Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হুগলি জেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় (Asit Mazumdar) সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। সোমবার চুঁচুড়া-মগড়া ব্লক অফিসে এসআইআর শুনানিকেন্দ্রে গিয়ে আচমকাই শুনানির কাজ বন্ধ করে দেন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। তাঁর দাবি, শুনানিকেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) বা দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে হবে। এই দাবিকে কেন্দ্র করেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
কড়া অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ (Asit Mazumdar)
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দলের নেতা-কর্মীদের (Asit Mazumdar) সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট করেন, বিএলএ-দের শুনানিকেন্দ্রে থাকার নির্দেশ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকেই এসেছে। সেই নির্দেশ মেনেই সোমবার সক্রিয় হন অসিত মজুমদার।
এসআইআর-এর শুনানি পর্ব (Asit Mazumdar)
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে রাজ্যজুড়ে এসআইআর-এর শুনানি (Asit Mazumdar) পর্ব শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অসংগতি ও ত্রুটির অভিযোগ উঠছে। তৃণমূলের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষকে আবার শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। এমনকি অসুস্থ, প্রবীণ ও পেনশনভোগী ব্যক্তিদেরও দূরবর্তী কেন্দ্রে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ ভোটারদের, যা অমানবিক বলে দাবি দলের।
চুঁচুড়া-মগড়া ব্লক অফিসে অবস্থান বিক্ষোভ
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকেই চুঁচুড়া-মগড়া ব্লক অফিসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন অসিত ও তাঁর অনুগামীরা। অভিযোগ ওঠে, শুনানিকেন্দ্রে দলের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। অসিতের দাবি, বিএলএ-দের ছাড়া কোনও শুনানি বৈধ হতে পারে না। তিনি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের কাছে লিখিতভাবে জানতে চান, কেন দলের এজেন্টদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সেই নিয়েই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাময়িকভাবে কেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভোগান্তি বাড়ে সাধারণ মানুষের
এর ফলে বাইরে অপেক্ষায় থাকা বহু ভোটার বিপাকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষও ছিলেন। কখন শুনানি শুরু হবে, আদৌ হবে কি না-এই অনিশ্চয়তায় ভোগান্তি বাড়ে সাধারণ মানুষের। যদিও বিধায়কের দাবি, সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতেই এই আন্দোলন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অসিত মজুমদার বলেন, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই, পাসপোর্ট বা পুরোনো ভোটার পরিচয় রয়েছে, তাঁদেরও ডাকা হচ্ছে, যা চরম অব্যবস্থার পরিচয়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা নিজের হাতে নিতে চাইছে। তিনি স্পষ্ট করেন, একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ যেতে দেওয়া হবে না।
কমিশনের বিরুদ্ধে ‘জুলুমবাজি’র অভিযোগ
কমিশনের বিরুদ্ধে ‘জুলুমবাজি’র অভিযোগ তুলে অসিত জানান, প্রয়োজনে মগরা থেকে পোলবা বিডিও অফিস এবং মহকুমাশাসকের দফতর পর্যন্ত আন্দোলন ছড়াবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা পৌঁছন। তৃণমূল নেতৃত্ব আগেই ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে বিএলএ-দের উপস্থিতির দাবিতে আইনি লড়াইয়েও নামবে দল। এই ঘটনার পর রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক চাপ যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট।


