Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন (Ajay Pal Sharma)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়, ক্যানিং, মিনাখাঁ থেকে বাসন্তীর মতো একাধিক এলাকা বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হওয়ায় কমিশনের এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কে এই অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma)
নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি ১১ জন নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষকের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছেন অজয় পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কঠোর প্রশাসনিক ভূমিকা এবং দুঃসাহসিক পদক্ষেপের জন্যই তিনি ‘দাবাং অফিসার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ঠিক যেন সিনেমার মত (Ajay Pal Sharma)
অপরাধ দমনে তাঁর কঠোর অবস্থান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অজয় পাল শর্মার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি ফলতা এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গিরের বাড়িতে গিয়ে সরাসরি তাঁকে ধমক দিচ্ছেন এবং আইন মেনে চলার নির্দেশ দিচ্ছেন। ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল সেই ভিডিও (Ajay Pal Sharma)
যদিও ভিডিওটির সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসক দলের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুরো ঘটনাটিই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে ভোটের আগে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: Noapara Blast: শেষ দফা ভোটের আগে উত্তেজনা, বোমা বিস্ফোরণে কাঁপল নোয়াপাড়া!
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই ভিডিও নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষকদের কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আইনভঙ্গের অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে
অজয় পাল শর্মার মতো কঠোর ভাবমূর্তির অফিসারের উপস্থিতি ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে একইসঙ্গে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ যে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, তা বলাই বাহুল্য। ভোটের মুখে এই ধরনের ভিডিও ভাইরাল হওয়া এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর নতুন কিছু নয়। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতার উপর। এখন নজর সেদিকেই।



