Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গাপুজো মানেই শুধু পুজো নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিল্প, সৃজনশীলতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা (Cooch Behar Durga Puja)। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে কোচবিহার নিউটাউন ইউনিটের ৫৮তম দুর্গাপুজোয় বেছে নেওয়া হয়েছে অভিনব থিম ‘বুনন’। টিম নৈবেদ্যের শিল্পভাবনায় তৈরি হচ্ছে এবারের মণ্ডপ। সুতো, কাপড় এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে একসূত্রে গেঁথে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে থিমের মূল বক্তব্য।

সুতোয় বাঁধা মানুষের সম্পর্ক (Cooch Behar Durga Puja)
একটি সাধারণ সুতো কীভাবে একাধিক মানুষ, স্মৃতি ও ঐতিহ্যকে একসঙ্গে বেঁধে রাখতে পারে, সেই ভাবনাই এবারের পুজোর কেন্দ্রে। উদ্যোক্তাদের মতে, মানুষের জীবনে সম্পর্কের বন্ধন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে সুতো ও কাপড়ের কাজও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই বন্ধনের প্রতীক হিসেবেই মণ্ডপসজ্জায় গুরুত্ব পেয়েছে সুতো।
পরিবেশবান্ধব উপকরণে মণ্ডপসজ্জা (Cooch Behar Durga Puja)
এবারের মণ্ডপে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবেশবান্ধব উপকরণকে। সুঁই, সুতো ও কাপড়ের সাহায্যে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের শিল্পকর্ম। প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে এই ধরনের উপাদান ব্যবহার শুধু মণ্ডপকে অন্যরকম করে তুলছে না, একইসঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দিচ্ছে। শিল্পের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার এই প্রয়াস পুজোর ভাবনাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
ফিরে দেখা পুরনো দিনের গল্প (Cooch Behar Durga Puja)
মণ্ডপের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে অ্যাম্বাসাডর গাড়ি ও রিকশার আদলে তৈরি শিল্পকর্ম। সুতো ও কাপড়ের কাজের মাধ্যমে এই পরিচিত যানগুলির অবয়ব তুলে ধরা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে শুধু নান্দনিকতা নয়, ফিরে দেখা হচ্ছে একটা সময়কে। যে সময়ের সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, পেশা ও সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক ছিল, সেই স্মৃতিকেই শিল্পের ভাষায় নতুন করে দর্শকের সামনে হাজির করার চেষ্টা চলছে।
হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে নতুন প্রজন্মের সামনে (Cooch Behar Durga Puja)
সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের জীবনযাত্রাও। প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের ফলে একসময় যে সমস্ত হস্তশিল্প ও পেশা মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, তার অনেকগুলিই আজ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে সেই শিল্প ও পেশাগুলিকে ফের পরিচিত করিয়ে দেওয়াই এই থিমের অন্যতম উদ্দেশ্য। মণ্ডপের প্রতিটি শিল্পকর্ম যেন সেই হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
পুজোর আনন্দের সঙ্গে থাকছে সামাজিক বার্তাও
কোচবিহার নিউটাউন ইউনিটের ‘বুনন’ তাই নিছক একটি পুজোর থিম নয়। সুতো ও কাপড়ের কাজের মাধ্যমে মানুষের সম্পর্ক, মাটির সঙ্গে যোগ, পুরনো দিনের স্মৃতি এবং বাংলার হারিয়ে যাওয়া শিল্পকলাকে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা এই উদ্যোগে। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি অতীতকে মনে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ঐতিহ্যকে পৌঁছে দেওয়ার বার্তাও দিচ্ছে এই পুজো। ফলে দর্শকদের কাছে ‘বুনন’ হয়ে উঠতে পারে শিল্প, স্মৃতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অভিনব মেলবন্ধন।



