Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: রাজ্যের রাজনীতিতে বিরোধীদের ভূমিকা এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে মোকাবিলার কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Naushad Siddiqui)। তৃণমূলকে ‘গণতান্ত্রিকভাবে খতম’ করার পাশাপাশি সিপিআইএম যাতে শক্তিশালী হয়ে উঠতে না পারে, সেই বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী—এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই এবার সরব হয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ, শাসকদলের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।
শক্তিশালী বিরোধী দলই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ (Naushad Siddiqui)
নওশাদের মতে, গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধীদের শক্তিশালী থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর বক্তব্য, একদিকে তৃণমূলকে সরানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বামেদের রাজনৈতিকভাবে আটকে রাখার চেষ্টা চলছে—এই দুই অবস্থানের মধ্যে তিনি অসঙ্গতি দেখতে পাচ্ছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সংযুক্ত মোর্চার অংশ হিসেবে বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়েছিলেন।
‘কথার সঙ্গে কাজের অমিল’, অভিযোগ নওশাদের
শুভেন্দুর বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নওশাদ। তাঁর অভিযোগ, সামান্য একটি অফিসের বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে বড় করে তোলা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, এই ধরনের পদক্ষেপ কি সত্যিই গণতান্ত্রিকভাবে তৃণমূলকে দুর্বল করছে, নাকি উল্টে দলটিকে আরও রাজনৈতিক প্রচারের জায়গা করে দিচ্ছে?
‘তৃণমূলের মরা গাঙে জল’? (Naushad Siddiqui)
নওশাদের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যগুলির একটি হল—বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর মনে হচ্ছে, তৃণমূলের ‘মরা গাঙে জল’ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা একাধিক অভিযোগ নিয়ে যে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা হয়েছিল, সেগুলির অনেকটাই এখন আর সামনে নেই।
তদন্ত নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন (Naushad Siddiqui)
ফেক সিগনেচার সংক্রান্ত তদন্ত থেকে শুরু করে ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে কথিত অনিয়মের অভিযোগ—বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে নওশাদ প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তের গতি নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, কোনও একটি পর্যায়ে তদন্তের তৎপরতা থেমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইভাবে ‘কাকু’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি ভয়েস টেস্টের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: Perfume: গন্ধকে সত্যিই বন্দি করা যায়! ‘পারফিউম’- সিনেমায় রয়েছে সেই রহস্য
শেষ পর্যন্ত লাভ কার?
সব প্রশ্নের শেষে নওশাদের বক্তব্যের মূল সুর—তৃণমূলকে সত্যিই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দুর্বল করা হচ্ছে, নাকি তৃণমূলের নামকে ঘিরেই তাদের রাজনৈতিকভাবে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলা হচ্ছে, সেটাই এখন দেখার। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনাও তৈরি হয়েছে।



