Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথে (Army Animal Parade) এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে চলেছে দেশ ও বিশ্ব। আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাঙ্ক কিংবা সুসজ্জিত সেনাদলের পাশাপাশি এবার কুচকাওয়াজে অংশ নিতে চলেছে ভারতীয় সেনার পশুকুল বা অ্যানিমাল কন্টিনজেন্ট। স্বাধীন ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাসে এই প্রথম সেনাবাহিনীর পোষ্য ও কর্মরত প্রাণীদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কন্টিনজেন্ট রাজপথে কুচকাওয়াজ করবে।
সেনার তরফে জানানো হয়েছে, (Army Animal Parade)
ভারতীয় সেনার রিমাউন্ট অ্যান্ড ভেটেরিনারি কোরের তত্ত্বাবধানে (Army Animal Parade) গঠিত এই বিশেষ বাহিনী দেশের প্রতিরক্ষায় প্রাণীদের অবদানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে চলেছে। সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, এই কুচকাওয়াজ শুধুমাত্র এক প্রদর্শনী নয়, বরং ভারতীয় সেনার ঐতিহ্য, আত্মনির্ভরতা ও অভিযোজন ক্ষমতার এক জীবন্ত প্রতিফলন। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৬-এর প্রজাতন্ত্র দিবসে এই অ্যানিমাল কন্টিনজেন্টে থাকবে, ২টি দুই কুঁজবিশিষ্ট উট, ৪টি টাট্টু ঘোড়া, ৪টি প্রশিক্ষিত র্যাপ্টর শিকারি পাখি, ১০টি দেশি প্রজাতির সেনা কুকুর এবং বর্তমানে ব্যবহৃত ৬টি প্রশিক্ষিত সামরিক কুকুর। সেনা আধিকারিকদের বক্তব্য, এই পশুর দল ভারতীয় সেনার অতীত ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ কৌশলের এক অনন্য সংমিশ্রণ তুলে ধরবে।
২৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে (Army Animal Parade)
এই কুচকাওয়াজের অগ্রভাগে থাকবে সদ্য সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত (Army Animal Parade) ব্যাক্ট্রিয়ান উট। দুই কুঁজবিশিষ্ট এই উট বিশ্বের অন্যতম কঠিন ভূপ্রকৃতির জন্য আদর্শ। তীব্র শীত, স্বল্প অক্সিজেনের পরিবেশ এবং ১৫ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় অনায়াসে কাজ করতে সক্ষম এই উটগুলি একবারে প্রায় ২৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে। সেনার মতে, লাদাখের শীতল মরুভূমি ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দুর্গম এলাকায় রসদ পরিবহণ এবং টহলদারির ক্ষেত্রে এই উটগুলি কার্যত গেম চেঞ্জার হয়ে উঠেছে। খুব অল্প খাবার ও জলে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার ক্ষমতা তাদের সীমান্ত এলাকায় অত্যন্ত কার্যকর করে তুলেছে।

সহনশীলতা অসাধারণ (Army Animal Parade)
কুচকাওয়াজে বিশেষ নজর কাড়বে লাদাখের স্থানীয় ও বিরল প্রজাতির (Army Animal Parade) জান্সকার টাট্টু ঘোড়া। আকারে ছোট হলেও এদের সহনশীলতা অসাধারণ। সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ঘোড়াগুলি ১৫ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় এবং মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৪০ থেকে ৬০ কেজি ওজন বহন করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারে। ২০২০ সাল থেকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সিয়াচেন হিমবাহ, লাদাখ ও উত্তর সীমান্তের দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে এই টাট্টু ঘোড়াগুলি। অনেক সময় দিনে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ অতিক্রম করে সেনাদের সঙ্গে টহল দেয় তারা।
পশু কন্টিনজেন্টে থাকছে চারটি র্যাপ্টর বা শিকারি পাখি
এই পশু কন্টিনজেন্টে থাকছে চারটি র্যাপ্টর বা শিকারি পাখি। প্রকৃতিদত্ত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এই পাখিগুলিকে মূলত বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বার্ড স্ট্রাইক প্রতিরোধ এবং নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেনা আধিকারিকদের দাবি, আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি এই শিকারি পাখিগুলি নজরদারির ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
কুচকাওয়াজের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ
কুচকাওয়াজের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হবে সেনা কুকুররা, যাদের ভারতীয় সেনা ‘নীরব যোদ্ধা’ বলে সম্মান জানায়। মিরাটের আরভিসি সেন্টার অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষিত এই কুকুররা সন্ত্রাসদমন অভিযান, বিস্ফোরক ও মাইন শনাক্তকরণ, ট্র্যাকিং, পাহারা, দুর্যোগে উদ্ধারকাজ এবং অনুসন্ধান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বছরের পর বছর ধরে বহু সেনা কুকুর ও তাদের হ্যান্ডলার অসাধারণ সাহসিকতার জন্য পেয়েছেন বীরত্ব পদক ও প্রশংসাপত্র।

অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজের জীবন বাজি রেখে সেনাদের প্রাণ বাঁচিয়েছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভারতীয় সেনা এখন ক্রমশ দেশি প্রজাতির কুকুর অন্তর্ভুক্ত করছে। এর মধ্যে রয়েছে—মুধোল হাউন্ড, রামপুর হাউন্ড, চিপ্পিপারাই, কোম্বাই ও রাজাপালায়াম।
সেনার মতে, এই কুকুরগুলি কঠিন আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে এবং ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। কুচকাওয়াজে তাদের উপস্থিতি আত্মনির্ভরতার স্পষ্ট বার্তা বহন করবে।
ভারতীয় সেনা সিদ্ধান্ত নিয়েছে…
সম্প্রতি ভারতীয় সেনা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে খচ্চর, ঘোড়া, গাধা ও কুকুর নিয়ে গঠিত অ্যানিমাল ট্রান্সপোর্ট ইউনিট অন্তত ২০৩২ সাল পর্যন্ত চালু রাখা হবে। দুর্গম ও সড়কবিহীন অঞ্চলে রসদ পৌঁছে দিতে এই ইউনিটগুলো এখনও সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। রিমাউন্ট অ্যান্ড ভেটেরিনারি কোর ভারতীয় সেনার অন্যতম প্রাচীন শাখা, যার দায়িত্ব সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত সব প্রাণীর প্রজনন, পরিচর্যা, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা।

আরও পড়ুন: New Year Death: নিউ ইয়ার পার্টির আনন্দেই বিষ! ভোজ-মদ্যপানের পর মৃত্যু প্রৌঢ়ের
সিয়াচেনের বরফঢাকা উচ্চতা থেকে লাদাখের শীতল মরুভূমি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত সাধারণ মানুষের পাশে—এই প্রাণীগুলি নীরবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। তারা শুধু সহায়ক নয়, তারা চার পায়ে চলা যোদ্ধা—সাহস, আনুগত্য ও আত্মত্যাগের জীবন্ত প্রতীক। ২০২৬-এর প্রজাতন্ত্র দিবসে তাদের কুচকাওয়াজ শুধু চোখের আরাম নয়, বরং দেশের প্রতিরক্ষার এক অনুচ্চারিত ইতিহাসকে সম্মান জানানো।


