Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ বিতর্ক তুঙ্গে! (BJP Sayantan Bosu) তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগে দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ পদ্মশিবিরের অন্দরেই। বিজেপিতে কী আর কোনও যোগ্য প্রার্থী ছিল না? তৃণমূল থেকে প্রার্থী করতে হল? সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বিজেপি সমর্থকেরা। এই নিয়ে বিতর্কের আবহে কে টিভি বাংলাকে কী জানালেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু?
কুচকুচে সাদা ধবধবে কালো, তাহলে তৃণমূলেও কী আছে ভালো? (BJP Sayantan Bosu)
তৃণমূল কংগ্রেসে কেউ ভালো থাকতে পারে, খারাপও (BJP Sayantan Bosu) থাকতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক দলটা খারাপ। ব্রিটিশরা যখন ভারত শাসন করত তখন লর্ড ক্লাইভ ও ওয়ারেন হেস্টিংসের মত শাসকরাও ছিল, লর্ড বেন্টিঙ্কের মত জেনারেলও ছিলেন। বেন্টিঙ্ককে আমরা সম্মান করেছি, ক্লাইভকে তো করিনি। ভালো খারাপ মিশিয়েই সব দল হয়। কিন্তু তৃণমূলে তো একটাই পোস্ট আর বাকি ল্যাম্পপোস্ট ছিল। কালীঘাট যা বলত তাই হত। মোঘল সাম্রাজ্য যেমন ভালো ছিল না খারাপ ছিল বলে লাভ নেই, তেমন তৃণমূল দলটাও আজ আর নেই। এই প্রশ্ন এখন অযৌক্তিক, সাফ জানালেন সায়ন্তন বসু।
বিধানসভা নির্বাচনের পর শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন বিজেপির (BJP Sayantan Bosu) তৃণমূলীকরণ হতে দেবেন না। কিন্তু তার হাত ধরেই তিন এক্স তৃণমূলীর যোগ বিজেপিতে। বিজেপির নিচু তলার কর্মীদের কাছে কী ভুল বার্তা গেল না?
যাওয়া উচিত নয়। কারণ এই তিন জনের যোগদানের সঙ্গে অন্য নেতাদের যোগদানকে গুলিয়ে ফেলা চলবে না। এনারা তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন, এরা তো ফ্লোরে থেকে ক্রস ভোটিং করতে পারতেন না। এরা এখন বিজেপির হয়েই ভোট দেবেন। তাই দোষের কিছু দেখছি না। এনাদের মেয়াদ আর ৩ বছর আছে। এরা তাই বাকি বছরগুলি বিজেপির পক্ষে ভোট দেবেন। আমি প্রকাশ চিক বড়াইককে জানিনা, সুখেন্দু বাবুর সঙ্গে আমার পুরোনো পরিচয়, ওনার বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই, বাকি সুস্মিতা দেব, ব্যক্তিগত ভাবে আমি এনাদের পক্ষে খারাপ কিছু শুনিনি।
বিজেপিতে কী আর যোগ্য প্রার্থী ছিল না, তৃণমূলের লোকেদেরই প্রার্থী করতে হল? (BJP Sayantan Bosu)
আরও যোগ্য লোকেদের আরও ভালো জায়গা দেওয়া হবে। রাজ্যসভাটাই যে চূড়ান্ত তা তো নয়। তাদের আরও বিভিন্ন কাজে লাগানো হবে ,রাজ্যসভার সাংসদটা আরও লক্ষ্য নয়, বাংলাকে সোনার বাংলা বানানোই লক্ষ্য। বহুজনের যোগদানের প্রয়োজন। বিভিন্ন জন বিভিন্ন কাজ করবেন। তাই এই তিন জনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠি হবে, বাকিদের ক্ষেত্রে হবে না তা তো নয়।
সুকান্ত মজুমদার প্ৰকাশ চিক বড়াইককে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে গরু চোর, বালি চোর বলেছেন, তাকেই তো প্রার্থী করছে বিজেপি!
এরকম রাজনীতিতে হয়। তদন্ত হোক, যদি প্রকাশের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়, বাকিদের যা ব্যবস্থা হয়েছে, এই ক্ষেত্রেও তাই হবে। আমি ওনার সম্পর্কে খুব বেশি জানিনা।
আরও পড়ুন: Annapurna Yojana Money: ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স দেখে চক্ষু চড়ক গাছ! অ্যাকাউন্টে ৭৪১ কোটি টাকা!
তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সব জেনেও তো এরা কেউ মুখ খোলেনি! তারাই আজ বিজেপিতে?
তিনি আরও বলেছেন, “এদের বিরুদ্ধে আমরা (BJP Sayantan Bosu) কোনও অভিযোগ শুনিনি। দলের বিরুদ্ধে সব জেনেই তো সুখেন্দু বাবু পদত্যাগ করেছেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি তো নেহেরু মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। ভারতীয় জনসঙ্ঘ যে তিনি করলেন, তাহলে কী সেটা করা খুব ভুল হল সেদিন? এক দল থেকে অন্য দলে মানুষ যাবেন এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। তাদের বিরুদ্ধে যদি বড় কোনও দুর্নীতির অভিযোগ না থাকে তাহলে ঠিক আছে। তারা তো আগেই সাংসদ ছিলেন, তারা এই দলেও সেই পদে বহাল হয়েছেন। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত। আমার মনে হয় কর্যকর্তা ও কর্মীদের এটা মেনে নেওয়া উচিত। তারা মেনেও নেবেন, বাস্তবটা উপলব্ধি করে মানতে হবে।”


