Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রবিবারের সকাল শুরু হল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়ে (Bihar Road Accident)। বিহারের রাজধানী পাটনার উপকণ্ঠে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ছ’জন মানুষ, যার মধ্যে রয়েছে দুই নিষ্পাপ শিশু। একটি যাত্রীবোঝাই অটোরিকশা ও বালি বোঝাই লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তের মধ্যেই তছনছ হয়ে যায় একাধিক পরিবারের স্বপ্ন।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা (Bihar Road Accident)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালবেলা পাটনার বিহতা থানা এলাকার কোইলওয়ার ব্রিজের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি বালি বোঝাই ট্রাক দ্রুতগতিতে আসার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবোঝাই অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রবল ধাক্কায় অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
নিহতদের পরিচয় (Bihar Road Accident)
এই দুর্ঘটনায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই বিহারের ভোজপুর জেলার আরা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের নাম, গুড্ডু (৩০), ইমতিয়াজ (৩০), আসাদ খান (২৫), শেহজাদ (২২), শাফান (৩ বছর), আলফি (১.৫ বছর) বিশেষভাবে মর্মান্তিক বিষয় হল, নিহতদের মধ্যে থাকা দুই শিশুর বয়স ছিল মাত্র কয়েক বছর। মুহূর্তের মধ্যেই নিভে গেল তাদের ছোট্ট জীবন।

মেলা দেখে ফেরার পথেই বিপর্যয় (Bihar Road Accident)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতেরা সকলেই মানের দরগা এলাকায় একটি মেলা দেখে ফেরার পথে ছিলেন। উৎসবের আনন্দ নিয়ে ঘরে ফেরার সময়ই মৃত্যু এসে দাঁড়ায় তাঁদের সামনে। আনন্দঘন মুহূর্ত যে এভাবে শোকের ছায়ায় ঢেকে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
আহতদের অবস্থা ও উদ্ধারকাজ (Bihar Road Accident)
দুর্ঘটনায় আরও দু’জন গুরুতর আহত হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেই পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। আহত তিন জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসা চলাকালীন আরও একজনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: Content Creator Lab: চাকরির গণ্ডি ভেঙে জেন জির ভবিষ্যৎ গড়ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন!
তদন্তের অগ্রগতি
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় জড়িত লরিটিকে আটক করা হলেও চালক ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা লরির চালককে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।



