Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
তানিয়া রক্ষিত: ফুটবলে বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল (Anthony Andrews)। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা বিভাগেও লাল-হলুদ শিবিরের রাজত্ব চলছে। ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ জিতে এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল পর্বে টানা দ্বিতীয়বার যোগ্যতা অর্জন করেন কোচ অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজের দল। এরপরেই পেয়ে গেলেন গুরু দায়িত্ব। ক্লাবের পাশাপাশি এবার ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁর কাঁধে।
বর্তমানে তাসখন্দে রয়েছে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা দল (Anthony Andrews)। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে তারা। এহেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কোচ অ্যান্থনি। তাদের প্রধান লক্ষ্য মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পাকা করা। এরই ফাকে উজবেকিস্তান থেকে কে টিভি বাংলার সঙ্গে কথা বললেন অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ। ইস্টবেঙ্গলের জয় থেকে ভারতীয় দলের দায়িত্ব সবকিছু নিয়ে অকপট তিনি।
AFC- নিয়ে উচ্ছ্বসিত অ্যান্থনি (Anthony Andrews)
প্রশ্ন: গতবার আপনার দল AFC-এর মূলপর্ব থেকে ছিটকে গিয়েছিল। এবছর কী কী পরিবর্তন দেখা যাবে? (Anthony Andrews)
উত্তর: AFC-এর প্রতিটি অভিযানই আমাদের কিছু না কিছু শেখায়। গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছি, এশিয়ার সেরা ক্লাবগুলির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গেলে ঠিক কোন স্তরের প্রস্তুতি প্রয়োজন। এরপর থেকেই আমরা স্কোয়াডের গভীরতা, কৌশলগত বৈচিত্র্য, ম্যাচ পরিচালনা এবং সামগ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছি। এখন আমাদের অভিজ্ঞতাও বেশি। এই পর্যায়ে কী প্রত্যাশা করা হয়, সেটাও খেলোয়াড়রা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিতে আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করা এবং ভারতীয় মহিলা ফুটবলের সীমা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
প্রশ্ন: ফাজিলা ও রেস্টিকে ছাড়াই আপনারা প্রিলিমিনারি রাউন্ড খেলেছেন। তারপরও মোট ১৮টি গোল করেছেন। এর পিছনে কী কৌশল এবং পরিকল্পনা ছিল?
উত্তর: এই সাফল্য কোনও একজনের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ফল নয়, এটা গোটা দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ফাজিলা এবং রেস্টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তবে আমরা সবসময় এমন একটি স্কোয়াড তৈরি করার চেষ্টা করেছি, যেখানে প্রয়োজনের সময় প্রত্যেকেই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে। কৌশলগতভাবে আমরা হাই-ইনটেনসিটি প্রেসিং, দ্রুত আক্রমণে ওঠা, বেশি সংখ্যক খেলোয়াড়কে নিয়ে আক্রমণ এবং পুরো ম্যাচে উচ্চ গতি বজায় রাখার দিকে জোর দিয়েছিলাম। খেলোয়াড়রা পরিকল্পনাটা অসাধারণভাবে বাস্তবায়ন করেছে এবং নিজেদের চরিত্র, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে।
প্রশ্ন: মূলপর্বের জন্য দলকে কীভাবে মোটিভেট করবেন?
উত্তর: এই পর্যায়ে পৌঁছনোর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হল এই সুযোগটাই। এই খেলোয়াড়রা কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের এশিয়ার মঞ্চে খেলার যোগ্য করে তুলেছে। আমার কাজ নতুন করে মোটিভেশন তৈরি করা নয়, বরং সেই অনুপ্রেরণাকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। আমাদের প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাসের উপর জোর দিতে হবে। আমরা যদি নিজেদের ফুটবল-দর্শনের প্রতি বিশ্বাস রাখি এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারি, তাহলে যে কোনও দলের বিরুদ্ধেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব।
প্রশ্ন: মূলপর্বের আগে ফাজিলাকে দলে পাওয়া যাবে। তিনি কি প্রথম একাদশে থাকবেন, নাকি প্রিলিমিনারি রাউন্ডের একই দলকে খেলাবেন?
