Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাম ও কৃষ্ণের তুলনা করে মন্তব্য, আর তা ঘিরেই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় (Aniruddhacharya – Bageshwar)। বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। বরং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে অভিযোগ। এই আবহে বাগেশ্বর বাবার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ধর্মগুরু অনিরুদ্ধাচার্য। তাঁর দাবি, বাগেশ্বর বাবা কোনও অসম্মান করার উদ্দেশ্যে এমন কথা বলেননি। বরং নিছক বিনোদনের ছলেই রাম ও কৃষ্ণকে নিয়ে ওই মন্তব্য করেছিলেন।

রাম ও কৃষ্ণ কি আলাদা? কী বলছেন অনিরুদ্ধাচার্য? (Aniruddhacharya – Bageshwar)
বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে, তখনই তাঁর বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি সাজিয়েছেন অনিরুদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, ত্রেতা যুগের ভগবান রাম এবং দ্বাপর যুগের শ্রীকৃষ্ণ আসলে আলাদা নন। তাঁরা একই পরমেশ্বরের দুই রূপ। নিজেদের লীলার মধ্য দিয়ে তাঁরা ভক্তদের মন জয় করেছেন। তাই দুই আরাধ্য দেবতাকে নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কখনও কখনও তুলনা, রসিকতা কিংবা মশকরা চলতেই পারে। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকেও সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখা উচিত বলে মনে করছেন তিনি।
অযোধ্যা বনাম বৃন্দাবন, ভক্তির আলাদা আবেগ (Aniruddhacharya – Bageshwar)
অনিরুদ্ধাচার্যের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে অযোধ্যা ও বৃন্দাবনের প্রসঙ্গ। তাঁর বক্তব্য, অযোধ্যার মানুষের কাছে ভগবান রাম অত্যন্ত প্রিয়। অন্যদিকে বৃন্দাবনের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান রয়েছে শ্রীকৃষ্ণের। দুই জায়গার মানুষের আরাধ্য দেবতা আলাদা হলেও তাঁদের বিশ্বাসের মূল জায়গাটি একই। নিজেদের প্রিয় দেবতাকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে হাসি-মশকরা কিংবা তুলনা নতুন কিছু নয়। বাগেশ্বর বাবাও সেই আবহেই কথাটি বলেছেন বলে দাবি অনিরুদ্ধাচার্যের।
বাঁকা কানাইয়ার গল্প শুনিয়ে দিলেন ব্যাখ্যা (Aniruddhacharya – Bageshwar)
নিজের বক্তব্য বোঝাতে একটি গল্পও শোনান অনিরুদ্ধাচার্য। তিনি জানান, বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের এক ভক্ত ছিলেন। একদিন এক ব্যক্তি তাঁকে বলেন, তাঁর কানাইয়া তো বাঁকা, অথচ ভগবান রাম একেবারে সোজা। এই কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ভক্ত অযোধ্যায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সেই সময় শ্রীকৃষ্ণ রাখাল বালকের বেশে তাঁর সামনে উপস্থিত হন। কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে ভক্ত নিজের ক্ষোভের কথা জানান। ঠিক তখনই একটি কুয়োয় বালতি পড়ে যায়। উপস্থিত লোকজন সোজা লোহার রড দিয়ে বালতিটি তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর রাখাল বালক রডটিকে সামান্য বাঁকিয়ে দেন। সেই বাঁকা রডের সাহায্যেই অনায়াসে বালতি তুলে আনা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: Dhanteras Gold Price: ধনতেরাসে সোনা আনুন ঘরে, দামে বিরাট পতন!
বাঁকা পায়েই ভবসংসার পার হওয়ার বার্তা!
অনিরুদ্ধাচার্যের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ঘটনার মধ্য দিয়েই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভক্তকে বোঝান, সংসাররূপী ভবসাগর পার হতে তাঁর বাঁকা পায়ের আশ্রয় প্রয়োজন। অর্থাৎ, শ্রীকৃষ্ণের বাঁকা রূপের মধ্যেও রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। গল্পের শেষে ভক্তের ক্রোধও প্রশমিত হয়।



