Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রঞ্জি ট্রফিতে টানা চার জয়ের স্বপ্নে বড় ধাক্কা। মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইডেনে কার্যত কোণঠাসা বাংলা (Bengal Ranji)। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৩ রানে অলআউট হওয়ার পর বোলারদের হাত ধরে ম্যাচে ফেরার আশা দেখেছিল লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল। মহম্মদ শামি, মহম্মদ কাইফ, শাহবাজ আহমেদদের দাপটে মহারাষ্ট্রকে ২১৮ রানে আটকে দিলেও ৭৫ রানের লিড নেয় প্রতিপক্ষ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আরও একবার বিপর্যয়ের মুখে বঙ্গ ব্যাটাররা। তৃতীয় দিনের শেষে ৭৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে বাংলা। লিড মাত্র ১ রানের। ফলে ম্যাচ জেতা তো দূরের কথা, হার এড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ অভিমন্যু ঈশ্বরণদের সামনে।
তবু ৭৫ রানের লিড মহারাষ্ট্রের (Bengal Ranji)
তৃতীয় দিনের খেলা বৃষ্টি ও খারাপ আলোর কারণে নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায়নি। পরে খেলা শুরু হলে আগের দিনের ২০৪/৯ স্কোর নিয়ে ব্যাট করতে নামে মহারাষ্ট্র। শেষ পর্যন্ত আরও ১৪ রান যোগ করে ২১৮ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। প্রদীপ দাধেকে ২৭ রানে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ শামি। প্রথম ইনিংসে ৩৭ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নেন বাংলার অভিজ্ঞ পেসার।
শামির পাশাপাশি বল হাতে নজর কেড়েছেন তাঁর ভাই মহম্মদ কাইফ। তিনটি উইকেট তুলে নেন তিনি। শাহবাজ আহমেদ ও সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালও তিনটি করে উইকেট ভাগ করে নেন। তবে মহারাষ্ট্রের হয়ে তনয় সাঙ্ঘাভির অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংস বাংলার চিন্তা বাড়ায়। শেষ দিকে তাঁর লড়াই এবং শেষ উইকেটে ৬০ রানের জুটিই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান গড়ে দেয়। বাংলার বোলাররা লড়াই করলেও প্রতিপক্ষকে বড় লিড নেওয়া থেকে আটকানো যায়নি।
দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয় (Bengal Ranji)
৭৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল বাংলার সামনে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন বঙ্গ ব্যাটাররা। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ মাত্র ৯ রান করে ফেরেন। সুদীপ ঘরামির ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। সুদীপ চট্টোপাধ্যায় কোনও রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই চালানোর চেষ্টা করেছিলেন অঙ্কুর পাল। কিন্তু দিনের শেষ দিকে ৩২ রান করে তিনিও আউট হয়ে যান। ফলে তৃতীয় দিনের শেষে ৭৬ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলা। প্রথম ইনিংসে ৫৪ রান করা অভিষেক পোড়েল এখনও অপরাজিত রয়েছেন। ম্যাচ বাঁচানোর শেষ আশাটুকু এখন তাঁর ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে।
ম্যাচ বাঁচাতে পোড়েলের ব্যাটেই ভরসা (Bengal Ranji)
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার সামনে কাজটা অত্যন্ত কঠিন। চতুর্থ ইনিংসে মহারাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে হলে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় রান তুলতে হবে বঙ্গ ব্যাটারদের। সেই লক্ষ্য পূরণে অন্তত ১৫০-১৬০ রানের লিড তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু হাতে মাত্র ছয় উইকেট এবং এখনও লিড না বাড়ায় সেই লক্ষ্যে পৌঁছনো সহজ নয়।
অভিষেক পোড়েলকে দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে টিকে থাকতে হবে। পাশাপাশি বাকি ব্যাটারদেরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। দ্রুত উইকেট পড়তে থাকলে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি মহারাষ্ট্রের হাতে চলে যেতে পারে। তাই শেষ দিনে বাংলার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত উইকেট ধরে রাখা এবং যতটা সম্ভব লিড বাড়ানো। ক্রিকেটে অসম্ভব বলে কিছু নেই ঠিকই, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে অসাধারণ ব্যাটিং করতে হবে বঙ্গ ব্রিগেডকে।
প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতাই কি ডোবাচ্ছে বাংলাকে? (Bengal Ranji)
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মহারাষ্ট্র। কিন্তু শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলা। কোনও মতে ১৪৩ রানে শেষ হয়ে যায় প্রথম ইনিংস। তখনই ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল। যদিও বল হাতে শুরুটা ভালোই করেছিলেন শামিরা। প্রথম দিনের শেষে দুই উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছিলেন তাঁরা। দ্বিতীয় দিনেও শাহবাজ আহমেদ স্পিনের জাদুতে তিন উইকেট তুলে নেন।
কিন্তু লাঞ্চের পর তনয় সাঙ্ঘাভি ও রাজবর্ধন হাঙ্গারগেকারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচের ছবি বদলে দেয়। তাঁদের জুটিতে ওঠে ৪২ রান। এরপর শেষ উইকেটে মহারাষ্ট্রের ৬০ রানের জুটি বাংলার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এই রানগুলিই শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দেয়।
শেষ দিনে কঠিন পরীক্ষা বাংলার (Bengal Ranji)
ইডেনে ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই আবহাওয়া বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি এবং খারাপ আলোর কারণে প্রতিদিনই নির্ধারিত সময়ের আগে খেলা বন্ধ করতে হয়েছে (Bengal Ranji)। তৃতীয় দিনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও কিছুটা কমে এসেছে।
শেষ দিনে বাংলার সামনে তাই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ—একদিকে উইকেট বাঁচিয়ে লিড বাড়ানো, অন্যদিকে মহারাষ্ট্রকে ম্যাচ জেতার সুযোগ থেকে দূরে রাখা। টানা চার জয়ের সম্ভাবনা আপাতত কঠিন হলেও ড্র করে এক পয়েন্ট তুলে নেওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে। পুরো পয়েন্ট হারানোর চেয়ে সেই এক পয়েন্টও বাংলার কাছে মূল্যবান হতে পারে।
আরও পড়ুন: MBSG: নিজেকে জিদানের সঙ্গে কেন তুলনা করলেন মোহনবাগান কোচ?
এখন দেখার, শেষ দিনে অভিষেক পোড়েল ও বাংলার বাকি ব্যাটাররা কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন। ব্যাট হাতে বড় লড়াই করতে না পারলে ইডেনে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জয় তো দূরের কথা, ম্যাচ বাঁচানোও কঠিন হয়ে উঠবে বঙ্গ ব্রিগেডের জন্য।



