Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নতুন বছরের শুরুতেই প্লেব্যাক দুনিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে এক অদ্ভুত আলোড়ন তৈরি করেছিলেন (Arijit Singh)। তাঁর মতো একজন জনপ্রিয় এবং বহুমাত্রিক শিল্পীর এমন সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছিল গোটা সংগীতপ্রেমী মহল। কিন্তু ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই যখন একের পর এক ছবিতে তাঁর কণ্ঠ শোনা যেতে শুরু করল, তখন সেই বিস্ময় রূপ নিল কৌতূহলে, আর কৌতূহল ধীরে ধীরে প্রশ্নে আসলে কী ঘটছে?

সিদ্ধান্তের অন্তরালে বাস্তবতা (Arijit Singh)
অরিজিৎ সিং স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, তাঁর সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত অধিকাংশ গানই নতুন করে গাওয়া নয়। এগুলি বহু আগে রেকর্ড করা হয়েছিল, যখন তিনি এখনও সক্রিয়ভাবে প্লেব্যাক জগতে কাজ করছিলেন। একটি বড় শিল্পজগতের নিয়ম অনুযায়ী, একটি গান রেকর্ড হওয়ার পর তা মুক্তি পেতে অনেক সময় লেগে যায় কখনও কয়েক মাস, কখনও বা বছরও পেরিয়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, তিনি যেসব ছবিতে সম্প্রতি শোনা যাচ্ছেন, সেগুলির সঙ্গে তাঁর চুক্তি এবং কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে মাঝপথে সেগুলি ছেড়ে দেওয়া শুধু পেশাগতভাবে অনৈতিকই নয়, বরং বাস্তবিক দিক থেকেও অসম্ভব ছিল।
এক ধারাবাহিকতার প্রতিফলন (Arijit Singh)
সম্প্রতি Aamir Khan-এর ছেলের প্রজেক্টে এবং Salman Khan অভিনীত ‘মাতৃভূমি’ ছবিতে তাঁর কণ্ঠ শোনা গেছে। এই উপস্থিতি অনেকের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করলেও, বিষয়টি আসলে অতীতের প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিকতা। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলোএকজন শিল্পী যখন কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত হন, তখন সেই কাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা থাকে। অরিজিৎ সেই দায়বদ্ধতাকে সম্মান জানিয়েছেন বলেই, তাঁর কণ্ঠ আজও শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন বড় প্রজেক্টে।

ব্যতিক্রমী আবেগের গল্প (Arijit Singh)
এই সামগ্রিক পরিস্থিতির মধ্যেই বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ‘ভূত বাংলা’ ছবির একটি গান ‘তু হি দিসদা’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন Priyadarshan এবং এতে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন Akshay Kumar। এই গানটির ক্ষেত্রে ঘটেছে একেবারেই ভিন্ন কিছু। সাধারণত নির্মাতারা শিল্পীদের নির্বাচন করেন, কিন্তু এখানে উল্টোটা ঘটেছে। অরিজিৎ নিজেই আগ্রহ দেখিয়ে এই গানটি গাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
শিল্পীর হৃদয়ে সুরের অনুরণন (Arijit Singh)
সূত্র অনুযায়ী, Balaji Motion Pictures এবং সুরকার Pritam-এর টিমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন অরিজিৎ। গানটির সুর, কথা এবং আবেগ তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তিনি অনুভব করেছিলেন, এই গানে তাঁর কণ্ঠ একটি আলাদা মাত্রা এনে দিতে পারে। এই অনুভূতি এতটাই প্রবল ছিল যে, নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও তিনি গানটি গাওয়ার জন্য এগিয়ে আসেন। এখানেই ধরা পড়ে একজন প্রকৃত শিল্পীর আসল পরিচয় যেখানে নিয়ম নয়, সৃষ্টির আনন্দই হয়ে ওঠে প্রধান।

আরও পড়ুন: Meteorit Explosion: উড়ন্ত অবস্থাতেই বিস্ফোরণ, উল্কার বিস্ফোরণে তোলপাড় আকাশ!
নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত
এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট যে, অরিজিৎ সিং পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না, বরং নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলছেন। তিনি হয়তো আর প্রতিটি ছবিতে গান গাইবেন না, কিন্তু বেছে বেছে এমন কিছু কাজ করবেন, যেখানে তাঁর সৃজনশীলতা এবং আবেগ সম্পূর্ণভাবে ফুটে উঠতে পারে।



