Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রততী সরকার: বাঙালিদের সঙ্গে কালাজাদুর এক বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে (Black Magic)। কালাজাদু শব্দটির কথা কম বেশি সবাই জানে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বাঙালিরা যে ভালোই কালাজাদু করতে পারে তা বিভিন্নভাবে দেখানো হয়েছে। লাল কাপড়ে জড়ানো মাথার খুলি, হাড় দিয়ে তন্ত্র-মন্ত্র করতে দেখা যায় অনেক সিনেমাতে। বিভিন্ন রকম গল্পের বইতেও রয়েছে এই কালাজাদুর কথা। বাঙালিরা কালাজাদু করতে পারে কি, পারেনা, তা নিয়ে বির্তক থাকলেও বাংলায় যে কালাজাদুর একটা রেওয়াজ আছে, এ নিয়ে অস্বীকার করার জায়গা নেই।
মায়ং- কালাজাদুর রাজধানী (Black Magic)
ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের অসমের ছোট্ট একটি গ্রাম হল মায়ং। গুয়াহাটি শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে অবস্থিত মরিগাঁও জেলার একটি গ্রাম এই মায়ং। সংস্কৃত শব্দ “মায়া” থেকে মায়ং নামটি এসেছে। তবে অনেকের মতে এখানে একসময় বসবাস করত মাইবং বা মিয়ং জনগোষ্ঠী। এদের নামেই এই গ্রামের নাম হয় ‘মায়ং’। গ্রামের নামের পাশাপাশি গ্রামটি নিয়েও রয়েছে প্রচুর রহস্য। লোকমুখে শোনা যায়, প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল তন্ত্রসাধনা, মন্ত্র এবং জাদুবিদ্যার জন্য প্রসিদ্ধ (Black Magic)।
মায়ংয়ের রহস্য (Black Magic)
মায়ংকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছে হাজারও রহস্য। মানুষের হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়া, পশুতে পরিণত হওয়া, চোর ধরা, অন্যকে বশে নেওয়া, এরম অনেক গল্প প্রচলিত আছে মায়ংয়ের মানুষের মনে। যার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি কেউই। তবে সব কিছুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আসলেই থাকে না। এরা বেঁচে থাকে মানুষের বিশ্বাসে, মনে এবং তাদের গল্পে। জানা যায়, এখানে এখনও সংরক্ষিত রয়েছে সাঁচিপাত ও তাল পাতায় লেখা বহু পুরানো পাণ্ডুলিপি। মায়ংয়ের আরও একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, তার ভেষজ চিকিৎসা। মায়ং একটি সবুজে ভরা গ্রাম। যেখানে প্রতিটি গাছের মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন রহস্য। এখানে বহু প্রজন্ম ধরে বন থেকে গাছগাছালি সংগ্রহ করে চিকিৎসা করেন গ্রামের মানুষেরা। চিকিৎসা ছাড়াও বিভিন্ন রকম কালাজাদু করতে তারা ব্যবহার করেন এই গাছগাছালি। এই কালাজাদু বিদ্যা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার এই জাদুবিদ্যার সাথে জড়িত বলেই মানা হয়।
আরও পড়ুন: Kashmir Tourism: তুষারপাতের সাদা চাদরে বদলে গেল কাশ্মীর, পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট ‘ভূস্বর্গ
মায়ংয়ের ভবিষ্যৎ
এই প্রজন্মের অনেকেই পারিবারিকসূত্রে এই জাদুবিদ্যা শিখেছেন। তবে অনেক ব্যবহৃত মন্ত্র এখন বিলুপ্তির পথে। অনেক বয়স্ক মানুষের কাছে পুরানো পাণ্ডুলিপি থাকলেও, তাঁরা সেগুলো প্রকাশ করেন না। তাঁদের বিশ্বাস, এসব প্রকাশ করা হলে সেই মন্ত্রের শক্তি কমে যায়। মায়ংয়ের লোকজনরা সচরাচর বাইরের মানুষদের তাদের গ্রামে ঢুকতে দেন না বা ঢুকতে দিলেও তাঁরা তাদের মন্ত্র কারও সাথে শেয়ার করেন না। তবে আজকাল অনেক তান্ত্রিকরা মায়ংয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন বিভিন্নরকম কালাজাদু শিখতে বা কাজ করতে।



