Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুলিশের অপব্যবহার বরদাস্ত নয়! কালিয়াগঞ্জে মৃত্যুঞ্জয় বর্মন খুনের ঘটনা থেকে কাকদ্বীপের সূর্যনগরে মা কালীর মূর্তি প্রিজন ভ্যানে তোলা একের পর এক ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। শুধু তাই নয়, এই সমস্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এক আইপিএস-সহ পাঁচ পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করার নির্দেশও এদিন দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সময় বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল কালিয়াগঞ্জ কাণ্ড (CM Suvendu Adhikari)
শনিবার বিধানসভা অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক ঘটনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এদিন স্বরাষ্ট্রদপ্তর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হচ্ছে। এরপরই উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”কালিয়াগঞ্জে এক ছাত্রীকে শারীরিক অত্যাচার করে খুন করা হয়। পরবর্তীকালে তার দেহ পুকুরে ভেসে ওঠে। এই ঘটনায় স্থানীয় পঞ্চায়েত উপপ্রধানের ছেলেকে গ্রেফতার করা হয় এবং গোটা এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করেন স্থানীয়রা। সেই ঘটনায় শুরু হয় ধরপাকড়।”
সাসপেন্ড এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেন (CM Suvendu Adhikari)
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ”আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বলে পুলিশের একটি টিম গভীর রাত দুটোয় মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের বাড়িতে পৌঁছায়। তিনি দরজা খুললে থানার আধিকারিকরা সরাসরি তাঁর বুকে গুলি করেন। আমি তাঁর স্ত্রীকে অ্যাটেন্ডেন্টের কাজ দিয়েছি। ক্ষমতায় আসার পর নিরপেক্ষ তদন্ত করে এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করা হলো।” একইসঙ্গে অভিযুক্ত ওই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ শুভেন্দুর (CM Suvendu Adhikari)
পাশাপাশি এদিন বিধানসভায় প্রয়াত প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তের মৃত্যুর ঘটনাও জোরালোভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে ওই প্রাক্তন পুলিশকর্তার ওপর লাগাতার মানসিক চাপ তৈরির অভিযোগ ওঠে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৎকালীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু বলেন, ”প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আমার কাছে দুবার হেরেছেন। তাঁরই নির্দেশে বড়তলা থানায় ডেকে পঙ্কজ দত্তকে হেনস্থা করা হতো। সকাল ১০টায় ডেকে রাত ১০টায় ছাড়া হতো। চা দূরের কথা, এক ফোঁটা জল পর্যন্ত দেওয়া হতো না। আমি সে সময় থানার বাইরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলাম। এই ঘটনায় আইও সাধন দাসকে সাসপেন্ড করলাম।” একইসঙ্গে বড়তলা থানার আইসি সুবর্ণ দত্ত চৌধুরীকেও এদিন সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

সাসপেন্ড ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাস (CM Suvendu Adhikari)
এছাড়াও গত বছর জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠা কৃষ্ণনগর প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। পুলিশের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপকভাবে লাঠিচার্জের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অশালীন শব্দ প্রয়োগের অভিযোগও আনা হয়। সেই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিয়ে ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং পুরো ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
কাকদ্বীপের ঘটনায় সাসপেন্ড কোটেশ্বর রাও
পাশাপাশি গত বছর কাকদ্বীপের সূর্যনগরে মা কালীর মূর্তি ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ঘটনাতেও কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিধানসভায় এই প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ”কাকদ্বীপের সূর্যনগরে মা কালীর মূর্তি ভাঙা হয়। মানুষ তার প্রতিবাদ করেন। কিন্তু আইপিএস কোটেশ্বর রাওয়ের নেতৃত্বে নিরীহ জনতার উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ চালানো হয়। তারপর খোদ মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, যা সনাতন ধর্মের আস্থার প্রতি চরম আঘাত।” এরপরই এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় আইপিএস কোটেশ্বর রাওকে সাসপেন্ড করার বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।