উত্তর: নির্বাচন সবসময় দলের জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো, তার উপর নির্ভর করে। ফাজিলা অত্যন্ত মানসম্পন্ন একজন খেলোয়াড়। তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং আক্রমণাত্মক দক্ষতা দলকে অনেক কিছু দিতে পারে। তবে প্রিলিমিনারি রাউন্ডে যারা খেলেছে, তারাও অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে এবং তাদের কৃতিত্ব প্রাপ্য। দলে জায়গার জন্য প্রতিযোগিতা সবসময়ই ভালো বিষয়। শেষ পর্যন্ত ফর্ম, ফিটনেস, কৌশলগত প্রয়োজন এবং দলের সাফল্যের জন্য কোন কম্বিনেশন সবচেয়ে কার্যকর হবে—সেগুলির উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভারতে মহিলা ফুটবল (Anthony Andrews)
প্রশ্ন: আপনার চোখে গত এক বছরে মহিলা ফুটবলে কী কী পরিবর্তন এসেছে?
উত্তর: সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে পেশাদারিত্ব এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানে। খেলোয়াড়রা এখন কৌশলগত দিক থেকে আরও সচেতন, শারীরিকভাবে আরও প্রস্তুত এবং মানসিকভাবেও আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ক্লাবগুলি আরও বেশি বিনিয়োগ করছে, পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণের মান বাড়ছে এবং মহিলা ফুটবলে প্রতিযোগিতার সামগ্রিক মানও উন্নত হচ্ছে। খেলোয়াড়, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি হচ্ছে—এটা সত্যিই অত্যন্ত উৎসাহজনক।
প্রশ্ন: ইস্টবেঙ্গল মহিলা দল এখন ভারত তো বটেই, দেশের বাইরেও যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। আপনার মতে এর কারণ কী?
উত্তর: সাফল্যের পিছনে থাকে ধারাবাহিকতা এবং সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। খেলোয়াড়রা প্রতিদিন নিজেদের উন্নতি করার জন্য যে পরিশ্রম করছে এবং শেখার মানসিকতা দেখাচ্ছে, তার জন্য তাদের বিশাল কৃতিত্ব প্রাপ্য। স্টাফরাও পর্দার আড়ালে নিরলস পরিশ্রম করছেন। একইসঙ্গে ক্লাব আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে। আমরা এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলেছি, যার ভিত্তি হল দায়বদ্ধতা, শৃঙ্খলা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আগের সাফল্যে আমরা কখনও আত্মতুষ্ট হয়ে পড়ি না।
আরও পড়ুন: IPL Impact Rule: আইপিএলে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
জাতীয় দলের দায়িত্ব (Anthony Andrews)
প্রশ্ন: ক্লাবের দায়িত্বের পাশাপাশি এখন ভারতীয় জাতীয় দলের সঙ্গেও নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। বিষয়টি কতটা উপভোগ করছেন?
উত্তর: এটা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং একইসঙ্গে বড় দায়িত্বের বিষয় (Anthony Andrews)। যে কোনও ভূমিকায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করা প্রত্যেক কোচেরই স্বপ্ন। আমি সবসময় খেলোয়াড়দের উন্নতি এবং তরুণ প্রতিভাদের নিজেদের সম্ভাবনায় পৌঁছতে সাহায্য করার বিষয়ে আগ্রহী। তাই জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগটা আমি সত্যিই উপভোগ করছি। একইসঙ্গে আমার লক্ষ্য হল জাতীয় দল এবং ইস্টবেঙ্গল এফসি—দুই জায়গাতেই ইতিবাচকভাবে অবদান রাখা। এই দুই দায়িত্বের জন্য আমার উপর আস্থা রাখাটা আমার কাছে সত্যিই বড় সম্মানের।
প্রশ্ন: এই মুহূর্তে আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী?
উত্তর: আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য সবসময়ই খুব সহজ—প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করা এবং যে খেলোয়াড় ও দলের সঙ্গে কাজ করি, তাদের নিজেদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনায় পৌঁছতে সাহায্য করা। স্বল্পমেয়াদে আমার লক্ষ্য হল ইস্টবেঙ্গলকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সাহায্য করা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতিতে অবদান রাখা। দীর্ঘমেয়াদে এমন আরও খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই, যারা ক্লাব এবং দেশের হয়ে সাফল্য অর্জন করতে পারবে। সেটা যদি আমরা করতে পারি, তাহলে আমি বিশ্বাস করি সাফল্য এমনিতেই আসবে।



