Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলেজ স্ট্রিট বইপ্রেমীদের প্রাণকেন্দ্র, তারা এই খবর পেয়ে ভীষণ খুশি এবং আনন্দিত, নতুন সকারের ওপর ভরসা দিনের দিনের বৃদ্ধি পাচ্ছে (College Street)। কলকাতার প্রাণ, সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সেকেন্ড-হ্যান্ড বইয়ের বাজার কলেজ স্ট্রিট। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই বইপাড়া শুধু বই কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং চিন্তা, সাহিত্য, রাজনীতি, দর্শন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। সেই ঐতিহ্যকে আরও আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানের এবং পরিবেশবান্ধব রূপ দিতে বড়সড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
আসানসোলের জেলা গ্রন্থাগারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, কলেজ স্ট্রিটকে লন্ডনের বিখ্যাত অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজানো হবে। লক্ষ্য একটাই, ডিজিটাল যুগে নতুন প্রজন্মকে আবার বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনা এবং বইপাড়াকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক গন্তব্যে পরিণত করা।
ডিজিটাল যুগে বইয়ের গুরুত্ব ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল বিনোদনের কারণে বই পড়ার অভ্যাস ক্রমশ কমছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশই দিনের অধিকাংশ সময় মোবাইল স্ক্রিনে কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে পরিবেশের পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন (College Street)
“বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল স্ক্রিনে আটকে গিয়ে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করে মানুষকে আবার লাইব্রেরি ও বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।”এই বক্তব্যের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, শুধু অবকাঠামো নয়, সমাজে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলাও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে কলেজ স্ট্রিট (College Street)
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কলেজ স্ট্রিটের একটি নির্দিষ্ট অংশকে সম্পূর্ণ ‘নো ভেহিকল জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই নতুন রূপরেখার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি হলো, সাধারণ যানবাহনের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নির্দিষ্ট জায়গায় থাকবে সাইকেল স্ট্যান্ড। দর্শনার্থীরা পরিবেশবান্ধব সাইকেলে ঘুরে দেখতে পারবেন গোটা এলাকা।প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য থাকবে ব্যাটারিচালিত বিশেষ কার। ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতে বিশেষ ডিজাইনের ট্রাম চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। রাস্তা ও ফুটপাত হবে পরিচ্ছন্ন, প্রশস্ত এবং পথচারীবান্ধব। বসানো হবে ভিন্টেজ ধাঁচের ল্যাম্পপোস্ট। পর্যাপ্ত বসার বেঞ্চ থাকবে যাতে পাঠক ও পর্যটকেরা আরাম করে সময় কাটাতে পারেন। পুরো এলাকায় থাকবে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই পরিষেবা। বইয়ের দোকানগুলিকে এক অভিন্ন নান্দনিক থিমে সাজানো হবে, যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বইপাড়ার আবহ তৈরি হয়।

বইপাড়া হবে পর্যটনেরও অন্যতম আকর্ষণ (College Street)
কলেজ স্ট্রিট বরাবরই দেশ-বিদেশের সাহিত্যপ্রেমীদের অন্যতম গন্তব্য। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, যানজট, শব্দদূষণ এবং ফুটপাত দখলের কারণে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই ম্লান হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে কলেজ স্ট্রিট। বই ব্যবসায়ীরা উন্নত পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগ পাবেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাহিত্য উৎসব আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিদেশি পর্যটকদের কাছেও এই এলাকা নতুনভাবে পরিচিত হবে। কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে।
বেআইনি দখলমুক্ত করেই উন্নয়নের পথে সরকার
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্য সরকার বেআইনি ফুটপাত দখল এবং অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে। প্রশাসনের মতে, উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নের প্রথম শর্ত হলো জনপরিসরকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা। এই কারণেই কলেজ স্ট্রিটের পুনর্গঠনের আগে অবৈধ দখল সরিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসানসোলেও গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের পাঠচর্চার পরিবেশ
শুধু কলকাতাতেই নয়, একই ধরনের ভাবনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে শিল্পাঞ্চল আসানসোলেও। মন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র আসানসোল দক্ষিণে দামোদর নদীর তীরবর্তী ভূতাবেরিয়া থেকে ছটঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা আধুনিকভাবে সাজানো হবে। সেখানে পরিকল্পনা রয়েছে, শান্ত ও সবুজ পরিবেশ সৃষ্টি করা, নদীর ধারে পাঠচর্চার উপযোগী বসার জায়গা তৈরি, হাঁটার জন্য সুন্দর পথ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন, বইপড়া ও অবসর কাটানোর জন্য উন্মুক্ত পরিসর, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আসানসোলেও এক নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অনন্য মেলবন্ধন (College Street)
কলেজ স্ট্রিটের পরিচয় শুধু বইয়ের বাজার হিসেবে নয়; এটি বাংলা সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে অক্ষুণ্ণ রেখেই আধুনিক নাগরিক সুবিধা যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে যেমন ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অঞ্চলকে সংরক্ষণ করে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, তেমনই কলেজ স্ট্রিটকেও একটি আন্তর্জাতিক মানের সাহিত্য ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : Taratala Compensation: মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
পাঠাভ্যাস ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য
আজকের ডিজিটাল যুগে তথ্য হাতের মুঠোয় এলেও বইয়ের গভীরতা, চিন্তার বিস্তার এবং জ্ঞানের পরিধির কোনও বিকল্প নেই। একটি সুস্থ, সচেতন ও মননশীল সমাজ গঠনের জন্য বইপড়া এখনও সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু কলেজ স্ট্রিটের সৌন্দর্যই বাড়বে না, বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বইয়ের প্রতি আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন অনেকেই।



