Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্রতা। এই আবহে দিল্লিতে বসে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য(Samik Bhattacharya) স্পষ্ট আশ্বাস দিলেন—ভোটার তালিকা থেকে কোনও হিন্দুর নাম বাদ যাবে না। মূলত মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্দেশেই এই বার্তা দেন তিনি। শমীকের কথায়, “যাঁরা সব খুঁইয়ে এদেশে এসেছেন, এই মাটিতে তাঁদের অধিকার আমাদের মতোই।”
নো ম্যাপিং তালিকায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার(SIR)
এসআইআর(SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করে আসছেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের কাউকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র বনগাঁ মহকুমাতেই প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার মানুষ ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় রয়েছেন। এই তালিকায় নাম থাকা মানেই তাঁদের ভোটার পরিচয় নিয়ে অনিশ্চয়তা।
‘নো ম্যাপিং’-এ মতুয়াদের সংখ্যাই বেশি?(SIR)
এই ইস্যুতে খোদ বিজেপির গাইঘাটার বিধায়ক তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুরই দাবি করেছেন, ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় থাকা মানুষের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই মতুয়া সম্প্রদায়ের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। অনেকেই প্রকাশ্যে বিজেপির উপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, কেউ কেউ দলকে বিশ্বাসঘাতক বলতেও পিছপা হচ্ছেন না।
দিল্লিতে শমীকের আশ্বাস
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কোনও হিন্দুর নাম বাদ যাবে না।” একই সঙ্গে তিনি মতুয়াদের উদ্দেশে সিএএ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “মতুয়াদের সিএএ-তে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। এখনও সময় আছে, ফর্ম ভরুন।” তাঁর এই বক্তব্যে বিজেপি শিবির আশাবাদী হলেও, প্রশ্ন উঠছে—এই আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে?
আরও পড়ুন: Gurugram: গুরগাঁওয়ে টেসলার প্রথম চার্জিং স্টেশন: ভারতে ইভি পরিকাঠামো বিস্তারে বড় পদক্ষেপ মাস্কের
সিএএ-ই শেষ ভরসা?
মতুয়াদের বড় অংশই বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আসেন। তাঁদের অনেকেরই নাম ২০০২ সালের নাগরিক তালিকায় নেই। বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর আগেই আশ্বাস দিয়েছিলেন, সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে বহু মানুষ আবেদন করেও এখনও নাগরিকত্ব পাননি।
শুনানি প্রক্রিয়া ঘিরে আতঙ্ক
এদিকে শুরু হতে চলেছে এসআইআর-এর শুনানি প্রক্রিয়া। সেখানে প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে কী হবে, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বহু মতুয়া পরিবারের। সুব্রত ঠাকুর জানাচ্ছেন, এই মানুষদের বাঁচানোর একমাত্র পথ সিএএ। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে ফাস্ট ট্র্যাকের মাধ্যমে দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছেন।


