Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জনপ্রিয় গায়িকা দেবলীনা নন্দী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এই দাবি সামনে আসতেই উত্তাল হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া (Debolinaa Nandy)। পরিবারের তরফে এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা, প্রশ্ন ও অনুমান ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন অভিনেতা ও ব্লগার সায়ক হাসপাতাল থেকে একটি ভিডিও করে দেবলীনাকে নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় গুজবের ঝড় (Debolinaa Nandy)
ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জলঘোলা শুরু হয়। দেবলীনা ও সায়কের সম্পর্ক নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন, কটাক্ষ এবং ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ছড়াতে থাকে। ধীরে ধীরে সেই আলোচনা ‘বন্ধুত্ব’ ছাড়িয়ে তথাকথিত ‘পরকীয়া’র অভিযোগে গিয়ে দাঁড়ায়। কোনও প্রমাণ ছাড়াই ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে রায় দিতে শুরু করেন বহু নেটিজেন।
সায়কের দাদার কড়া বার্তা (Debolinaa Nandy)
এই পরিস্থিতিতে সায়ক-এর দাদা ফেসবুকে একটি স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “আজকের পর থেকে দেবলীনাকে নিয়ে কোনও কমেন্ট, কোনও বাইট, আপাতত কোনও ভিডিও আমি যেন না দেখি। সোশ্যাল মিডিয়া বৃহৎ খাপ পঞ্চায়েতের জায়গা। এখানে কলতলার ঝগড়া সবার জন্য নয়। যে যা বলার বলুক, আমি এটা নিয়ে তোর দিক থেকে আর একটা কিছু যেন না শুনি। কোনও নেগেটিভ কমেন্টের রিপ্লাই আর না।” এই পোস্টে তিনি কার্যত সোশ্যাল মিডিয়ার বিচারপ্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেন এবং বিষয়টিকে জনসমক্ষে আলোচনার বাইরে রাখার আহ্বান জানান। দাদার এই বক্তব্যে সম্পূর্ণ সহমত প্রকাশ করেন সায়ক নিজেও।

সায়কের আগের বক্তব্য (Debolinaa Nandy)
এর আগে অবশ্য ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে সায়ক নিজেই তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, দেবলীনা তাঁর বন্ধু মাত্র। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যাঁরা রুচিসম্পন্ন, তাঁরা এই সম্পর্কটাকে সেভাবেই দেখবেন।” সায়ক সমাজের একাংশের মানসিকতাকে কটাক্ষ করে বলেন, অনেকের কাছে ‘বন্ধু’ শব্দটার মানে বিকৃত হয়ে গেছে। বন্ধুত্ব মানেই অশালীন সম্পর্ক এই ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।
‘বন্ধুত্ব বনাম চরিত্রহনন’ (Debolinaa Nandy)
সায়ক আরও বলেন, কোনও নারীকে দেখলেই তাঁর মধ্যে ‘ছোকছোকানি’ জাগে না। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, কোনও মহিলা তিনি মাসিমা হোন বা বৌদি কেউই বলতে পারবেন না যে সায়ক কখনও অশালীন বার্তা পাঠিয়েছেন। তাঁর কথায় উঠে আসে সমাজে পুরুষ-নারী বন্ধুত্ব নিয়ে গভীর অবিশ্বাসের চিত্র।
বিয়ের প্রসঙ্গ তুলে যুক্তি (Debolinaa Nandy)
পরকীয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি দেন। তিনি বলেন, যদি তাঁর উদ্দেশ্য দেবলীনাদের সংসার ভাঙা হতো, তবে তা অনেক আগেই করা যেত। দেবলীনাদের বিয়েতে তিনি উপস্থিত ছিলেন, নাচ করেছিলেন এই বিষয়টিকেই তিনি নিজের নির্দোষতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: Sealdah South Division: অফিস টাইমেই অচল হয়ে পড়ছে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা
প্রশ্ন থেকে যায়
এই গোটা ঘটনায় সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি উঠে আসে, তা হল সংকটময় মানসিক অবস্থায় থাকা একজন শিল্পীকে ঘিরে এই ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল কতটা মানবিক? ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে গুজব ছড়ানো, চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি আদৌ দায়িত্বশীল আচরণ?



