Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আলোর উৎসবে মেতেছে রাজ্যবাসী। দীপাবলী-কালীপুজোয় শক্তির আরাধনার মাতবে বাংলা। তবে জানেন কী, কালীপুজোর রাতে কালী মায়ের পুজোই হয় না কালীঘাটে? কার্তিক অমাবস্যার অন্ধকারে হয় না শ্যামা মায়ের আলাদা কোনও জাঁকজমক করে পুজো (Kalighat)। হয় শুধুই নিত্যপুজো।

দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট মন্দির (Kalighat) হল মহাতীর্থ। যা সতীর একান্ন পীঠের অন্যতম। সতীর ডান পায়ের আঙুল পড়েছিল এই পীঠস্থানে। সেখানে সারা বছর ধরে দেবী দক্ষিণাকালী হিসেবে পূজিতা হলেও দীপান্বিতা অমাবস্যায় তাঁর পুজো ঘিরে থাকে স্বতন্ত্র কিছু আচার-অনুষ্ঠান।

দীপাবলির দিন ভোর থেকেই কালীঘাট মন্দিরে (Kalighat) ভক্তদের ঢল নামে। দিনের সূচনায় নিত্যপুজো এবং দুপুরে দেবীর ‘নিজ ভোগ’ নিবেদনের পর অন্যান্য দিনের মতোই আচার চলে। তবে আসল বৈচিত্র্য দেখা যায় সন্ধ্যা নামার পর।

কালীপুজোর এই পরম পুণ্যতিথিতে মহাতীর্থ কালীঘাটে দেবী কালী কিন্তু ‘কালী’ রূপে পূজিতা হন না। এই রাতে মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী দক্ষিণাকালীকে আরাধনা করা হয় ‘মহালক্ষ্মী’ রূপে।
আরও পড়ুন: Shukra Gochar 2026: শুক্রের নক্ষত্র বদলেই কি ভাগ্যবদল? অক্টোবর-ডিসেম্বরে নজরে তিন রাশি
লোককথা ও ইতিহাস বলে, গঙ্গাপ্রসাদ চক্রবর্তীর আমল থেকেই কালীঘাটে এই রাতে দেবীকে মহালক্ষ্মী রূপে পুজো করার প্রথা প্রচলিত হয়ে আসছে।

সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় আসল আকর্ষণ! (Kalighat)
মন্দিরের (Kalighat) সেবায়েতরা পাটকাঠি জ্বালিয়ে গর্ভগৃহ ও মন্দির প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করেন। খড়ের তৈরি অলক্ষ্মীর পুতুলে আগুন দিয়ে অলক্ষ্মীকে বিদায় জানানো হয়। অশুভ শক্তি দূর হওয়ার পর পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ জল দিয়ে ধোওয়া হয়। পবিত্র মন্দিরে শুরু হয় মহালক্ষ্মী পুজো।
আরও পড়ুন: Kali Puja: থানায় ফিরবে কালীমূর্তি? জগন্নাথের প্রস্তাবে ফিরছে বাংলার পুরনো ঐতিহ্য
দেবীকে নিবেদন করা হয় সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোগ, খই, নাড়ু, মুড়কি, ফল, মিষ্টি আর গরম গরম লুচি-তরকারি। পুজো শেষ হলে শুরু হয় আরতি। আরতি শেষে রাতে আরও এক বার ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে। ‘নিশি ভোগে’ থাকে খিচুড়ি, পোলাও, মাছ এবং পরমান্ন।


