Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়া এক অগ্নিগর্ভ ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে বর্তমান বিশ্ব (Afghanistan)। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত যেমন আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে তীব্র করে তুলেছে, তেমনই তার ছায়া এসে পড়েছে ভারতীয় উপমহাদেশেও। সাম্প্রতিক খবরে জানা যাচ্ছে, আফগানিস্তান ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান–এর রাওয়ালপিণ্ডিতে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটিতে। ঘটনাটি কেবল একটি সামরিক আঘাত নয় এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক অস্থিরতারই বহিঃপ্রকাশ।

নূর খান বিমানঘাঁটি (Afghanistan)
রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমানঘাঁটি (পূর্বনাম চকলালা এয়ারবেস) পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এটি ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক নিকটতার কারণে এই ঘাঁটির গুরুত্ব অপরিসীম। পাকিস্তান বায়ুসেনার লজিস্টিক ও কৌশলগত অপারেশনের একটি বড় অংশ এখান থেকে পরিচালিত হয়। ভিভিআইপি ফ্লাইট ও সামরিক পরিবহণের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়। রাজধানী সংলগ্ন হওয়ায় প্রতিরক্ষা বলয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবেও বিবেচিত। এই ঘাঁটির উপর হামলা মানে সরাসরি পাকিস্তানের সামরিক স্নায়ুকেন্দ্রে আঘাত।
পাকিস্তান–আফগান সংঘাত (Afghanistan)
গত কয়েক মাস ধরেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষ, বিমান হামলা, জঙ্গি তৎপরতা সব মিলিয়ে সম্পর্ক কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে যে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হচ্ছে। অপরদিকে আফগান তালিবান প্রশাসন পালটা অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে হামলা চালাচ্ছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তার পরপরই ড্রোন ও বিমান হামলার পাল্টাপাল্টি পর্ব শুরু হয়।

ড্রোন হামলা (Afghanistan)
রবিবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ঘোষণা করে যে রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আকাশপথে অপারেশন চালানো হয়েছে। তালিবান প্রশাসনের দাবি, এটি পাকিস্তানের সাম্প্রতিক আকাশ হামলার পালটা জবাব।একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সফল আক্রমণ চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও পাকিস্তান আগ্রাসী হলে একইভাবে জবাব দেওয়া হবে। সামাজিক মাধ্যমে ড্রোন উড্ডয়নের ভিডিও এবং ঘাঁটির ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
‘অপারেশন সিঁদুর’ (Afghanistan)
নূর খান বিমানঘাঁটির নাম এর আগেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল তথাকথিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষিতে। সেই সময় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘাঁটির রানওয়েতে বড়সড় গর্ত তৈরি হয়েছিল বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়। বলা হয়, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘাঁটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও পাকিস্তান সরকার সেই ক্ষতির মাত্রা নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য দেয়নি। পরবর্তীতে ঘাঁটি দ্রুত মেরামত করা হয়। সদ্য মেরামত হওয়া সেই ঘাঁটিতে আবার হামলার খবর পাকিস্তানের সামরিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব (Afghanistan)
এই হামলার ফলে কয়েকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় কি নতুন এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে? ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের সমান্তরালে পাকিস্তান–আফগান যুদ্ধ কি বৃহত্তর শক্তিগুলিকে টেনে আনবে? ভারতের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থান কী হবে? ভারতের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা, অন্যদিকে আফগানিস্তানে তালিবান শাসন এই দুইয়ের সংঘাতে ভারতের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
মানবিক মূল্য ও তথ্যগোপন
দুই দেশেই বহু হতাহতের খবর মিললেও সরকারিভাবে সংখ্যা প্রকাশে অনীহা দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্য নিয়ন্ত্রণ একটি স্বাভাবিক কৌশল হলেও, এর ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রকৃত চিত্র অজানা থেকে যায়। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক, বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্যসংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।



