Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: মসজিদে আযানের জন্য মাইক ব্যবহারে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক বিকাশ ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বহু মানুষ ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন যে, একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনাস্থলে মাইক ব্যবহার না করার জন্য পুলিশ চাপ সৃষ্টি করছে। এই ধরনের পদক্ষেপ আইনসম্মত নয় বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
আইনে মাইক নিষিদ্ধ নয়, নিয়ন্ত্রণ শুধু শব্দমাত্রায় (Bikash Ranjan Bhattacharya)
বিকাশ ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতে এমন কোনো আইন নেই যা ধর্মীয় স্থানে মাইক ব্যবহারের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে শব্দদূষণ রোধে পরিবেশ আইন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্ধারিত শব্দসীমা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। বিভিন্ন এলাকা যেমন আবাসিক, বাণিজ্যিক বা নীরব অঞ্চল অনুযায়ী এই শব্দসীমা আলাদা হতে পারে। তাই মাইক ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু তা নির্ধারিত ডেসিবেলের সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
হাইকোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন (Bikash Ranjan Bhattacharya)
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে কলকাতা হাইকোর্টে আযানে মাইক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছিল। আদালত তখন স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, আযানের জন্য মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে থাকতে হবে। অর্থাৎ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই আদালতের নির্দেশের মূল লক্ষ্য।
লিখিত নির্দেশ ছাড়া মাইক খুলতে বললে প্রশ্ন তুলুন (Bikash Ranjan Bhattacharya)
বিকাশ ভট্টাচার্য সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, যদি কোনো পুলিশ আধিকারিক মাইক খুলে নিতে বা ব্যবহার বন্ধ করতে বলেন, তাহলে তাঁকে সবিনয়ে জানতে চাওয়া উচিত কোন আইনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে সেই নির্দেশ লিখিতভাবে দিতে অনুরোধ করার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, প্রশাসন যদি আইনের সীমার মধ্যে থেকে কাজ করে, তাহলে নাগরিকরাও আইন মেনেই চলবেন।

ধর্ম পালন হোক শান্তিপূর্ণ, আদালতে যাবে বিষয়টি
তিনি সকলের উদ্দেশে আবেদন করেন, ধর্মীয় আচরণ অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে হবে এবং কোনোভাবেই মৌলবাদী মনোভাব বা উত্তেজনা সৃষ্টি করা উচিত নয়। তিনি জানান, এই বিষয়টি নিয়ে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং বিষয়টি আদালতে তোলা হবে। আদালতের কাছে তাঁদের আবেদন থাকবে, পুলিশ প্রশাসন যেন আইন মেনে কাজ করে এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন করে।



