Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে যখন শহরজুড়ে (Ballygunge) সাজসাজ রব, তখনই চেপে বসেছে দুর্যোগের ছায়া। সোমবার রাতের ভয়াবহ বৃষ্টিতে শহরের বড় অংশ এখনও জলের তলায়। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থায় প্রশ্ন উঠছে কলকাতা পুরসভার প্রস্তুতি নিয়ে। এর মধ্যেই আবহাওয়ার দফতরের পূর্বাভাস-বুধবার দুপুরে আবারও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে কলকাতা, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু অঞ্চলে। ফলে শহরবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হচ্ছে।
শোচনীয় অবস্থা দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ এলাকায় (Ballygunge)
সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ (Ballygunge) এলাকায়। গড়িয়াহাট রোড, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি চত্বর-সব জায়গা এখনও জলের তলায়। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন বালিগঞ্জ পার্ক রোডে পানীয় জলের সংকট তীব্র। উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া, আমহার্স্ট স্ট্রিট, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিট-এই সব অঞ্চলেও ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়েও জল নামেনি। দক্ষিণ শহরতলির পাটুলির মতো এলাকাও হাঁটু বা কোমরজলের নিচে। এক বাসিন্দা বলছেন, “এখনও যেন জলে ভাসমান কোনও জাহাজে আছি। বাইরে পা রাখার সাহসই পাচ্ছি না।”
আবর্জনাই জল নামতে দেরি করাচ্ছে (Ballygunge)
এই অবস্থায়, শহরের মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে (Ballygunge) না ফিরতেই আরও বৃষ্টির আশঙ্কা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, পঞ্চমীর দিন অর্থাৎ শনিবার মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে শহরের বিভিন্ন অংশে। কলকাতা পুরসভার দাবি, নিকাশি নালাগুলিতে জমে থাকা আবর্জনাই জল নামতে দেরি করাচ্ছে। বিশেষত বালিগঞ্জ, পার্ক সার্কাস ও তপসিয়া অঞ্চলে নালায় প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য জমে জল সরানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, “নিকাশি ব্যবস্থা থাকলেও, স্থানীয়দের সচেতনতা না থাকলে সমস্যা থেকেই যাবে।”
পুরসভা সূত্রে আরও অভিযোগ…
এছাড়াও, পুরসভা সূত্রে আরও অভিযোগ, যেসব এলাকা পরবর্তীকালে কলকাতা পুরসভার অধীনে এসেছে, যেমন যাদবপুর, গড়িয়া, মেটিয়াবুরুজ, বেহালা-সেসব জায়গায় নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে না তুলেই সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে সেসব এলাকার জমা জলের চাপে পুরনো ওয়ার্ডগুলোতেও জল জমছে।

বাস্তব পরিস্থিতি
মেয়র পরিষদ সদস্য তারক সিংহ বলেন, “আমরা রাজনীতি করছি না, বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরছি। অনেক এলাকা পরিকল্পনাহীনভাবে সংযুক্ত হয়েছিল। এখন ধীরে ধীরে সেসব জায়গায় আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। তার সুফল ভবিষ্যতে দেখা যাবে।”
তবে শহরের সাধারণ মানুষ এই ‘ভবিষ্যতের সুফল’ নিয়ে এখন ভাবতে নারাজ। আজকের প্রশ্ন তাদের কাছে একটাই-“এই জল কবে নামবে?” আরও বৃষ্টি নামলে কি আবারও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে? পুজোর দিনগুলিই বা কীভাবে কাটবে? উত্তর এখনও অধরা।


