Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এক সাংবাদিক বৈঠকে দলের তহবিল, বিদ্রোহী শিবির, বিজেপিতে যোগদানকারী প্রাক্তন নেতাদের ভূমিকা এবং আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, তার জবাব ইতিমধ্যেই আদালত দিয়েছে (Kunal Ghosh)।
কুণাল ঘোষ বলেন, হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার মতো কোনও প্রমাণ নেই। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্পেশাল অবজারভারের নজরদারিতে দলের অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হবে। অথচ এই রায়ের পরেও বিরোধী শিবির সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা বলছে। তাঁর কথায়, “দ্বিচারিতারও একটা সীমা থাকে।”
‘তৃণমূলের টাকায় ভোট লড়ে এখন সেই টাকাকেই প্রশ্ন!’
বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, যারা আজ তৃণমূলের তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারাই একসময় এই দল থেকেই নির্বাচনী খরচের জন্য অর্থ নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেই সমস্ত তথ্য রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট থেকে নির্বাচনী খরচ বাবদ প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই অর্থ ব্যবহার করেই তারা বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। কুণালের প্রশ্ন, যদি সত্যিই তাঁরা মনে করে থাকেন যে সেই অর্থ ‘অবৈধ’ বা ‘খারাপ’, তাহলে এতদিনে সেই টাকা ফিরিয়ে দিলেন না কেন? তাঁর কটাক্ষ, “যে থালায় খায়, সেই থালাতেই পটি করে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার উল্লেখ (Kunal Ghosh)
কুণাল ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু অর্থই দেননি, দলের প্রতীক দিয়েছেন, সংগঠনের সমর্থন দিয়েছেন এবং তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করেছেন। সেই সুবিধা ভোগ করার পর আজ দলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, আইনি বিষয় আদালতেই নিষ্পত্তি হবে, কিন্তু রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্নও মানুষের সামনে রয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে সংযত মন্তব্য
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কুণাল ঘোষ বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তির নিজস্ব স্বাধীনতা রয়েছে। যে কোনও ব্যক্তি প্রয়োজন মনে করলে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। এ বিষয়ে তিনি অতিরিক্ত কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের নিশানায় সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানকারী একাধিক নেতা এবং তাঁদের সাংসদ প্রার্থী হওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, বিজেপি আজ নিজস্ব নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ব্যর্থ। তাই তৃণমূলের অভিজ্ঞ নেতাদেরই দলে নিয়ে সাংসদ, মন্ত্রী এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর পদেও বসাতে হচ্ছে।

তাঁর কথায়, “বিজেপি এখন প্রাক্তন তৃণমূল সমিতিতে পরিণত হয়েছে।” (Kunal Ghosh)
তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিই এত নৈতিকতার কথা বলা হয়, তাহলে যারা দল বদল করে সাংসদ বা বিধায়ক রয়েছেন, তাঁরা নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন করে মানুষের রায় নিন।
‘লোকসভা-বিধানসভা থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন না কেন?’
কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, যারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন, তাঁরা কেন এখনও লোকসভা বা বিধানসভার সদস্যপদ ছাড়ছেন না? তাঁর মতে, যদি রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নেই দলবদল হয়ে থাকে, তাহলে জনগণের কাছ থেকে নতুন করে ম্যান্ডেট নেওয়ার সাহসও দেখানো উচিত।
‘ভালো তৃণমূল’ ছাড়া বিজেপির উপায় নেই
কুণালের বক্তব্য, বিজেপি এখন বুঝে গিয়েছে যে নিজেদের সংগঠন থেকে যথেষ্ট দক্ষ নেতৃত্ব উঠে আসছে না। সেই কারণেই তৃণমূলের অভিজ্ঞ নেতাদের দলে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “যাদের এতদিন সমালোচনা করত, আজ তারাই বিজেপির মুখ। এতে প্রমাণ হয় তৃণমূলের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার মূল্য রয়েছে।”
‘বেইমান সুরক্ষা বাহিনী’ কটাক্ষ (Kunal Ghosh)
দলত্যাগী নেতাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে কুণাল ঘোষ বলেন, মনে হচ্ছে আলাদা করে ‘বেইমান সুরক্ষা বাহিনী’ তৈরি হয়েছে। যারা দল ছেড়ে অন্য দলে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও তিনি ব্যঙ্গ করেন। এছাড়া তিনি বলেন, বড় বড় শপিং মলে যেমন প্রদর্শনের জন্য পুতুল দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি কিছু নেতা শুধুই রাজনৈতিক প্রদর্শনীর অংশ হয়ে গিয়েছেন।
সুস্মিতা দেবকে নিয়ে মন্তব্য (Kunal Ghosh)
তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব সম্পর্কে কুণাল ঘোষ বলেন, তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। তাঁর বাবা প্রয়াত সন্তোষ মোহন দেবকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। তিনি জানান, একসময় দলের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছিল কেন বাইরে থেকে এনে সুস্মিতা দেবকে রাজ্যসভায় পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু তখন এসব নিয়ে কোনও আপত্তি ওঠেনি। এখন দল ছাড়ার পর সেই বিষয়গুলি সামনে আনা হচ্ছে।

২১ জুলাই শহিদ দিবসের প্রস্তুতি (Kunal Ghosh)
২১ জুলাই শহিদ দিবস নিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সম্পূর্ণ আইন মেনেই কর্মসূচি পালন করবে। প্রশাসনের কাছ থেকে যে অনুমতি পাওয়া যাবে, সেই অনুযায়ী শহিদ তর্পণ এবং সমাবেশের আয়োজন করা হবে।
সুখেন্দু শেখর রায়কে নাম না করে কটাক্ষ
এক প্রবীণ প্রাক্তন নেতাকে ইঙ্গিত করে কুণাল ঘোষ বলেন, যে বয়সে অনেকেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যান, সেই বয়সেও কেউ কেউ এখনও ক্ষমতা ও পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছাড়তে পারছেন না। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, রাজনৈতিক মহলের মতে এই মন্তব্য সুখেন্দু শেখর রায়কে লক্ষ্য করেই করা হয়েছে।
শামীম আহমেদ প্রসঙ্গে তদন্তের দাবি (Kunal Ghosh)
শামীম আহমেদকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, যদি কোনও অভিযোগ ওঠে, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কেউ তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে চলে গেলেই তদন্তের গতি থেমে যাওয়া উচিত নয়।
রাজ্যসভা নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রশ্ন
আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচন নিয়েও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি গোপন ব্যালটের পরিস্থিতি তৈরি হতো, তাহলে বিধানসভায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারত।
রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট (Kunal Ghosh)
পুরো সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষের বক্তব্যের মূল সুর ছিল— তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া নেতাদের রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আদালতের পর্যবেক্ষণ তৃণমূলের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং বিজেপি আজও তৃণমূলের অভিজ্ঞ নেতৃত্বের উপরই নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন: Joka Metro: জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পে ঐতিহাসিক মাইলফলক
তাঁর বক্তব্যে আদালত, নির্বাচন কমিশন, বিদ্রোহী নেতা, বিজেপির সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং আসন্ন রাজনৈতিক লড়াই— সবকিছুই উঠে আসে। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্যগুলি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।



