Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার নতুন হামলা হলে ভেতরের বিকিরণ-নিরোধক আশ্রয়কেন্দ্র ভেঙে পড়তে পারে, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন সাইটটির পরিচালক সের্গি তারাকানোভ(Chernobyl)। সংবাদসংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সামান্য কাছাকাছি আঘাতও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রাশিয়ার একাধিক নিশানায় চেরনোবিল (Chernobyl)
ইউক্রেনের অভিযোগ, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়া একাধিকবার চেরনোবিলকে নিশানা করেছে। কিভের উত্তরে অবস্থিত এই কেন্দ্রেই ১৯৮৬ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটে।
রুশ হামলায় বিপজ্জনক ক্ষতি (Chernobyl)
চলতি বছরের শুরুতে এক রুশ হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত রিঅ্যাক্টরকে ঘিরে থাকা বাইরের বিকিরণ-শেল ভেদ করে বড় একটি গর্ত তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) তখন জানায়, কাঠামোটি তার “প্রাথমিক নিরাপত্তা কার্যকারিতা” হারিয়েছে। তারাকানোভ বলেন, এই ক্ষতি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
ক্ষেপনাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় ধ্বংস হতে পারে কেন্দ্র
তার ভাষায়, “যদি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন সরাসরি আঘাত করে, বা কাছাকাছি পড়ে তাহলে এলাকায় ছোটখাট ভূমিকম্পের মতো কম্পন হবে। এর পর আশ্রয়কেন্দ্রটি দাঁড়িয়ে থাকবে এ নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না।” রাশিয়ার স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্কান্দারে বাঙ্কার-ভেদী ওয়ারহেডও বসানো যায়।
দুই স্তরের সুরক্ষায় আবদ্ধ রিঅ্যাক্টর (Chernobyl)
বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত রিঅ্যাক্টরটি দুই স্তরের সুরক্ষায় আবদ্ধ। ভেতরের কাঠামো ‘সারকোফাগাস’ ১৯৮৬ সালের পর তড়িঘড়ি করে স্টিল ও কংক্রিটে তৈরি। এর ওপর রয়েছে আধুনিক স্টিল শেল ‘নিউ সেফ কনফাইনমেন্ট’ (এনএসসি), যা বিকিরণ ছড়ানো রোধের জন্য নকশা করা। ফেব্রুয়ারিতে রুশ ড্রোন হামলায় এনএসসির ছাদ ফেটে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আরও পড়ুন: Panettone: বড়দিনে ইতালির হেঁশেল মাতায় সুগন্ধি প্যানেটোনে
পুনরুদ্ধারে অন্তত তিন থেকে চার বছর (Chernobyl)
তারাকানোভ জানান, এনএসসি তার একাধিক প্রধান কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং এগুলো পুনরুদ্ধারে অন্তত তিন থেকে চার বছর লাগবে। আইএইএ নিশ্চিত করেছে, আশ্রয়কেন্দ্রটি বিকিরণ আটকানোর সক্ষমতা হারিয়েছে, যদিও ভারবহন কাঠামো ও নজরদারি ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বর্তমানে বিকিরণ মাত্রা স্বাভাবিক সীমায় আছে। বড় গর্তটি ঢেকে দেওয়া হলেও অগ্নিনির্বাপণের সময় করা প্রায় ৩০০টি ছোট গর্ত এখনও মেরামতের অপেক্ষায়। যুদ্ধের শুরুতে রুশ বাহিনী অল্প সময়ের জন্য চেরনোবিল দখল করেছিল, পরে সেখান থেকে সরে যায়।



