Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনই সৃষ্টি করেছে নতুন নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ (Social Media Content)। তার মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হল স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সহজেই পৌঁছে যাওয়া অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট। বর্তমান সময়ের এই সমস্যাকে সামনে রেখে দেশের শীর্ষ আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কনটেন্ট মনিটরিংয়ের জন্য একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থার দাবি (Social Media Content)
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য রাখেন।
তাঁদের বক্তব্য সমাজে কোন বিষয়কে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানো যেতে পারে বা কোন কনটেন্ট জনমনে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিচারের জন্য দেশের প্রয়োজন একটি স্বশাসিত, নিরপেক্ষ, এবং টেকনিক্যালি দক্ষ সংস্থা।
কেন এই সংস্থা প্রয়োজন? (Social Media Content)
- আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টের পরিমাণ বিপুল।
- কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের প্রচলিত কাঠামো দিয়ে সব কনটেন্ট পর্যালোচনা করা অসম্ভব।
- সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য, অশ্লীলতা, সহিংসতা, ও বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
- প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব নীতিমালা থাকলেও তা সবসময় কার্যকর নয়।
এর ফলে আদালত মনে করছে যে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানই নিরপেক্ষভাবে এই কাজ করতে সক্ষম।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের ঝুঁকি বাড়ছে (Social Media Content)
আদালত স্পষ্ট জানায়, আজ মোবাইল খুললেই নানা ধরনের অশ্লীল ছবি, ভিডিও বা প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট সামনে আসে।
সাধারণত ব্যবহারকারীকে জিজ্ঞেস করা হয় “আপনি কি ১৮ বছরের ওপরে?” কিন্তু এই তথাকথিত বয়স যাচাই কেবল একটি চেকবক্সে ক্লিক দিয়ে সম্পূর্ণ হয়ে যায়।

এই পদ্ধতি কেন ব্যর্থ? (Social Media Content)
অপ্রাপ্তবয়স্করাও সহজেই মিথ্যে ক্লিক করে কনটেন্ট দেখতে পারে। প্রযুক্তিগত ভাবে কোনও ভেরিফিকেশন নেই। পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট কিশোরদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশেও এর প্রভাব গভীর। আদালতের মতে, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি, নইলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।
কঠোর প্রক্রিয়ার দিকেই ইঙ্গিত (Social Media Content)
সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে আদালত বলেছে, অশ্লীল বা প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট দেখার ক্ষেত্রে আধার-ভিত্তিক বয়স যাচাই চালু করা যেতে পারে, যাতে বয়স নিশ্চিত করার জন্য একটি সুরক্ষিত প্রযুক্তিগত কাঠামো থাকে। আধার যাচাইয়ের সুবিধা, বয়স শনাক্তকরণে নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে।, অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাক্সেস বন্ধ করা সহজ হবে। প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর নজরদারি বাড়বে। সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট দেখাকে “ট্র্যাক” করা উচিত কি না, সে বিষয়ে বিতর্ক থাকবে। প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করতে সময় ও অর্থের প্রয়োজন। তবুও আদালতের মতে, সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে কঠোর প্রক্রিয়া চালু করা প্রয়োজন।
OTT, ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্লকিং
অশ্লীল কনটেন্ট রোধ করতে কেন্দ্রও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে—
- ১৮টি OTT প্ল্যাটফর্ম,
- ১৯টি ওয়েবসাইট,
- ১০টি মোবাইল অ্যাপ,
- সঙ্গে ৫৭টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট
ব্লক করা হয়, যেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল:
- নারীদের অবমাননা
- অতিরিক্ত নগ্নতা প্রদর্শন
- যৌন ক্রিয়াকলাপের অপ্রয়োজনীয় চিত্রায়ণ
- সামাজিক শালীনতা ভঙ্গ
সরকার জানিয়েছিল যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কনটেন্টের লক্ষ্যই ছিল দর্শকসংখ্যা বাড়ানো, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
OTT প্ল্যাটফর্মে নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ (Social Media Content)
OTT প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপিত কনটেন্ট নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কন্টেন্ট নির্মাতারা স্বাধীনতা চান, আবার দর্শকদের দাবি শালীনতা বজায় রাখা হোক এই দুইয়ের মধ্যে সমতা আনাই সবচেয়ে কঠিন। শিল্পী ও পরিচালকদের সৃজনশীল স্বাধীনতা, দর্শকের চাহিদা আইনগত সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক কনটেন্টের প্রভাব আদালত আগেই সরকারকে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার দিয়েছিল। এবার আরও সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরির দিকে নির্দেশ দিল।
আরও পড়ুন: Donald Trump: অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প
নিরাপদ ইন্টারনেটের পথে নতুন অধ্যায়
সোশ্যাল মিডিয়া ও OTT প্ল্যাটফর্মে অশ্লীল কনটেন্ট রোধে আদালতের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যত বেড়েছে, নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনও ততই বেড়েছে। একটি স্বাধীন সংস্থা গঠন, উন্নত বয়স যাচাই ব্যবস্থা এবং কঠোর আইন প্রয়োগ এগুলিই ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্পেসকে আরও নিরাপদ করে তুলতে পারে।



