Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী : রাজ্যের রাজনীতিতে বরাবরই স্পষ্টভাষী নেতা হিসেবে পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি দল, নেতৃত্ব, নির্বাচনী কৌশল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা, ইন্ডিয়া জোট এবং বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মদনের দাবি (Madan Mitra)
মদন মিত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন আগের মতো আর সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তাঁর মতে, দলের বিভিন্ন স্তরে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ কর্মীদের মতামতের সঙ্গে সবসময় মিল ছিল না। তিনি ইঙ্গিত করেন, দলের ভিতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
‘এআইপিয়াকের লোকেরা ভোট শেখাচ্ছে’ (Madan Mitra)
সাক্ষাৎকারে মদন মিত্র বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী কৌশলে মাঠের রাজনীতির পরিবর্তে পরামর্শদাতা সংস্থা ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটে জিততে হলে শুধুমাত্র তথ্য বিশ্লেষণ নয়, মানুষের মধ্যে গিয়ে চায়ের আড্ডা, পাড়ার যোগাযোগ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে অসন্তোষের ইঙ্গিত
মদন মিত্রের বক্তব্যে উঠে আসে যে, ভোটের পরে দলের একাংশের মত ছিল—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বত্র সামনে না রেখে যদি স্থানীয় নেতৃত্ব ও মধ্যম স্তরের সংগঠকদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হত, তাহলে নির্বাচনী ফল আরও ভালো হতে পারত। তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরও বেশি গবেষণা ও সাংগঠনিক পরিকল্পনার কাজে মনোনিবেশ করা উচিত। তাঁর ভাষায়, “অভিষেক ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক”, অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।
দলীয় বৈঠকে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ প্রসঙ্গ (Madan Mitra)
মদন মিত্র দাবি করেন, দলের একটি বৈঠকে সকলকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাতে বলা হয়েছিল। তিনি জানান, সেই সময় তাঁকে কটাক্ষ ও টিটকিরির মুখেও পড়তে হয়। তাঁর অভিযোগ, তিনি যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা গুরুত্ব পায়নি বা গ্রহণ করা হয়নি।
‘মমতা অভিষেকের ব্যাপারে গান্ধারী’ (Madan Mitra)
সাক্ষাৎকারে মদন মিত্র বলেন, সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আবেগপ্রবণ বা পক্ষপাতদুষ্ট। এই প্রসঙ্গে তিনি মহাভারতের চরিত্র ‘গান্ধারী’-র উপমা টেনে মন্তব্য করেন। এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
‘অভিষেক ইস্যুই কয়েক বছর ধরে দলকে অন্য কিছু করতে দেয়নি’
মদন মিত্রের মতে, গত তিন-চার বছর ধরে দলের রাজনৈতিক আলোচনার বড় অংশই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। ফলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বিষয় যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

ইন্ডিয়া জোট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ (Madan Mitra)
জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে মদন মিত্র বলেন, ইন্ডিয়া জোটকে ঘিরে একাধিকবার বিভ্রান্তি ও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, জোট রাজনীতিতে সুস্পষ্ট অবস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব ছিল। এই মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন: Taslima Nasrin: তসলিমার কলকাতায় ফেরা নিয়ে এবার নতুন সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন
শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়েও মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে মদন মিত্র বলেন, তিনি যে উন্নয়নমূলক বিষয়গুলির কথা বলছেন, সেগুলি বাস্তবে কার্যকর করা গেলে বাংলার মানুষের উপকার হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, “এখন সময় এসেছে বাড়িতে গরু পুষুন, গরুর ল্যাজ ধরে বৈতরণী পার হন।”



