Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোনম ওয়াংচুক-এর দীর্ঘ অনশন ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম ও পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন তিনি (Sonam Wangchuk)। ১৬ জুলাই সেই অনশন ১৯তম দিনে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময় ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। ওজন কমে যাওয়া, রক্তচাপ হ্রাস এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ চিকিৎসকদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্বেগ (Sonam Wangchuk)
এই আবহেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। সংগঠনের বক্তব্য, দেশের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তিত্বের জীবন কোনও অবস্থাতেই বিপন্ন হতে দেওয়া যায় না। বিজ্ঞান মঞ্চ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুক শুধু একজন পরিবেশ আন্দোলনের মুখ নন, তিনি আধুনিক বিজ্ঞানকে স্থানীয় অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে সমাজের জন্য কার্যকর সমাধান তৈরি করেছেন। তাঁর মতো একজন বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মীর স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীন থাকা কোনও গণতান্ত্রিক দেশের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংগঠনের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে কেন্দ্র সরকার সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সম্মানজনক আলোচনায় বসুক, যাতে এমন একটি ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে সম্মত হন।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ সোনম ওয়াংচুক? (Sonam Wangchuk)
সোনম ওয়াংচুকের পরিচয় শুধুমাত্র একজন আন্দোলনকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। লাদাখের কঠিন ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পরিস্থিতিতে তিনি এমন একাধিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের পথ দেখিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার ‘আইস স্টুপা’ (Ice Stupa) প্রযুক্তি। হিমালয় অঞ্চলে জলসংকট মোকাবিলায় এই প্রযুক্তি আজ বিশ্বের কাছে একটি সফল মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়। শীতকালে বরফ সংরক্ষণ করে গ্রীষ্মকালে কৃষিকাজ ও পানীয় জলের জন্য ব্যবহার করার এই পদ্ধতি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
)
এছাড়াও তিনি তৈরি করেছেন—
প্যাসিভ সোলার হিটেড মাড হাউজ, যা তীব্র শীতেও ঘরকে উষ্ণ রাখে। সৌরশক্তি চালিত বহনযোগ্য সামরিক তাঁবু, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য কার্যকর প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত। হাতে-কলমে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার এক নতুন মডেল, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিজ্ঞান শেখায়। এইসব অবদানের জন্য তিনি র্যামন ম্যাগসেসাই পুরস্কার-সহ ১৫টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
দিল্লি হাই কোর্টে জনস্বার্থে আবেদন (Sonam Wangchuk)
সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে এবার আইনি ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনজীবী রাকেশকুমার সাইনি দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন জানিয়ে দাবি করেছেন, সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হোক এবং তাঁর জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক। আবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে তাঁকে তরল খাদ্য, প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও ভিটামিন জোরপূর্বক প্রদান করা হোক, যাতে তাঁর প্রাণহানি না ঘটে। এই আবেদন গ্রহণ করে দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়া-র ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। বিষয়টির দ্রুত শুনানির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
গণতন্ত্রে সংলাপই হওয়া উচিত সমাধানের পথ (Sonam Wangchuk)
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতভেদ বা দাবি-দাওয়ার সমাধান সংঘাতের মাধ্যমে নয়, সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তাদের মতে, একজন বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মীকে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছে যেতে হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারের উচিত দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান খোঁজা এবং তাঁর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

আরও পড়ুন: Sonam Wangchuk: ওজন কমেছে সাড়ে ৮ কেজি, মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা! নিট কারচুপির প্রতিবাদে অনড় সোনম
দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ অনশন এখন শুধু একটি আন্দোলনের বিষয় নয়, এটি ধীরে ধীরে মানবিক ও জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ছাত্র-ছাত্রী, পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী এবং নাগরিক সমাজের বহু মানুষ তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। একদিকে আদালতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের মতো সংগঠনগুলি সরকারকে আলোচনার পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। এখন নজর কেন্দ্র সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশের দিকে। সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষার স্বার্থে দ্রুত ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবিই এই মুহূর্তে সর্বত্র জোরালো হয়ে উঠেছে।



