Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অমল চক্রবর্তী: হেডলাইন শুনে চমকে যাওয়ার মতো হলেও ঘটনাটি সত্যি। চুঁচুড়া বড় বাজারের বাসিন্দা প্রৌঢ়া অন্নপূর্ণা কাহার অবশেষে পেলেন রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা (Annapurna Yojana)। প্রকল্পের নামের সঙ্গে তাঁর নামের এমন মিল যেন ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকায় স্বস্তি ফিরেছে তাঁর মুখে।

এক কামরার ঘরেই একা জীবন (Annapurna Yojana)
অন্নপূর্ণা কাহারের জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টের। একটি ছোট এক কামরার ভাড়া ঘরে তাঁর বসবাস। ঘরের টালির চাল ভেদ করে বৃষ্টির জল পড়ে। সেই জল আটকাতে কোনও রকমে ত্রিপল ব্যবহার করতে হয়। মাস ছয়েক আগে মাকে হারানোর পর থেকে একাই দিন কাটছে তাঁর। সংসারে পাশে থাকার মতো আপনজন না থাকায় প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
পরিচারিকার কাজেই চলে সংসার (Annapurna Yojana)
অন্নপূর্ণা পরিচারিকার কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালান। সেই সামান্য উপার্জন থেকেই তাঁকে ওষুধ, গ্যাস, বিদ্যুতের বিল এবং ঘরভাড়ার মতো প্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে হয়। মাসের শেষ দিকে হাতে প্রায় কোনও টাকাই থাকে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ করার ক্ষমতাও কমছে। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।

প্রথমবার টাকা না আসায় হতাশা (Annapurna Yojana)
রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার কথা ঘোষণা হওয়ার পর অন্নপূর্ণাও আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রথম দফায় তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েনি। আশপাশের অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে দেখেও তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো তাঁর ভাগ্যে এই সুবিধা নেই। তবে প্রতিবেশীরা তাঁর পাশে দাঁড়ান এবং অন্নপূর্ণা যেন প্রকল্পের সুবিধা পান, সেই আশা প্রকাশ করতে থাকেন।
অবশেষে এল প্রতীক্ষিত সুখবর (Annapurna Yojana)
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সোমবার অন্নপূর্ণা কাহারের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমা পড়ে। খবর পেয়ে খুশিতে চোখের কোণে জল চিকচিক করে ওঠে তাঁর। খুব বেশি কিছু বলেননি তিনি। শুধু জানিয়েছেন, এই টাকার তাঁর সত্যিই খুব প্রয়োজন ছিল। কঠিন জীবনে সামান্য আর্থিক সহায়তাও যে কতটা বড় স্বস্তি দিতে পারে, তাঁর প্রতিক্রিয়াতেই তা স্পষ্ট।
স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া (Annapurna Yojana)
বড় বাজারের স্থানীয় বিজেপি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্নপূর্ণার এই সুবিধা পাওয়ায় খুশি প্রকাশ করেছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন, তাঁদের কাছে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি নেতা সপ্তর্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানান, অন্নপূর্ণার মতো আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের জন্যই এই ধরনের প্রকল্প কার্যকর হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: KMC Ward: ১৪৪ থেকে ২০৯! বদলাচ্ছে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের মানচিত্র, শীঘ্রই প্রকাশিত হবে নয়া খসড়া
ভবিষ্যতের জন্য বড় ভরসা
অন্নপূর্ণা কাহারের মতো প্রবীণ ও আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলাদের কাছে নিয়মিত সরকারি সহায়তা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচারিকার কাজ করা কঠিন হলে এই আর্থিক সহায়তাই তাঁর নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে কিছুটা সাহায্য করবে। তাই অন্নপূর্ণা কাহারের ব্যাঙ্কে টাকা পৌঁছনোর ঘটনা শুধু একজনের প্রাপ্তি নয়, বরং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত প্রয়োজনমতো মানুষের কাছে পৌঁছনোর প্রত্যাশারও প্রতীক।



