Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাড় কাঁপানো ঠান্ডার দাপটে কার্যত থমকে (Delhi Cold Day) গেছে দিল্লি ও ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়নের জনজীবন। কনকনে উত্তুরে হাওয়া, ঘন কুয়াশা এবং সূর্যের অনুপস্থিতিতে রাজধানী জুড়ে চরম শীতের অনুভূতি। ভোর থেকে সকাল-সবসময়ই ঠান্ডার প্রকোপে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে এসেছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষের এখন একমাত্র ভরসা রুম হিটার ও গরম পোশাক।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে (Delhi Cold Day)
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (Delhi Cold Day) দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.১ ডিগ্রি কম। মৌসম ভবনের মতে, চলতি শীতের মরশুমে এটিই দিল্লির সবচেয়ে ঠান্ডা দিন। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এর আগে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর দিল্লিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই রেকর্ড এবার ভেঙে গেল। শুধু রাত নয়, দিনের বেলাতেও ঠান্ডার দাপট অব্যাহত। ঘন কুয়াশা এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা হিম শীতল বাতাসের কারণে সূর্যের আলো ঠিকমতো মাটিতে পৌঁছাতে পারছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দিনের তাপমাত্রায়। বুধবার দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মাত্র ১৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৩ ডিগ্রি কম। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর একাধিক এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই ‘কোল্ড ডে’ বা শীতল দিনের অবস্থা তৈরি হচ্ছে।
বিপর্যস্ত পরিবহণ ব্যবস্থা (Delhi Cold Day)
ঠান্ডার পাশাপাশি কুয়াশার দাপটেও বিপর্যস্ত পরিবহণ (Delhi Cold Day) ব্যবস্থা। ভোর ও সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় একাধিক ট্রেন ও উড়ানের সূচিতে প্রভাব পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দিল্লি-সহ NCR অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ধীর গতিতে চলছে। ট্রাফিক পুলিশের তরফে চালকদের সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
‘হলুদ সতর্কতা’ জারি
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে আবহাওয়া দপ্তর দিল্লিতে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করেছে। পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তর ভারত জুড়ে এই তীব্র ঠান্ডার দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ঘন কুয়াশা এবং হাড় কাঁপানো শীত থেকে এখনই স্বস্তি পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
একই রকম পরিস্থিতি বজায় থাকবে
দিল্লির পাশাপাশি পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অংশেও একই রকম পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। ওই সব রাজ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ঘোরাফেরা করতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা।
আরও পড়ুন: IPAC ED Raid: তদন্তে বাধার অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা ইডির, পাল্টা অভিযোগে হাইকোর্টে আইপ্যাক
এই অবস্থায় বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজন ছাড়া ভোর বা গভীর রাতে বাইরে না বেরোনো, গরম পোশাক ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত গরম পানীয় গ্রহণের মতো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আপাতত, দিল্লি ও উত্তর ভারতের বাসিন্দাদের ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করেই দিন কাটাতে হচ্ছে।


