Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : অর্থসঙ্কটের জেরে বিশ্বজুড়ে ন’টি দেশে কার্যরত রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা অভিযানে বড় ধাক্কা। সংস্থাটি প্রায় ২৫ শতাংশেরও বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে(UN Peacekeeping Force)। অর্থাৎ প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার শান্তিরক্ষীকে ফেরত পাঠানো হবে। চলতি অর্থবর্ষে জাতিসংঘ সচিবালয়ও ২০ শতাংশ বাজেট কমাতে চলেছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে।
অর্থাভাবেই ফেরানো হচ্ছে শান্তিরক্ষীদের (UN Peacekeeping Force)
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপুঞ্জের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক (UN Peacekeeping Force) জানিয়েছেন,
“ন’টি দেশে কর্মরত প্রায় ২৫ শতাংশ শান্তিরক্ষীকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। প্রধান কারণ অর্থাভাব।”
এই পদক্ষেপের ফলে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে চলা মিশনগুলির কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে এই কাটছাঁটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের।
আমেরিকার অনুদান কমানোই মূল কারণ(UN Peacekeeping Force)
রাষ্ট্রপুঞ্জের (United Nations) শান্তিরক্ষা মিশনের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা দেশ হলো আমেরিকা, যারা একাই মোট বাজেটের ২৬ শতাংশ বহন করে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন(UN Peacekeeping Force)। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই ওয়াশিংটন এই তহবিল কমানোর পথে হাঁটছে।
বর্তমানে আমেরিকার কাছে রাষ্ট্রপুঞ্জের বকেয়া দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৪,৮৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবর্ষের জন্য বরাদ্দ থাকা ৮০ কোটি ডলার (প্রায় ৭১০২ কোটি টাকা) ট্রাম্প প্রশাসন একতরফা ভাবে বাতিল করেছে।

২০২৬ সালে অর্থসাহায্য সম্পূর্ণ বন্ধের প্রস্তাব
হোয়াইট হাউসের বাজেট অফিস সম্প্রতি ২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা তহবিল সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে(UN Peacekeeping Force)। তাদের যুক্তি, মালি, লেবানন এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) শান্তিরক্ষা মিশন প্রত্যাশিত ফল দেয়নি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রপুঞ্জের ১৩টি শান্তিরক্ষা মিশনের মধ্যে অন্তত ৯টি বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রশাসন এখনই বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।

কর্মী ছাঁটাইয়ের ধাক্কা আরও বাড়ছে
এর আগেই, চলতি বছরের মে মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জ প্রায় ৬,৯০০ জন কর্মী ও আধিকারিককে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়(UN Peacekeeping Force)। যদিও সেই সময় অনুদান কমানোকে কর্মী ছাঁটাইয়ের সরাসরি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু বাস্তবে তা যে যুক্ত ছিল, তা এখন স্পষ্ট হচ্ছে।
অর্থাভাবের কারণে শুধু প্রশাসনিক স্তর নয়, এবার তার প্রভাব পড়ছে সরাসরি মাঠপর্যায়ের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর। ফলে সংঘাতময় অঞ্চলে মানবিক সঙ্কট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্ব নিরাপত্তায় নতুন অনিশ্চয়তা(UN Peacekeeping Force)
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন এতদিন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে(UN Peacekeeping Force)। কিন্তু অর্থসঙ্কটের কারণে সেনা ও পুলিশ কমে গেলে সেই ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে সন্ত্রাসবাদ ও গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের অভ্যন্তরে এই সংকট নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। সংস্থার মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আগামী মাসে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তা চাওয়ার উদ্যোগ নেবেন বলে জানা গেছে।
আর্থিক সঙ্কটে জর্জরিত রাষ্ট্রপুঞ্জের এই সিদ্ধান্ত শুধু সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্ষমতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে না, বরং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তার পরিকাঠামোকেও অনিশ্চিত করে তুলছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের মতে, যদি দ্রুত সমাধান না আসে, তবে আগামী বছরগুলিতে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষার ধারণাই বিপন্ন হতে পারে।


