি টাকা কোথায় যাবে, সেটাও বলা আছে চিঠিতে।
আজই সম্ভবত বিজেপি সুখেন্দু শেখর রায়/বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী হতে পারেন তিনি/বিজেপির সল্টলেক অফিসে সুখেন্দু শেখর রায়ের সঙ্গে রয়েছে প্রকাশ চিক বড়াই/দুজনেই রাজ্যসভা থেকে তৃনমুল সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ দিয়েছেন/দুজনই এবার বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী হতে পারেন: সুত্র



