Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কোন্নগরের প্রাচীন ব্যানার্জি বাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাসে মিশে রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য, শাক্তাচার এবং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া কিছু রীতি (Banerjee Bari Durga Puja)। সাক্ষাৎকারে সপ্তসী ব্যানার্জি জানান, বর্তমান বাড়িতে এই পুজো প্রায় ৬৭ বছরের পুরনো হলেও তাঁদের দুর্গাপুজোর শিকড় আরও বহু বছর আগে, পুরনো বাড়ি কানাইপুরের নবপাড়ায়।

পুরনো বাড়ির শতবর্ষের পুজোর স্মৃতি (Banerjee Bari Durga Puja)
ব্যানার্জি পরিবারের পুরনো বাড়ি ছিল কানাইপুর নবপাড়ায়। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সেই বাড়িতে শতাধিক বছর ধরে দুর্গাপুজো হয়ে আসছিল। সেখানে পূর্ণ শাক্তাচার মেনে পুজোর পাশাপাশি মোষ ও ছাগ বলির রীতিও প্রচলিত ছিল। পরিবারের কাছে থাকা তালপাতার পুঁথি, পুরনো পাণ্ডুলিপি এবং বলিদানের খড়্গ সেই প্রাচীন পুজোর ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। পরবর্তীকালে পরিবারের সদস্যরা বর্তমান ঠিকানায় চলে এলেও পুরনো বাড়িতে পুজো বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক কী কারণে সেই পুজো বন্ধ হয়েছিল, তা পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের কাছেও স্পষ্ট নয়।
কন্যাসন্তানের জন্মে ফের শুরু পুজো (Banerjee Bari Durga Puja)
বর্তমান বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার পিছনে রয়েছে এক বিশেষ পারিবারিক ঘটনা। প্রায় ৬৭ বছর আগে পরিবারের নতুন প্রজন্মের প্রথম সন্তান হিসেবে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে আশ্বিনের গোড়ায় সেই কন্যাসন্তানের জন্মকে কেন্দ্র করেই ফের দেবীর আরাধনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের প্রবীণরা। সপ্তসী ব্যানার্জির কথায়, পরিবারের প্রথম সন্তান কন্যা হওয়াকে শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখেই নতুন বাড়িতে মায়ের পুজো শুরু হয়। সেই থেকেই বর্তমান বাড়িতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে দুর্গোৎসব।

শাক্তাচার, কিন্তু নেই বলিদান (Banerjee Bari Durga Puja)
ব্যানার্জি বাড়ির পুজো শাক্ত মতে হলেও এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, দুর্গাপুজোয় কোনও ধরনের বলিদান হয় না। পরিবারের প্রবীণ সদস্যের গুরুদেবের নির্দেশেই বলিদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে পশুবলি তো নয়ই, সবজি বলির রীতিও এখানে নেই। তবে পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী কালীপুজোয় এখনও পাঁঠাবলির প্রচলন রয়েছে। দুর্গাপুজো ও অন্নপূর্ণা পুজোয় অবশ্য সেই রীতি অনুসরণ করা হয় না।
পুরোহিত নন, পরিবারের সদস্যরাই করেন পুজো
আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, এই বাড়ির দুর্গাপুজোয় বাইরের কোনও পুরোহিতের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করা হয় না। পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের পারিবারিক রীতি মেনে পুজোর বিভিন্ন আচার পালন করেন। নিরামিষ আহার, দেবীর প্রসাদ গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান মেনে চলার রীতি আজও অটুট।

আরও পড়ুন: Puja Ration Package: পুজোয় বড় উপহার, অর্ধেক দামে মিলবে রেশন!
নবমীর কুমারীপুজো থেকে দশমীর মৎস্যমুখ
নবমীতে হয় কুমারীপুজো। পুজোর দিনগুলিতে পরিবারের সদস্যরা নিরামিষ আহার করেন এবং দেবীর প্রসাদকেই প্রধান খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের পর পরিবারের সকলে একত্রিত হয়ে মৎস্যমুখ করেন। এরপর হয় দেবীর বরণ।



