Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জয়ের হ্যাটট্রিক হয়েছে। সেই সঙ্গে আইএসএলের লিগ টেবিলের শীর্ষেও উঠে এসেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (MBSG)। স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকার কথা সবুজ-মেরুন শিবিরের। কিন্তু শেষ কয়েকটি ম্যাচে দলের পারফরম্যান্স কি আদৌ সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটিয়েছে? বারবার পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ জেতার অভ্যাস এবং গোলের সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। তার উপর দলের খেলার ধরন নিয়ে সমর্থকদের একাংশের সমালোচনাও সামলাতে হচ্ছে কোচ ডিলমপেরিসকে। তবে সমালোচনায় বিচলিত নন তিনি। বরং উদাহরণ হিসেবে টেনে এনেছেন জিনেদিন জিদানের নাম। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচে অবশ্য যাবতীয় আলোচনার ঊর্ধ্বে তাঁর কাছে একটাই লক্ষ্য—তিন পয়েন্ট।
শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল (MBSG)
সাম্প্রতিক ম্যাচগুলিতে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে মোহনবাগান। কিন্তু বারবার প্রতিপক্ষকে প্রথমে গোল করার সুযোগ দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে নারাজ কোচ। তাঁর মতে, ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আরও সতর্ক, আগ্রাসী এবং মনোযোগী ফুটবল খেলতে হবে ফুটবলারদের। শুধু প্রথমার্ধের শুরু নয়, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও সেই তীব্রতা বজায় রাখা জরুরি।
বিশেষ করে ঘরের মাঠে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করতে চায় সবুজ-মেরুন। দ্রুত গোল পেলে প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক কৌশল ভেঙে দেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন কোচ। তাই শুরু থেকেই গোলের সুযোগ তৈরি করে প্রতিপক্ষকে নিজেদের রক্ষণাত্মক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করাই তাঁর পরিকল্পনা।
সাহাল-আপুইয়ার চোট (MBSG)
ওড়িশা ম্যাচের আগে মোহনবাগানের অন্যতম বড় উদ্বেগ মাঝমাঠের ফুটবলারদের চোট। সাহালের অনুপস্থিতি দলের আক্রমণ তৈরির পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বলের দখল রাখা, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সাহালের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, আপুইয়াও এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। ফলে মাঝমাঠে বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন দিমপেরিস। দুই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা ‘ডবল এইট’ নিয়ে কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি কোচ। সাহাল ও আপুইয়ার ফিটনেসের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই প্রথম একাদশ সাজাতে হতে পারে তাঁকে।
তবে স্বস্তির খবর, জেমি ম্যাকলারেন আবার দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। আসন্ন ম্যাচের স্কোয়াডে তাঁকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী কোচ। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের বারবার চোট পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রতিপক্ষের ট্যাকল এবং রেফারির সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ডিলমপেরিস। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলাররা চোট পেলে গোটা দলের পরিকল্পনাই ধাক্কা খায়।
গোলের সুযোগ নষ্ট করাই বড় সমস্যা (MBSG)
পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জিতলেও দলের আক্রমণভাগের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন মোহনবাগান কোচ। দ্বিতীয়ার্ধে একাধিকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফুটবলাররা। তাই অনুশীলনে ফিনিশিং এবং গোলের সামনে মনোযোগ ধরে রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কোচের মতে, কয়েকজন ফুটবলারের গোল করার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাইরের সমালোচনা এবং প্রত্যাশার চাপও তাঁদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ফুটবলারদের স্বাভাবিক খেলায় ফিরে যাওয়ার এবং গোলের সুযোগ পেলে আরও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সমালোচনায় জিদানের উদাহরণ (MBSG)
দল জিতলেও কোচের কৌশল এবং ফুটবলের ধরন নিয়ে সমর্থকদের একাংশের সমালোচনা থামছে না। সেই প্রসঙ্গে দিমপেরিসের বক্তব্য, সমর্থক এবং সাংবাদিকদের নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে দলের উন্নতির জন্য তিনি প্রতিদিন সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে চলেছেন।
নিজের ভুলত্রুটির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি মোহনবাগান কোচ। তাঁর মতে, প্রতিটি ম্যাচের আগে কোচকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু সব সিদ্ধান্ত যে সঠিক হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এই প্রসঙ্গেই জিনেদিন জিদানের উদাহরণ টেনে আনেন তিনি।
তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পরেও রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ ছাড়তে হয়েছিল জিদানকে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দিমপেরিসের বক্তব্যের সারমর্ম, এত সাফল্যের পরেও যদি জিদানকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তা হলে সমালোচনা এবং ফলাফলের চাপ তাঁর কাছেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি।
জেসাস দে মিগুয়েলের মৃত্যুতে শোক (MBSG)
স্প্যানিশ ফুটবলার জেসাস দে মিগুয়েলের মাঠে সংঘর্ষের পর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মোহনবাগান কোচ। একজন প্রাক্তন গোলকিপার হিসেবে মাঠে এমন দুর্ঘটনার গুরুত্ব তিনি বোঝেন বলেও জানিয়েছেন।
তাঁর মতে, ফুটবল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু জীবনের চেয়ে বড় নয়। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই, তবে সেই লড়াইয়ে খেলাটাকে উপভোগ করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলা উচিত নয়। মাঠের বাইরে প্রত্যেক ফুটবলারের জন্য তাঁর পরিবার অপেক্ষা করে—সেই বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।
সমর্থকদের উদ্দেশেও হিংসা এবং সংঘর্ষ থেকে দূরে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। ফুটবলকে ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও মারামারি বা হিংসার কোনও জায়গা নেই বলেই মনে করেন ডিলমপেরিস।
তিন পয়েন্টই একমাত্র লক্ষ্য (MBSG)
আইএসএলে এখনও জয়ের মুখ না দেখা ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচে গোলের ব্যবধান বাড়ানোর চেয়ে তিন পয়েন্ট অর্জনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মোহনবাগান কোচ (MBSG)। তাঁর মতে, মরসুমের শেষে দল যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তা হলে কোনও একটি ম্যাচে কত গোল হয়েছিল, সেই পরিসংখ্যান খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে না।
তাই প্রতিপক্ষের সাম্প্রতিক ফলাফল দেখে আত্মতুষ্ট হতে নারাজ সবুজ-মেরুন শিবির। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে এই ম্যাচে জয় পেলে লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার সুযোগ থাকবে মোহনবাগানের সামনে।
আরও পড়ুন: Sachin Tendulkar: শচীনের প্রিয় অধিনায়কের তালিকায় সৌরভ-ধোনি, তৃতীয় নামটি কি চমকে দেবে?
জয় ধরে রেখেই পারফরম্যান্সে উন্নতি (MBSG)
ওড়িশার বিরুদ্ধে মোহনবাগানের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা, সাহালের অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠের সৃজনশীলতা বজায় রাখা, রক্ষণে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানো—সবকিছুর উপরই নজর থাকবে কোচের।
টানা তিন জয়ের আত্মবিশ্বাস যেমন দলের শক্তি, তেমনই বারবার পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা সংশোধন করাও জরুরি। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে তাই শুধু জয় নয়, আরও নিয়ন্ত্রিত, ধারাবাহিক এবং কার্যকর ফুটবল উপহার দেওয়াই দিমপেরিসের মোহনবাগানের কাছে বড় পরীক্ষা।



