Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয় যে সাহসিকতার সঙ্গে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন (Child Marriage), তা সমাজ সংস্কারের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টা শুধু আইনগত পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সমাজের অন্ধকারাচ্ছন্ন চিন্তাধারাকে ভেঙে দিয়ে নারীশিক্ষার পথ উন্মুক্ত করার লক্ষ্যেও ছিল তাঁর সংগ্রাম। তৎকালীন সময়ে নারীরা ছিলেন দ্বিগুণ শৃঙ্খলে আবদ্ধ একদিকে ছিল ব্রিটিশ শাসনের দাসত্ব, অন্যদিকে ছিল সমাজের কুসংস্কার। বিদ্যাসাগরের উদ্যোগেই সমাজ অনেকাংশে মুক্তি পেয়েছিল বাল্যবিবাহের অমানবিক বন্ধন থেকে।
নতুন রূপে পুরনো কুপ্রথা (Child Marriage)
আজকের দিনে দাঁড়িয়েও বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং ভিন্ন এক আকারে তা সমাজে আবার মাথা তুলছে। আইন, প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও প্রচার সত্ত্বেও নাবালিকা মেয়েদের বিয়ের ঘটনা বেড়ে চলেছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এবার শুধু পরিবারের চাপ নয়, প্রেম-সম্পর্কও অনেক ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
প্রেম নাকি ভবিষ্যৎ? (Child Marriage)
রাজ্যের শিশু সুরক্ষা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ বাল্যবিবাহ প্রেমের সূত্রে ঘটছে, বাকিটা পরিবার থেকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রেমিকার হাত ধরে পালিয়ে সংসার পাতছে কিশোরীরা। এর পরিণাম ভয়াবহ অকাল মাতৃত্ব, শিক্ষাজীবনের ইতি, এবং একটি অসম্পূর্ণ ভবিষ্যৎ। কমিশনের উপদেষ্টা অনন্যা চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়েছেন এটি সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর সংকেত। নাবালিকা প্রসূতির সংখ্যা বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশের জন্য বড় হুমকি।
শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব? (Child Marriage)
প্রশাসন শুধুমাত্র প্রচারে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। স্কুলভিত্তিক সচেতনতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ কিশোর-কিশোরীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল শিক্ষাজীবন। যদি স্কুল থেকেই বাল্যবিবাহ বিরোধী সচেতনতা গড়ে ওঠে, তবে সমাজের ভিত আরও মজবুত হবে।
বালিকা বধূ ও অকাল মাতৃত্ব (Child Marriage)
বিশেষ করে বীরভূম জেলায় প্রশাসন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন খবর পায় দেরিতে, তখন আর কিছু করার থাকে না। পরিসংখ্যান বলছে, বাল্যবিবাহের পাশাপাশি নাবালিকা মায়ের সংখ্যাও বাড়ছে। এর ফলে মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনই শিশু মৃত্যুর হারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: 18 September Horoscope: সূর্যের কন্যা রাশিতে গোচর, মুখোমুখি শনি-সূর্য, জানুন কার ভাগ্যে কী আছে লেখা?
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
প্রশাসনের তরফে বারবার সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হলেও বড় সাফল্য আসেনি। শিশু সুরক্ষা কমিশনের পক্ষ থেকেও থানাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন অভিযোগ পাওয়া মাত্র তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করা হয়। কিন্তু শুধু প্রশাসন নয়, সমাজকেও এখানে বড় ভূমিকা নিতে হবে।



