Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে দেশটির উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করল আমেরিকা (Civil War In Sudan)। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এক সরকারি বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “আমরা সুদানের সরকারের কাছে বারবার আহ্বান জানিয়েছিলাম যেন রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ২০২৩ সালের গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এই মারণাস্ত্র প্রয়োগ করেছে। তাই আমরা বাধ্য হয়েই নিষেধাজ্ঞা জারি করছি।” এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে আগামী ৬ জুন থেকে। এর ফলে সুদানে আর কোনও মার্কিন পণ্য রপ্তানি করা হবে না, এবং সুদানকে আর কোনও প্রকার আর্থিক ঋণও দেবে না মার্কিন প্রশাসন।
গভীর সংকটে সুদান (Civil War In Sudan)
গৃহযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সংকটে জর্জরিত সুদান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম অস্থির রাষ্ট্র (Civil War In Sudan)। ২০২৩ সাল থেকে দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF)-এর লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে হাজার হাজার মানুষের, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কোটিরও বেশি মানুষ। ২০২3 সালের জানুয়ারিতে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদন জানায়, সুদানের সেনাবাহিনী দারফুর অঞ্চলে RSF-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অন্তত দু’বার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। গোপন সূত্রে জানানো হয়, এসব ক্ষেত্রে সম্ভবত ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহৃত হয়েছিল, যার ফলে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা দেখা দেয়।
নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপট (Civil War In Sudan)
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও আমেরিকা (Donald J. Trump) গৃহযুদ্ধে জড়িত দুই প্রধান পক্ষ — সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল আল ফতা আল বুরহান এবং RSF প্রধান জেনারেল মহম্মদ হামদান ডাগালোর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল (Civil War In Sudan)। ডাগালোর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে, আর বুরহানকে শান্তি আলোচনায় অসহযোগিতার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এ বার শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল আমেরিকা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে সুদানের উপর চাপ আরও বাড়াবে।

আরও পড়ুন: Jyoti Malhotra : দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চষে বেড়িয়েছেন জ্যোতি! জেরা করতে চায় নয় রাজ্যের পুলিশ
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ (Civil War In Sudan)
মানবাধিকার সংগঠনগুলি আমেরিকার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, তারা আরও সক্রিয় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে (Civil War In Sudan)। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মত সংগঠনগুলির দাবি, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দায়ীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করা হোক। আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ দেশ সুদানে গৃহযুদ্ধের ফলে চরম মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। এক দিকে RSF বাহিনীর নৃশংসতা, অন্য দিকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ— দু’পক্ষই আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কাজ করছে বলে উদ্বেগ বাড়ছে। আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞা হয়তো কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু সংকট নিরসনে দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।


