Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একটি সুখী পরিবারের ছবি দিয়ে শুরু হয় ‘গান্ধারী’। ট্রেনের কামরায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ছোট্ট মেয়ে, হাতে তার প্রিয় বড় পুতুল সবকিছুই যেন স্বাভাবিক (Gandhari)। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি। ট্রেন থেকে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায় মেয়েটি। অসহায় বাবা-মা বাণী (তাপসী পান্নু) ও গোকুল (ইশওয়াক সিং) ছুটে যান পুলিশের কাছে। কিন্তু কাল্পনিক বাংলার ছোট শহর জয়পুরায় প্রশাসনের উদাসীনতা তাঁদের সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
চেনা গল্প, চেনা অন্ধকার (Gandhari)
শিশু পাচারকে কেন্দ্র করে তৈরি ‘গান্ধারী’র মূল গল্পটি অত্যন্ত পরিচিত। শিশুদের নিয়ে পাচারচক্র, রহস্যময় কিছু চরিত্র এবং সেই অন্ধকার জগতের বিরুদ্ধে এক মায়ের লড়াই—এই উপাদানগুলি ওয়েব সিরিজ ও সিনেমায় বহুবার দেখা হয়েছে। ফলে গল্পের শুরুতেই দর্শক সহজেই আঁচ করতে পারেন, কোন পথে এগোবে কাহিনি। নির্মাতারা স্থানীয় লোকবিশ্বাস, মেলা, রঙিন শোভাযাত্রা এবং পৌরাণিক প্রতীকের ব্যবহার করলেও তা গল্পে প্রত্যাশিত গভীরতা তৈরি করতে পারেনি।
তাপসী পান্নুর কাঁধে গোটা ছবি (Gandhari)
বাণী চরিত্রে তাপসী পান্নুই ছবির প্রধান চালিকাশক্তি। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে তাঁকে এক মরিয়া যোদ্ধায় পরিণত করে। ‘মায়ের চেয়ে বড় যোদ্ধা কেউ হয় না’—এই ভাবনাই ছবির মূল বক্তব্য। কিন্তু চরিত্রটির আবেগকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরার সুযোগ থাকলেও চিত্রনাট্য অনেক সময় অতিরঞ্জনের পথে চলে গিয়েছে।
তারকার ভিড়, তবু প্রভাব কম (Gandhari)
ইশওয়াক সিং, জটিন সরনা, মিতা বশিষ্ঠ, স্বস্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, ছায়া কদম, চন্দন রায় ও প্রশান্ত নারায়ণ—প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে অভিনয় করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ পার্শ্বচরিত্রই যেন মূল গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যন্ত্রমাত্র। চৌমুখী দেবী, মগ্রাসুর কিংবা মুখোশধারী বহুরূপীদের মতো প্রতীকী উপাদানও ছবিকে আলাদা মাত্রা দেওয়ার বদলে অনেক সময় কৃত্রিম বলে মনে হয়েছে।
আরও পড়ুন: Kashmir Tourism: তুষারপাতের সাদা চাদরে বদলে গেল কাশ্মীর, পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট ‘ভূস্বর্গ’
শেষ পর্যন্ত কোথায় খামতি?
পরিচালক দেবাশিস মাখিজা এবং লেখিকা কণিকা ধিলোঁর মতো প্রতিভাবান নির্মাতাদের কাছ থেকে ‘গান্ধারী’ আরও শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য কিছু প্রত্যাশা করাই স্বাভাবিক। কিন্তু দুর্বল চিত্রনাট্য, অতিরিক্ত পরিচিত গল্প এবং কৃত্রিম উত্তেজনা ছবির সম্ভাবনাকে বারবার থামিয়ে দিয়েছে। ফলে মায়ের আবেগ ও লড়াই থাকলেও তা দর্শকের মনে গভীর দাগ কাটতে পারে না।



