Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কেটিভি বাংলা ডিজিটাল: অনন্যা দে: বিধানসভার বিরোধী (Calcutta High Court) দলনেতা নির্বাচন নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় চূড়ান্ত শুনানি শেষ। রায়দান স্থগিত রাখল বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ। ভরা এজলাসে প্রয়াত সিপিআইএম সাংসদ তথা লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রশংসাও শোনা গেল আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়!
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি (Calcutta High Court)
বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Calcutta High Court) বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। অথচ, তৃণমূল কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারকে পাঠানো হয়। তারপরই তৃণমূলের সেই রেজেলিউশনে দলের বিধায়কদের সেই জাল করার অভিযোগ তোলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে যায় তৃণমূল। দলের জয়ী অধিকাংশ বিধায়ক বিক্ষুব্ধ ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন। এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে পাল্টা স্পিকারের কাছে প্রস্তাব করে ঋতব্রত শিবির। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবিরের প্রস্তাবকে মান্যতা দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন।
হাইকোর্টে মামলা দায়ের শোভনদেবের (Calcutta High Court)
স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর (Calcutta High Court) এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গত ৮ জুন কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ শুনানির পর গত ১৭ জুন এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি হয় এবং রায়দান স্থগিত রাখেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ। গত ১৮ জুন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এই মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজনীয়তা দেখছে না আদালত। এবং মামলাকারী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের যে আবেদন করেছিলেন, তাও খারিজ করে দেন বিচারপতি। এবং গোটা বিষয়টা নিয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে স্পিকার এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার মান্যতা দেওয়ার স্পিকারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
ডিভিশন বেঞ্চের দারস্থ হন শোভনদেব (Calcutta High Court)
কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের এই (Calcutta High Court) নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে গত ১৯ জুন ডিভিশন বেঞ্চের দারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চে শুক্রবার সেই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। তবে রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে।
শুনানিতে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে বিরোধী দলনেতার (Calcutta High Court) নাম প্রস্তাবের আবেদনপত্র পৌঁছনোর সময় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি শম্পা সরকার। স্পিকারের আইনজীবী তথা রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্লদ্বল ভট্টাচার্য্য আদালতকে জানান, গত ৯ মে প্রথম চিঠি জমা পড়লেও তখন স্পিকার নির্বাচিত হননি। ১৫ মে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯ মে আর একটি চিঠি তাঁর কাছে পৌঁছয়। পরে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্রের ভিত্তিতেই ৩ জুন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন স্পিকার। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে দাবি করেন, দলের চেয়ারম্যান বিধানসভার সদস্য না হওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের মতামতই স্পিকারের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল। ৫৮ জন বিধায়ক স্বাক্ষর করে তাঁদের বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সেটা মানা ছাড়া অধ্যক্ষের কাছে কোনও বিকল্প পথ ছিল না।’
বিচারপতি শম্পা সরকার তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘এটা বিধানসভার ডিবেট সংক্রান্ত বিষয় নয়। তাই এই সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপ করার জায়গা আছে। এক পক্ষ ক্ষমতাবান, আরেক পক্ষ ক্ষমতাহীন। কিন্তু তাঁরা সকলেই একই দলের। এই অবস্থায় স্পিকার আর কী করতে পারে?’
আরও পড়ুন : Bankura: বাঁকুড়ায় শিল্পায়নের জোয়ার, শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের শিলান্যাস শুভেন্দুর
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবীর অভিযোগ (Calcutta High Court)
মামলাকারী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, গত ১৯ মে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জমা পড়া দ্বিতীয় চিঠিটিকে কার্যত উপেক্ষা করে, কাউকে কিছু না জানিয়ে স্পিকার নিজের ঘরে বসেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা বিধানসভার প্রচলিত রীতির পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আইনসভার কক্ষেই নেওয়া উচিত ছিল।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রশংসা
এদিন সওয়ালের সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত সিপিআইএম সাংসদ তথা লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের নিরপেক্ষ ভূমিকারও প্রশংসা করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নিরপেক্ষতা কাকে বলে, তা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে দেখে শেখা উচিত। একইসঙ্গে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে স্থগিতাদেশ এবং স্পিকারের সিদ্ধান্ত বাতিলের আবেদন জানান। এদিন মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ।এখন দেখার, সিঙ্গল বেঞ্চের সিদ্ধান্ত ডিভিশন বেঞ্চ বহাল রাখে, না কি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদন মেনে অন্য কোনও নির্দেশ দেয়। এই রায়েই নির্ধারিত হয়ে যাবে বিরোধীদলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ।


