Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্ষা এলেই যেন একটাই আতঙ্ক—সুবর্ণরেখার ভাঙন। নদীর জল বাড়তেই ফের চরম দুশ্চিন্তায় ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর দু’নম্বর ব্লকের মালিঞ্চা গ্রামের নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা (Jhargram)। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ আজও শুরু না হওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
গত বছরও নদীভাঙনের সাক্ষী মালিঞ্চা (Jhargram)
গত বছরের বর্ষায় ভয়াবহ নদীভাঙনের সাক্ষী ছিল এই মালিঞ্চা। সেই সময় নদীভাঙন পরিদর্শনে এসে তৎকালীন সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঁইয়া দপ্তরের আধিকারিকদের তীব্র ভর্ৎসনা করেছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতেই নদীর পাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছিল। কিন্তু পরিদর্শনের কিছুদিন পরেই নদীভাঙনে একটি ক্লাব ও একটি আস্ত বাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। পাশাপাশি একটি পার্ক, আমবাগান, খেলার মাঠ এবং আরও কয়েকটি জায়গা নদীর গ্রাসে চলে যায়। ভাঙনের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অন্তত দু’টি বাড়ি।
অধরা স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধ (Jhargram)
পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বছরের আগস্ট মাসের শেষ দিকে বালির বস্তা ও বল্লি ফেলে অস্থায়ীভাবে রাস্তা রক্ষার কাজ করা হলেও স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ আর শুরু হয়নি। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মালিঞ্চা এলাকায় প্রথমে ১,২০০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ১,৪০০ মিটার করা হয়। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়া আজও সম্পূর্ণ হয়নি।

আতঙ্কে মালিঞ্চা গ্রামের মানুষজন (Jhargram)
এদিকে, বর্ষার বৃষ্টিতে সুবর্ণরেখার জলস্তর বাড়তে শুরু করায় ফের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মালিঞ্চা গ্রামের মানুষজন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে সুবর্ণরেখা নদী থেকে নিয়ম না মেনে বালি উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এর জেরেই নদীর স্রোত মালিঞ্চা গ্রামের দিকে ধাবিত হয়ে ভাঙনের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে।
আরও পড়ুন: Taslima Nasrin: তসলিমার কলকাতায় ফেরা নিয়ে এবার নতুন সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন
নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ শুরুর আর্জি
এলাকাবাসীর কথায়, “বৃষ্টি ও নদীর জল বাড়লেই আমাদের বাড়ি ও গ্রাম নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার ভয় তাড়া করে ফিরছে।” নদীতীরবর্তী পরিবারগুলির রাতের ঘুম উড়েছে। প্রতি মুহূর্তে নদী আরও কতটা জমি বা বসতবাড়ি গ্রাস করবে, সেই দুশ্চিন্তায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের। অবিলম্বে স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।



