Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বৃষ্টিতে জলমগ্ন তিলোত্তমা । বিপর্যস্ত টেলিভিশন ধারাবাহিকের শুটিং (Bengali Serial)। পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। টানা ভারি বর্ষণের ফলে কলকাতা ও আশেপাশের এলাকায় কার্যত জলবন্দি অবস্থা। এর প্রভাব পড়েছে টেলিভিশন ধারাবাহিকগুলোর শুটিংয়েও। একের পর এক ধারাবাহিকের কলটাইম পিছোচ্ছে, কেউ কেউ শুটিং বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ জল কেটে, বাধা পেরিয়ে ফ্লোরে পৌঁছানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখল ট্রাইব টিভি।

বড়সড় ক্ষতির মুখে ইন্ডাস্ট্রি! (Bengali Serial)
‘তুই আমার হিরো’ ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্র মোহনা মাইতি (Mohona Maiti) বাইকে করে বাবার সঙ্গে শুটিংয়ে পৌঁছেছেন, কিন্তু তাঁর পথ ছিল বেশ কঠিন । রাস্তার অনেকটাই ছিল জলে ডুবে। অন্যদিকে, অভিনেত্রী অরিজিতা মুখোপাধ্যায় (Arijita Mukhopadhyay) জানিয়েছেন, তাঁর বাড়ির সামনে কোমর পর্যন্ত জল। যদিও ভোররাতে জল কমে হাঁটু পর্যন্ত হয়, তবুও শুটিং ফ্লোরে পৌঁছতে তাঁকে পড়তে হয়েছে নানা সমস্যায়। প্রোডাকশন হাউজ থেকে গাড়ি পাঠানো হলেও, সেই গাড়িতে পৌঁছাতে তাকে হাঁটু জলে হাঁটতে হয়েছে। এছাড়া, তাঁর বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই, ফোনে চার্জও নেই , যার ফলে যোগাযোগ করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, পুজোর আগেই এই ধরনের বিপর্যয়ে বড় ক্ষতি হয়ে গেল ইন্ডাস্ট্রির।

অভিনেত্রী খেয়ালী কীভাবে পৌঁছালেন? (Bengali Serial)
‘পুতুল টিটিপি’ ধারাবাহিকের নায়িকা খেয়ালী মন্ডল (Kheyali Mondal) জানান, তাঁর বাড়ির সামনেও ছিল হাঁটু জল। তিনি কিছুটা হেঁটে রিক্সা করে এসে, তারপর প্রোডাকশনের গাড়িতে করে ফ্লোরে পৌঁছেছেন। শুটিং ফ্লোর এন টি ওয়ান-এ জল না জমলেও, অনেক কলাকুশলী সময়মত পৌঁছাতে পারেননি। যাঁরা এসেছেন, তাঁরা ধীরে ধীরে মেকআপ ও পোশাকে তৈরি হচ্ছেন ক্যামেরার সামনে আসার জন্য।
অভিনেত্রী মনীষা কীভাবে পৌঁছালেন? (Bengali Serial)
অন্যদিকে, অভিনেত্রী মনীষা মন্ডল বাঁশদ্রোনিতে থাকেন। তিনি জানান, তাঁর এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে যায়। আর এমন বৃষ্টিতে তো জল জমবে। সকাল ৭টায় কল থাকলেও, ওই জলমগ্ন অবস্থায় তাকে হেঁটে, রিকশা, অটো মিলিয়ে চারবার যানবাহন বদল করে শুটিং ফ্লোরে পৌঁছাতে হয়েছে। প্রতিদিন যেখানে উবার বা র্যাপিডো করে আসা সম্ভব হয়, সেই সব কিছুই বন্ধ ছিল। তিনি ‘রাঙ্গামতি তীরন্দাজ’ ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন। সকাল ৭টায় কল টাইম থাকলেও, শুটিং শুরু হয়েছে সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে। জল জমে যাওয়ায় সেটও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনুরাগের ছোঁয়া ধারাবাহিকেও একই চিত্র। ফলে শুটিংয়ের টাইম পিছিয়ে দিতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে অভিনেতা রাহুল মজুমদারের (Rahul Mazumdar) কাছে থেকে।
টেকনিশিয়ানদের প্রশংসা করা (Bengali Serial)
‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের নায়ক সোমরাজ মাইতি (Somraj Maity) গাড়িতে করে এলেও, ফ্লোরে পৌঁছাতে তাঁর সময় লেগেছে প্রায় দুই ঘণ্টা। তিনি বিশেষ ভাবে টেকনিশিয়ানদের প্রশংসা করেন, যাঁরা এত খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও ভারী ক্যামেরা ও সরঞ্জাম নিয়ে ফ্লোরে হাজির হয়েছেন। সোমরাজ বলেন, “টেকনিশিয়ানরা জানেন প্রোডাকশনের ক্ষতি মানেই তাঁদের ক্ষতি। কাজের প্রতি এদের দায়বদ্ধতা সত্যিই প্রশংসনীয়।” তিনি আরও জানান, কল টাইম সকাল ৮টা হলেও, অনেকে ভোর ৫টায় বেরিয়ে পড়েছেন শুটিংয়ে ঠিক সময়ে পৌঁছানোর জন্য।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর দায় সিইএসসি-কেই নিতে হবে, বললেন মুখ্য়মন্ত্রী!
দেরিতে কাজ শুরু (Bengali Serial)
বর্তমানে ‘দাদামণি’ ও ‘আনন্দী’ ধারাবাহিকের শুটিং পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ‘জোয়ার ভাঁটা’, ‘কনে দেখা আলো’, ‘জগদ্ধাত্রী’, ‘পরিণীতা’, ‘কুসুম’, ‘তুই আমার হিরো’, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, ‘ফুলকি’ এই সব ধারাবাহিকের শুটিং শুরু হয়েছে। যদিও নির্ধারিত সময়ের থেকে অনেক দেরিতে।
সবমিলিয়ে পুজোর মুখে বৃষ্টি , বড় রকমের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলার টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য। কলাকুশলীরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে শুটিং চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু এই দুর্যোগ কতদিন চলবে , তা নিয়ে রয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা।



