Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতেই সামনে উঠে এল সরকারি পরিকাঠামো নির্মাণের বাস্তব চিত্র (Anganwadi)। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া-২ ব্লকের শ্রীবাটী গ্রাম পঞ্চায়েতের মুল্টিগ্রামে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এখন কার্যত বন্যার জলে ডুবে রয়েছে। চারপাশে থইথই জল, নেই যাতায়াতের রাস্তা, নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে আড়াই বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত চালুই করা যায়নি সরকারি ভবনটি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ (Anganwadi)
সরকারি টাকায় নতুন অঙ্গনওয়াড়ি ভবন তৈরি হলেও তা আজও শিশুদের কোনো কাজে লাগছে না। মাঝমাঠে তৈরি হওয়ায় বর্ষাকালে ভবনটি সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বছরের অধিকাংশ সময়ই সেখানে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্মিত সরকারি কেন্দ্র কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
গ্রামবাসীদের দাবি (Anganwadi)
প্রায় ২৪ বছর ধরে গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শোভা দাস নিজের বাড়িতেই কেন্দ্র পরিচালনা করছেন। নতুন সরকারি ভবন তৈরি হলেও সেখানে কখনও নিয়মিত ক্লাস শুরু করা হয়নি। অভিযোগ, শিশুদের পাঠদান না করে মূলত খাবার বিতরণই করা হয়। অভিভাবকদের একাংশের আরও অভিযোগ, বাড়িতে কেন্দ্র চালানোর ফলে শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না এবং সরকারি পরিকাঠামো সম্পূর্ণ অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ (Anganwadi)
টানা বৃষ্টিতে সরকারি ভবনের চারপাশে জল জমে থাকায় সেখানে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবেও কেউ ওই ভবনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। রাস্তা, পানীয় জল ও বিদ্যুতের মতো ন্যূনতম পরিকাঠামো ছাড়াই কীভাবে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নির্মাণ করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শোভা দাস কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।
সরব বিরোধী শিবির (Anganwadi)
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিরোধী শিবিরও। কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সদস্য স্বপন কুমার দত্ত বলেন, “সরকারি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা চরম সমস্যার মধ্যে রয়েছে। সেখানে যাওয়ার রাস্তা নেই, পানীয় জল নেই, বিদ্যুৎ নেই। অথচ সরকারি ভবন ব্যবহার না করে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে কেন্দ্র চালানো হচ্ছে বলে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত করে দেখা হবে, কেন্দ্র নির্মাণের সময় কোনো কাটমানি বা অনিয়ম হয়েছে কি না”।

তিনি আরও জানান (Anganwadi)
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র দ্রুত চালু করা, সেখানে যাওয়ার উপযুক্ত রাস্তা নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জানানো হবে। এদিকে, মুল্টিগ্রামের বাসিন্দাদের একটাই দাবি—সরকারি টাকায় তৈরি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র অবিলম্বে চালু করতে হবে। শিশুদের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের রাস্তা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা সরকারি ভবনকে দ্রুত শিশুদের শিক্ষার কাজে ব্যবহার করার দাবিতে সরব হয়েছে গোটা গ্রাম।
আরও পড়ুন: Dharmatala Protest: ধর্মতলা কাণ্ডে পুলিশের বড় পদক্ষেপ, গ্রেফতার ১১ অভিযুক্ত
সরকারি অর্থে নির্মিত এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র কবে খুলবে? কবে মাঠের মাঝে জলবন্দি ভবন থেকে বেরিয়ে প্রকৃত অর্থে শিশুদের শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে উঠবে এই সরকারি অঙ্গনওয়াড়ি? সেই উত্তরেই তাকিয়ে রয়েছে মুল্টিগ্রামের অসংখ্য পরিবার।



