Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাইকোর্টে আবারও স্বস্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে ভবানীপুর, কালীতলা, বিষ্ণুপুর সহ একাধিক থানায় যে সমস্ত মামলা দায়ের হয়েছে, সেই সমস্ত মামলায় অভিষেককে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাইকোর্ট। অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করায় রাশ টানার অভিষেকের আবেদনে কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল আদালত। সেই রক্ষাকবচ আপাতত বহাল রাখল আদালত। বিচারপতি ভট্টাচার্য্য জানান, মামলার শুনানি প্রায় শেষ। নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে সওয়াল হবে। মামলার শুনানি আপাতত মুলতুবি। আগামী ১১ আগস্ট আবারও এই মামলার শুনানি।
অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর (Abhishek Banerjee)
রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় একের পর এক এফআইআর রুজু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। গত বৃহস্পতিবার শুনানিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বাকি আটটি এফআইআর-এর তথ্য আদালতে জমা দিতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। এদিন শুনানিতে একাধিক এফআইআর দায়ের নিয়ে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। এদিন আদালতে সেই নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন অভিষেক। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্লদল ভট্টাচার্য্য শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী তদন্ত এড়িয়ে যাননি। পুলিশের পরিবর্তে সিবিআই বা স্বাধীন কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিষেকের আবেদনে তেমন কিছু নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলায় সিবিআই বা স্বাধীন কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে চাইছেন?অতিরিক্ত এজি আরও বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর উদাহরণ টানলেও অভিষেকের মামলার বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। দু’জনের মামলার মধ্যে কোনও তুলনাই হয় না।
অভিষেকের (Abhishek Banerjee) আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ এদিন আদালতে জানান তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। গত শুনানিতে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, গত ৪-মে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে প্রচুর এফআইআর হয়েছে এবং হচ্ছে। গত ২ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে ২৫ মে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিষেকের আইনজীবী আরও দাবি করেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন দু’বার। তার কয়েক বছর পর তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এপ্রিল মাসে একটি মন্তব্য করেছিলেন। জুন মাসে সেই নিয়ে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিষেকের আইনজীবী এদিন আদালতে আরও দাবি করেন, ২০১৭ সালের একটি ঘটনায় সাত বছর পর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ২০২০ সালে আমফানের ঘটনার ৬ বছর পর এফআইআর হয়েছে।
আরও পড়ুন: Lionel Messi: স্পেনের বিপদে লক্ষ টাকার সাহায্য মেসির
অভিষেকের আইনজীবী আদালতে আবেদন করেন, শুভেন্দু অধিকারী (Abhishek Banerjee) বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন, তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক মামলায় রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ভবিষ্যতে আদালতকে না জানিয়ে যাতে কোনও এফআইআর দায়ের না-করা হয়, তার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। অভিষেকের ক্ষেত্রেও তেমন নির্দেশ দেওয়া হোক।
বিচারপতির প্রশ্ন (Abhishek Banerjee)
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য গত শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন, ‘একাধিক এফআইআর হয়েছে। আলাদা আলাদা করে মামলা না করে একটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। আদালত তদন্তকারীকে বাধা দেবে না। কিন্তু পদক্ষেপ করার কী দরকার আছে? ঘটনার ছয়-সাত বছর কেন এবং কীভাবে একের পর এক এফআইআর দায়ের হচ্ছে? তখন রাজ্য সরকার প্রত্যেক এফআইআর-এর জন্য আলাদা আলাদা মামলা করতে বলেনি। যেটা বর্তমান রাজ্য সরকার বলেছে। তাই সব মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া যাবে না। তাছাড়া, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১১টির মধ্যে তিনটি মামলার নথি আদালতে জমা করেছে রাজ্য। তাই আপাতত ভবানীপুর, কালীতলা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে থানায় দায়ের হওয়া মামলাতেই অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না।’
আরও পড়ুন: Polymer Notes: দেশে কবে থেকে চালু প্লাস্টিকের নোট?
এদিন সেই রক্ষাকবচ আপাতত বহাল রাখল আদালত। বিচারপতি ভট্টাচার্য্য জানান, মামলার শুনানি প্রায় শেষ। নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে সওয়াল হবে। মামলার শুনানি আপাতত মুলতুবি থাকবে। আগামী ১১ আগস্ট আবারও এই মামলার শুনানি হবে।


