Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহাম(Andy Burnham)। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর এক অবিস্মরণীয় রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তিনি লেবার সরকারের হাল ধরলেন।
ব্রিটেনের দায়িত্বে ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ (Andy Burnham)
৫৬ বছর বয়সী এই নেতা ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত। আঞ্চলিক ক্ষমতায়নের পক্ষে জোরালো অবস্থানের জন্য তাঁর এই নামকরণ। ডাউনিং স্ট্রিটে পা রেখেই বার্নহাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবেন, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করবেন এবং ওয়েস্টমিনস্টার থেকে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে ব্রিটেনের রাজনৈতিক কাঠামোকে নতুন রূপ দেবেন।
অর্থনৈতিক সংকট ও জনপ্রিয়তা হ্রাসের জেরে বেশ কিছুদিন ধরেই চাপের মুখে ছিলেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। অবশেষে গত মাসে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপরই লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের লড়াইয়ে জয়ী হয়ে বার্নহামের এই নাটকীয় উত্থান ঘটে।
ম্যানচেস্টার থেকে ডাউনিং স্ট্রিট: এক রূপকথার গল্প (Andy Burnham)
২০১৭ সালে পার্লামেন্ট ছেড়ে যখন বার্নহাম গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হন, অনেকেই ভেবেছিলেন জাতীয় রাজনীতি থেকে তিনি দূরে সরে গেলেন। কিন্তু মেয়র হিসেবে কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে উত্তর ইংল্যান্ডের অধিকার আদায়ে তাঁর লড়াকু ভূমিকা তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
সম্প্রতি মেকারফিল্ডের লেবার এমপি আসন ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে জিতে পুনরায় কমন্সে ফেরেন বার্নহাম। আর সেখান থেকেই সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ পদে তাঁর অভিষেক হলো। আদর্শগত লড়াইয়ের চেয়ে বাস্তবমুখী সুশাসনের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন তিনি।
ব্রিটেনকে বদলে দেওয়ার মহাপরিকল্পনা (Andy Burnham)
বার্নহামের অন্যতম মূল এজেন্ডা হলো লন্ডন থেকে ক্ষমতা সরিয়ে স্থানীয় সরকারগুলোকে শক্তিশালী করা। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ম্যানচেস্টারে ‘নাম্বার ১০ নর্থ’ নামে প্রধানমন্ত্রীর একটি দ্বিতীয় অফিস তৈরি করবেন, যাতে রাজধানীর বাইরে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছানো যায়।
তবে কনজারভেটিভ বিরোধী দল ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের দাবি, কোনো সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই বার্নহাম প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন। অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতির এই কঠিন সময়ে বার্নহাম কীভাবে দেশকে এগিয়ে নেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।



