Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয় আজ থেকেই (Babughat to Gangasagar)। মহালয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ ও পুণ্যস্নান। এই দিনটিকে ঘিরে বাঙালির মনে ভক্তিভাব ও আবেগের মেলবন্ধন হয়। সূর্যোদয়ের আগেই ভক্তরা গঙ্গা বা বিভিন্ন নদীর তীরে উপস্থিত হন, যাতে তর্পণের মাধ্যমে পিতৃপুরুষের আত্মার শান্তি কামনা করা যায়।

গঙ্গাসাগরে বিপুল জনসমাগম (Babughat to Gangasagar)
খবর সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভোরের আলো ফোটার আগেই গঙ্গাসাগরে ভক্তদের ঢল নামে। আজ সকালেই প্রায় ৭০ হাজার পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান ও তর্পণে অংশ নেন। প্রশাসন অনুমান করছে, দিনের শেষে এই সংখ্যা এক লাখের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। গঙ্গাসাগরের তীরে আজ যেন এক মেলা বসেছে। ভক্তদের মুখে শোনা গেছে ভগবানের নামোচ্চারণ, চারিদিকে ভক্তি ও আস্থার আবহ তৈরি হয়েছে।
বাবুঘাট ও ডায়মন্ড হারবারে একই চিত্র (Babughat to Gangasagar)
শুধু গঙ্গাসাগর নয়, কলকাতার বাবুঘাটেও মহালয়ার সকাল থেকে তর্পণে উপচে পড়েছে ভিড়। হুগলীর তীরবর্তী বাবুঘাটে সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন ঘাটেও পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। পুরসভার উদ্যোগে এলাকার সাতটি ঘাটে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তর্পণ শেষে বহু ভক্তকে মিষ্টিমুখ করাতে দেখা গেছে, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ভক্তদের জন্য এই আয়োজন করা হয় বলে খবর সূত্রে জানা যাচ্ছে।
প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ও পরিষেবা (Babughat to Gangasagar)
বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
গঙ্গাসাগরে ১৪টি ট্রলার ভাসমান নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স কর্মী মোতায়েন রয়েছে।
পর্যাপ্ত আলো, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রীর নজরদারি (Babughat to Gangasagar)
খবর সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা আজ গঙ্গাসাগর পরিদর্শনে আসেন। তিনি জানান, পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভিড় আরও বাড়তে পারে বলেই তিনি মনে করেন। ভক্তদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
রাজ্যের অন্যান্য ঘাটেও সমান ভিড়
খবর সূত্রে জানা যায়, শুধু গঙ্গাসাগর বা বাবুঘাট নয়, রাজ্যের অন্যান্য নদীতীরবর্তী স্থানেও ভোর থেকেই পুণ্যার্থীদের সমাগম ছিল লক্ষণীয়। হুগলি নদীর বিভিন্ন ঘাট, ডায়মন্ড হারবারের আশেপাশের ঘাট ও রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পুণ্যার্থীরা তর্পণ করতে আসেন।
আরও পড়ুন: Today Weather Update: দুর্গাপুজোয় ছাতা–রেইনকোট হবে কি বাঙালির সঙ্গী?
আগমনীর সুর
মহালয়ার দিন থেকেই বাঙালির মনে ভেসে ওঠে দেবীপক্ষের আনন্দ। আজকের তর্পণ ও পুণ্যস্নান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের মুখে শোনা যাচ্ছে আগমনীর গান। রাজ্য জুড়ে বাজছে পুজোর আগমনী সুর। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে এখন একটাই প্রতীক্ষা— মা দুর্গার আগমন।



