Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রকমারি ইলেকট্রিক বাল্ব, টুনি লাইট এবং এলইডি-র ঝলকানিতে আজ দীপাবলি ও কালীপুজো আরও আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠেছে (Clay Lamp)। শহরের অলিগলি, পুজোমণ্ডপ কিংবা ঘরের বারান্দা সবখানেই এখন বিদ্যুৎচালিত আলোর দাপট। কিন্তু এই আধুনিক আলোর নীচেই অন্ধকার নেমে এসেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির প্রদীপ শিল্পে। এক সময় কালীপুজোর অমাবস্যার রাতে ১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বেলে মাতৃ আরাধনা সম্পূর্ণ করা ছিল এক অনিবার্য আচার। প্রতিটি বাড়ি, প্রতিটি পুজোমণ্ডপ মাটির প্রদীপে আলোয় ভাসত। আজ সেই জায়গা নিয়েছে এলইডি লাইট ও প্লাস্টিক প্রদীপ।

ঐতিহ্য হারাচ্ছে, টান পড়ছে রুজিতে (Clay Lamp)
সূত্রের খবর, হাওড়ার পিলখানার ফকির বাগান লেন ও সেকেন্ড বাই লেন এক সময় এই অঞ্চলই ছিল প্রদীপ তৈরির প্রধান কেন্দ্র। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানকার পরিবারেরা মাটির প্রদীপ বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এখন তাদের অনেকেই পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন। এক প্রদীপ শিল্পী জানালেন, “এক হাজার মাটির প্রদীপ এখন পাইকারি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০০-৬৫০ টাকায়। খরচ বাদ দিলে হাতে কিছুই থাকছে না।” তাঁরই সহকর্মী কথায়, “কয়লা, মাটি সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু প্রদীপের দাম বাড়েনি। তাই ঘরে আলো আসার বদলে আমাদের জীবনে নেমেছে অন্ধকার।”
দামের অসামঞ্জস্য ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট (Clay Lamp)
প্রদীপ তৈরির পেছনে পরিশ্রম বিপুল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং ও ডায়মন্ড হারবার থেকে মাটি আনতে হয়, যার লরি পিছু দাম ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকা। এরপর ছাঁচে মাটি গড়া, শুকানো, পোড়ানো, রং করা সব মিলিয়ে লেগে যায় দিনের পর দিন।
কিন্তু বাজারে তার ন্যায্য দাম পান না কারিগররা। শিল্পীরা যে প্রদীপ ৮০-৯০ পয়সা দরে বিক্রি করেন, খুচরো বাজারে সেটিই বিক্রি হয় ২ থেকে ৩ টাকায়। তাতে পাইকার ও দোকানদারেরা লাভবান হলেও, আসল সৃষ্টিকারীরা থাকেন বঞ্চিত।
পরিবর্তনের হাওয়ায় ঐতিহ্যের ভাঙন (Clay Lamp)
ইতিহাসবিদ করেন, “যাঁরা সত্যিকারের ভক্তি নিয়ে মাতৃ আরাধনা করেন, তাঁরা এখনও মাটির প্রদীপ ব্যবহার করেন। কিন্তু অধিকাংশ বারোয়ারি পুজোয় এখন পিতলের বা ইলেকট্রিক ঝাড় প্রদীপ দেখা যায়। প্লাস্টিক প্রদীপ ব্যবহার করা ধর্মীয় ও পরিবেশগত দিক থেকে ভুল।” কিন্তু সাধারণ মানুষ এই সতর্কবাণীকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। টুনি লাইটের রঙিন ঝলকানি, সহজ ব্যবহারের সুবিধা, এবং কম খরচ সব মিলিয়ে মাটির প্রদীপের জায়গা প্রায় হারিয়ে গেছে।
অতিবৃষ্টি ও উৎপাদন সমস্যা (Clay Lamp)
এবারের অতিবৃষ্টিও প্রদীপ শিল্পীদের সমস্যা বাড়িয়েছে। রোদে প্রদীপ শুকোতে দেরি হচ্ছে, ফলে উৎপাদন কমে গেছে আগের বছরের তুলনায়। হাওড়ার কারিগরদের আশঙ্কা, এর ফলে লাভের অঙ্ক আরও কমবে। সূত্রের খবর, একজন বলেন, “আগে কালীপুজোর সময় এত চাহিদা থাকত যে, মাল জোগান দেওয়া যেত না। এখন মানুষ শৌখিন হয়ে গিয়েছে, ঝামেলা এড়াতে ইলেকট্রিক লাইট কিনছেন।”
আরও পড়ুন: Kali Puja in Fatakeshto: কে ছিলেন সেই ফাটাকেষ্ট, যার পুজো ছাড়া অসম্পূর্ণ কলকাতার কালীপুজো?
ঐতিহ্যের টিকে থাকার লড়াই (Clay Lamp)
বাংলার মাটির প্রদীপ শুধু আলোর উৎস নয় এটি সংস্কৃতির প্রতীক, ঐতিহ্যের ধারক। তবু আধুনিকতার ঢেউয়ে সেটি এখন বিপন্ন। প্রদীপ শিল্পীরা চান, সরকার ও সমাজ এগিয়ে আসুক এই শিল্পকে রক্ষার জন্য। প্রদীপের মৃদু আলো হয়তো এলইডি-র ঝলকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে না, কিন্তু তাতে আছে এক অমূল্য উষ্ণতা যার আলোয় জ্বলে থাকে বাংলার হৃদয় ও ঐতিহ্যের দীপশিখা।



