Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে ফের উঠল গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ (BEd College Scam)। রাজ্যের প্রায় ৪৫০টি বিএড কলেজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। একই সঙ্গে গত ১৫ বছরের শিক্ষা দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান প্রকাশ করতে শীঘ্রই ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
৬০২ কলেজে পরিদর্শন, সামনে এল চাঞ্চল্যকর ছবি (BEd College Scam)
জুলাই ও আগস্ট মাসজুড়ে রাজ্যের ৬০২টি বিএড কলেজে বিশেষ পরিদর্শন ও মূল্যায়ন চালানো হয়। ১০৩ নম্বরের মূল্যায়ন কাঠামোয় কলেজগুলির পরিকাঠামো, শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষাদানের পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু সামগ্রিক ফলাফলে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। কলেজগুলির গড় নম্বর মাত্র ৫১.৫ শতাংশ।
৫৩ কলেজের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি! (BEd College Scam)
পরিদর্শনে গিয়ে ৫৩টি কলেজের কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। কোথাও তালা ঝুলছে, আবার কোথাও কলেজের ঠিকানায় চলছে অন্য বাণিজ্যিক কার্যকলাপ। আরও ২৬৫টি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর, অযোগ্য, ভুয়ো অথবা অনুমোদনহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৭টি ক্ষেত্রে আবাসিক বাড়ির ঠিকানায় বিএড কলেজের এনওসি দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। ১২১টি কলেজের পরিকাঠামোর অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ বলে জানানো হয়েছে। ১১৪টি কলেজ ৩০ শতাংশেরও কম নম্বর পেয়েছে।
যোগ্য কলেজ মাত্র ১৫১টি (BEd College Scam)
এই বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে মাত্র ১৫১টি কলেজ পরিকাঠামো, শিক্ষক উপস্থিতি এবং সিসিটিভি-সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা বজায় রেখে ৬৫ থেকে ৮৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। ফলে বিএড শিক্ষার মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
‘না পড়েই ডিগ্রি’ পাওয়ার অভিযোগ (BEd College Scam)
মন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, প্রতি বছর রাজ্য থেকে ৬২ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া বিএড ডিগ্রি পান। কিন্তু বাংলা মাধ্যমের বহু প্রতিষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী রাজ্য এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অ-বাংলাভাষী পড়ুয়ারা নিয়মিত ক্লাস না করেই কীভাবে ডিগ্রি পাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২১ দিনের সময়সীমা, নইলে অনুমোদন বাতিল (BEd College Scam)
অভিযুক্ত ৪৫০টি কলেজকে ২১ দিনের মধ্যে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে সংশ্লিষ্ট কলেজের অনুমোদন বাতিল বা ডি-অ্যাফিলিয়েশনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: Kashmir Tourism: তুষারপাতের সাদা চাদরে বদলে গেল কাশ্মীর, পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট ‘ভূস্বর্গ’
সামনে আসছে ১৫ বছরের ‘শ্বেতপত্র’
শুধু বিএড কলেজ নয়, পলিটেকনিক, আইটিআই এবং ফার্মেসি কলেজ নিয়েও ভুয়ো ডিগ্রি দেওয়ার অভিযোগের কথা জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরের শিক্ষা দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে শীঘ্রই একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। সেই রিপোর্ট বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন কমিশনের কাছেও পাঠানো হবে। ফলে এই তদন্তের পর শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও কী কী অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।



