Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফুটবল প্রেমীদের বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভেসে আসছে এক চরম সত্য। সবুজ গালিচায় যাঁর জাদুকরি পায়ে মজেছিল গোটা পৃথিবী, সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) এবার ইতি টানতে চলেছেন তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের। আগামী বিশ্বকাপে তো তাঁকে দেখা যাবে না আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আন্তর্জাতিক বা ক্লাব ফুটবল থেকে কবে চিরতরে বিদায় নেবেন তা এতদিন অজানা ছিল। অবশেষে এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে পর্তুগিজ মহাতারকা নিজেই ভাঙলেন নীরবতা। ৪১ বছর বয়সে এসে তিনি মেনে নিলেন, চলতি মরশুমটিই সম্ভবত তাঁর পেশাদার ফুটবলের শেষ মরশুম। এই খবরটি যেন কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে গভীর শূন্যতা আর বিষাদের কালো মেঘ ডেকে এনেছে।
হাজার গোলের স্বপ্ন (Cristiano Ronaldo)
বয়স কেবল একটা সংখ্যা মাত্র—এই প্রবাদকে সত্যি প্রমাণ করে এখনও তাঁর ফিটনেস আর জয়ের খিদে অপরিসীম। তবে অবসরের এই ক্ষণেও নিজের মনের গভীরে একটি শেষ বড় স্বপ্ন পুষে রেখেছেন তিনি। পেশাদার ফুটবলে ১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়েই বুটজোড়া চিরকালের মতো তুলে রাখতে চান সিআর সেভেন। বর্তমানে তাঁর গোলসংখ্যা ৯৭৬, অর্থাৎ এই লক্ষে পৌঁছাতে দরকার মাত্র ২৪টি গোল। তবে পরিসংখ্যানের এই সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক বুক জমাট বাঁধা কষ্ট। প্রিয় তারকার এই মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার ভাবনা ভক্তকুলের মনকে ভারাক্রান্ত করে তুলছে, যা কোনো সান্ত্বনাতেই ভরাট হওয়ার নয়।
আরও পড়ুন: Man City vs Arsenal: ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে কমিউনিটি শিল্ড চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল
শান্তির খোঁজ (Cristiano Ronaldo)
ফুটবল রূপকথার বাইশ গজ ছেড়ে সাধারণ জীবনে পা রাখার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন তিনি (Cristiano Ronaldo)। ফুটবল না থাকলে যে তাঁর জীবনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে, তা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছেন ত্যাগের বিনিময়ে, যা তাঁকে এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া খ্যাতি। তবে কেরিয়ারের অন্তিম লগ্নে এসে ব্যক্তিগত জীবনে নতুন সূর্য উঠেছে; গত ১১ আগস্ট দীর্ঘদিনের বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। এখন জীবনের বাকি সময়টা পরিবার, আনন্দ, ভ্রমণ আর প্যাডেল খেলার মাঝে কাটিয়ে দিতে চান এই মহাতারকা। মাঠে তাঁর সেই ঐতিহাসিক দৌড় আর জাদুকরি গোলের উদ্যাপন না দেখতে পাওয়ার কষ্ট নিয়েই ফুরিয়ে আসছে এক সোনালী অধ্যায়।



